Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২২:০৯
ম্যালা বই
ইকবাল খন্দকার
ম্যালা বই
কার্টুন : আসিফুর রহমান, আইডিয়া ও ডায়ালগ : তানভীর

আমার এক বন্ধু ফোন করে বলল, আমাকে কোন রেস্টুরেন্টে খাওয়াবি? আমি বললাম, তোকে কেন রেস্টুরেন্টে খাওয়াব সেটা বলতে হবে। তোর কি জন্মদিন? নাকি বিবাহবার্ষিকী? বন্ধু বলল, আরে না, সে ধরনের কিছু না।

আমাদের সার্কেলের সবার কিন্তু এই বছর বই বের হয়েছে। আমি বললাম, তো কী হয়েছে? বন্ধু বলল, সবার বই বের হলেও একমাত্র আমারই বই বের হয়নি। এই যে আমি বই বের করা থেকে বিরত থাকতে পেরেছি, এই জন্য আমি কি পুরস্কার পেতে পারি না? অবশ্যই পারি। সুতরাং এখনই আমাকে খাওয়াতে হবে। চল। আমি চিন্তা করে দেখলাম, কথা সত্য। আসলেই সে পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য। কারণ, এই জমানায় বই প্রকাশের লোভ থেকে যে নিজেকে দূরে রাখতে পেরেছে, তার মতো মহামানব আর হয় না। এবারের মেলার জমজমাট ভাব দেখে আমার এক ছোট ভাই সিদ্ধান্ত নিল মেলাকেন্দ্রিক একটা বুলেটিন বের করবে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরপর কিছু কাজও এগিয়ে ফেলল। এরপর দেখা দিল মূল সমস্যাটা। সে আমার কাছে এসে বলল, আমি তো মনে করেছিলাম বুলেটিনে তরুণ লেখকদের সাক্ষাৎকার ছাপব। কিন্তু এখন খোঁজ নিয়ে দেখি আশপাশে যত লোকজন আছে, সবার বই বের হয়েছে। এখন কী করি? এখন পর্যন্ত যত লেখকের খোঁজ পেয়েছি, সবার সাক্ষাৎকার ছাপতে গেলে প্রতিদিন আমাকে বিশ পৃষ্ঠার বুলেটিন ছাপতে হবে। এর সমাধান কী? পাশ থেকে একজন বলে উঠল—সমাধান একটাই, গোয়েন্দা লাগিয়ে খুঁজে বের করেন কার কার বই বের হয়নি। যাদের বের হয়নি, তাদের ছবি বড় করে ছেপে নিউজ করেন। আর নিউজের শিরোনাম দেন— ‘বিরল প্রজাতির মানুষ’। আমার এক প্রতিবেশী বললেন, আর পারি না ভাই। সারা বছর আপনার ভাবী হাউকাউ করেছে শপিং মলে যাওয়ার জন্য। আর এখন চাপ দিচ্ছে বইমেলায় নিয়ে যাওয়ার জন্য। আজকাল গরম লাগতে শুরু করেছে। এই অবস্থায় শপিং মলে গেলেই তো ভালো ছিল। যেহেতু এসি আছে। কিন্তু না, সে কোনো যুক্তি মানতে নারাজ। বইমেলায় নাকি তাকে যেতেই হবে। আমি বললাম, খুবই ভালো লক্ষণ। একজন মানুষ শপিং মলে না গিয়ে বইমেলায় যেতে চাচ্ছেন। ভালো না? ভালো তো। প্রতিবেশী বললেন, আপনি যা মনে করছেন, ব্যাপার আসলে তা না। আপনার ভাবী বইয়ের টানে বইমেলায় যেতে চাচ্ছেন না। উনি বইমেলায় যেতে চাচ্ছেন সেলফি তোলার টানে। মেলার ফোয়ারার পাশে দাঁড়িয়ে সেলফি তুললে নাকি সেই রকম সেলফি ওঠে। আমার এক বন্ধুর কালো মুখ দেখে জিজ্ঞেস করলাম কোনো সমস্যা কি না। সে বলল, সমস্যা তো বটেই। ঘরে অশান্তি। আমি বললাম, ঘরে এমন কী সমস্যা হয়েছে যে অশান্তির সৃষ্টি হলো? বন্ধু বলল, বই। আমার নতুন বইয়ের কারণে অশান্তি। আমার নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করার সময় তোর ভাবী মানে আমার বউও ছিল। তো মোড়ক উন্মোচনের সময় নখ দিয়ে চিমটি মেরে মেরে র্যাপিং পেপারের স্কচটেপ খুলতে গিয়ে তার শখের নখটা ভেঙে গেছে। ব্যস, শুরু হয়ে গেছে মারদাঙ্গা ঝগড়াঝাটি। আমার এক বড় ভাই বললেন, সেলফি তুলতে যাক আর ক্যামেরায় মুখ দেখাতে যাক, মানুষ বইমেলায় যাচ্ছে এটাই বড় কথা। পাশ থেকে একজন বলল, আপনি তো ‘বড় কথা’ বললেন। এবার একটা ছোট কথা শোনেন। বইমেলা এমন একটা জায়গা, যেখানে গেলে লাইনে দাঁড়াতে হয়। অতএব বেলাইনে যাওয়ার সুযোগ নেই।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow