Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : সোমবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:০২
আমি ফেসবুক আসক্ত নই
কাসাফাদ্দৌজা নোমান
আমি ফেসবুক আসক্ত নই
bd-pratidin

ফেসবুক কর্তৃপক্ষ আমার আইডি বন্ধ করে আমার কাছে  প্রমাণ চায়— আমি আসল কিনা! পরিচয়পত্র পাঠিয়ে দিলাম। দেখ, এই আইডি কার্ড দেখে যদি আমার চেহারা বুঝতে পারিস তবে আমার নাম বদলে দেব!

এমনভাবে যখন খুশি হচ্ছিলাম তখন মনে পড়ল, আইডি কার্ডেই আমার নামের বানান ভুল।

তবুও পাঠিয়ে দিলাম। আইডি ফেরত নিয়ে কোনো চিন্তাই করছি না। আমি তো আর ফেসবুক আসক্ত না যে ঘুম-খাওয়া সব বাদ দিয়ে দেব? ফেসবুকটা জীবন না। জাস্ট লাইফের একটা পার্ট। এর বেশি কিছু না। সারাটা রাত পড়ে আছে, কী করব ভাবতে ভাবতে একটা বই নিয়ে পড়া শুরু করলাম। পড়তে পড়তে হঠাৎ মনে হলো, এই বইয়ের কথা মানুষকে জানানো দরকার। মোবাইলটা টেনে হাতে নিতেই মনে পড়ল, আমার তো কোনো ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নেই। কিন্তু তাতে হতাশ হইনি। ফেসবুক নিয়ে আমি একদম চিন্তিত নই। ফিরে আসলে আসবে, না আসলে নাই। কত কিছু তো হারিয়ে গেছে, সামান্য ফেসবুক। এর চেয়ে ঘুমানো যাক। অনেক দিন ঘুম হয় না!

দীর্ঘ বর্ণনা পড়ে জানতে পারলাম আইডি ফেরত পেতে হলে আমাকে ভালোই ঝামেলা পোহাতে হবে। প্রথম ধাপ অনুযায়ী আইডি কার্ডের ছবি পাঠালাম। যেটা দেখে তারা শনাক্ত করবে আমি আসল! কীভাবে তারা করবে বুঝতে পারছি না। বেশ কিছুদিন আগে ঘরের ফ্লোরে একটা আইডি কার্ড পড়ে থাকতে দেখে তুলে ছবি দেখে মনে হলো এইটা ছোট ভাইয়ের আইডি কার্ড। ওকে ডেকে বেশ ঝাড়লাম, ‘প্রয়োজনীয় জিনিস যেখানে-সেখানে ফেলে রাখিস। তোদের কিছুতেই কোনো খেয়াল নেই। এই নে তোর আইডি কার্ড’।

ছোট ভাই হাতে নিয়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখে বলল, ভাই এইটা আপনার আইডি কার্ড। পরে নাম দেখে নিশ্চিত হলাম এটা আমারই। নিজেকে যেখানে আমি চিনতে পারছি না সেখানে ফেসবুকওয়ালা কীভাবে আমাকে চিনবে সেটা নিয়ে ব্যাপক চিন্তায় পড়ে গেলাম।

এক অতিসুন্দরী মেয়ের মেসেজে ঘুম ভেঙে গেল। সোজাসুজি কফি খাওয়ার প্রস্তাব। রিপ্লাই দেওয়ার আগে তার আইডিতে গিয়ে ছবি দেখে আসলাম। কফি না শুধু, এই মেয়ের সঙ্গে বিষও খাওয়া যায়। সে যদি বলত, চলেন কাল দুজন বিষ খেতে খেতে মরে যাই!

আমি বলতাম, কাল কেন? আজই, আমি এতক্ষণ  অপেক্ষা করতে পারতাম না। যাকগে কফির প্রস্তাবে রাজি হয়ে গেলাম। তবে ঝামেলা হলো কোথায় যাব সেটা বলেনি। আমি মেসেজ পাঠিয়ে বসে আছি। বার বার গিয়ে চেক করি। রাত বাড়ছে। অথচ মেসেজ এখনো সিনও করেনি। কখন সিন করবে? আরেকটা মেসেজ লেখা শুরু করার জন্য ম্যাসেঞ্জারে ঢুকতে যাব তখনই নোটিফিকেশন দিল, আমার ফেসবুক ডিজেবল করা হয়েছে। আমি যাতে সিস্টেমটা মেনে চলি। ঘুমটা ভেঙে গেল, এতক্ষণ স্বপ্ন দেখছিলাম, স্বপ্নেও কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দেয়। সেই রাতে প্রচণ্ড ছটফট করলেও ফেসবুকের ব্যাপারটা নিয়ে বেশি চিন্তা করলাম না। আমি তো আর ফেসবুক আসক্ত নই!

পরদিন দুপুরে বন্ধুর সঙ্গে দেখা। বন্ধু বলল, দেখ দোস্ত টেনশন করিস না। ফেসবুক ফেরত পাবি।

আমি হো হো করে হেসে বললাম, আরে ব্যাটা কিসের টেনশন। আমি যে ফেসবুক ইউজ করতাম ওইটাই ভুলে গেছি।

: তাহলে তো ভালো। চল চা খাই।

দুই বন্ধু চা খাচ্ছি। অনেক পুরাতন কথা উঠে আসছে। ভেবে আবার মন খারাপ হয়ে গেল। আজ যদি ফেসবুক থাকত দুজনের একটা সেলফি আপলোড দিয়ে একটু নস্টালজিক কথাবার্তা লেখা যেত। বন্ধু জিজ্ঞেস করল, তোর মুড অফ নাকি?

আমি বিব্রত হয়ে বললাম, আরে না মুড অফ হবে কেন। একদম মুড অফ না। ফেসবুক হারানো এমন কী বিষয়!

: দোস্ত তোরে তো আমি ফেসবুকের কথা কিছু জিগাই নাই!

ইতিমধ্যে আমার কথা সবাই ভুলে গেল। উপলব্ধি করলাম, চোখের আড়াল মানে মনের আড়াল কথাটা ভুল। আসলে হবে ফেসবুকের আড়াল মানে চোখের মনের সবকিছুর আড়াল। দিন পনেরো কেটে যাওয়ার পর ছোট ভাইয়েরা দাবি করল, এইটা আমার অতীত কোনো পাপের ফল। এই পাপ কাটাতে হলে তাদের খাওয়াতে হবে। রাজি হলাম না।  এক বন্ধু বুদ্ধি দিল, পার্টি দে। তার এক বন্ধুর ফেসবুক আইডি ডিজেবল হয়ে গিয়েছিল। পার্টি দিয়ে নাকি ফেরত পেয়েছে। তাতেও রাজি হলাম না। ছোট ভাইদের আরেকটা দল এসে বলল, ভাই বুদ্ধি পাইছি!

এদিকে আমার মন বিষণ্ন থেকে বিষণ্ন হচ্ছে। এক ছোট ভাই এসেছে আমাকে দেখতে। আমি বিছানায় শোয়া। সে আমার পাশে বসে ফেসবুক নিয়ে এটা সেটা জানতে চাচ্ছে।

 : ভাই! আপনার লিস্টে ফ্রেন্ড কতজন?

: পাঁচ হাজার।

: এর মধ্যে তিন হাজার মেয়ে হবে না ভাই?

: ধুর! আমি তেমন নাকি। এত মেয়ে আমার লিস্টে নাই।

: তাহলে কতজন? দুই হাজার আটশ-নয়শ?

: এমন হবে!

ছোট ভাই হাহাকার করে উঠল, ভাই আপনার জন্য বুকের ভিতর থেকে কান্না আসছে। ভাবতেই খারাপ লাগতেছে, এতগুলা মেয়েকে একসঙ্গে দেখতে হইলে এখন আপনাকে কোনো গার্লস কলেজের সামনে দাঁড়াতে হবে!

: তুই এখনই বের হয়ে যা। এখনই।

সে কথা না বলে বের হয়ে গেল। আমিও কিছু বললাম না। এতগুলা মেয়ের জন্য আসলেই খারাপ লাগছে। কতজনের বিয়ে হয়েছে আর কতজনের প্রেম হয়েছে কে জানে। ফিরে গিয়ে দেখব কেউ সিঙ্গেল নেই। অথবা কখনো তাদেরকে আর দেখা হবে না! তবে এইটা নিয়ে আমি অত ভাবছি না। কারণ আমি ফেসবুক আসক্ত নই!

এই পাতার আরো খবর
up-arrow