Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:০৬

বইমেলায় সেলিব্রেটি

ইকবাল খন্দকার

বইমেলায় সেলিব্রেটি
আইডিয়া ও ডায়ালগ : তানভীর আহমেদ

আমার এক ছোটভাইয়ের সঙ্গে রাস্তায় দেখা। তার হাবভাব দেখে মনে হলো প্রচন্ড ব্যস্ত। জিজ্ঞাসা করলাম কিসের এত ব্যস্ততা। ছোটভাই বলল, বিকালের মধ্যে গোটাপঞ্চাশেক ছেলেপুলে জোগাড় করতে হবে। আমি বললাম, গোটাপঞ্চাশেক ছেলে দিয়ে কী করবি? আগে তো শুনতাম ছেলেপুলে ভাড়া করে নাকি মিটিং মিছিলে নিয়ে যাওয়া হয়। তুইও এই ধরনের কিছু একটা করবি নাকি? ছোটভাই বলল,  আমার আসলে একটা বই বের হয়েছে। আজকেই স্টলে এসেছে। আমি প্রকাশককে বলেছিলাম, বই স্টলে আসার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় লেগে যাবে। এক ঘণ্টায় দেড়-দুইশ কপি বিক্রি হয়ে যাবে। আমি গোপন সূত্রে খবর পেয়েছি এখন পর্যন্ত কেউ একটা বই ছুঁয়েও দেখেনি। এদিকে প্রকাশক বার বার আমাকে ফোন দিচ্ছে। অনুমান করতে পারছি, ফোন দিচ্ছে ঝাড়ি দেওয়ার জন্য। কেন চাপা মেরেছিলাম, এই হচ্ছে অপরাধ। আমি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য গোটাপঞ্চাশেক ছেলেপুলে ভাড়া করতে চাই। তারা স্টলে গিয়ে কৃত্রিম ভিড়ের সৃষ্টি করবে। আর আমার বই কিনবে। চিন্তার কোনো কারণ নেই, স্টলে পাঠানোর আগে আমি নিজের পকেট থেকে প্রত্যেককে বই কেনার টাকা দিয়ে দেব। ঘটনাটাকে নিতান্ত গল্প বলে উড়িয়ে দেবেন না। কারণ, এখন সবাই লেখক। আর সবাই লেখক বলে পাঠকের সংখ্যা কমে গেছে। আর পাঠক কমে গেলে তো লোকজন ভাড়া করতেই হবে। অবশ্য আমার এক লেখকবন্ধু লোকজন ভাড়া করার পক্ষে নয়। তার যুক্তিটা একটু ভিন্ন। সে জোর গলায় বলে, এসব করে লেখক হওয়া যাবে না। আর যতবার বলে, ততবারই আমি জিজ্ঞাসা করি, তাহলে কীভাবে লেখক হওয়া যাবে? আমার কথার উত্তর সবসময় না পেলেও হঠাৎ করেই একবার পেয়ে গেলাম। সে বলল, লেখক হতে হলে অবশ্যই ব্যতিক্রম কিছু করতে হবে। যেমন এলাকায় এই মর্মে পোস্টারিং করা যেতে পারে, আমার বই না কিনলে আমি গলায় দড়ি দেব। আর এর জন্য দায়ী থাকবে এলাকাবাসী। ব্যস, এক দিনের পোস্টারেই শত শত বই বিক্রি হয়ে যাবে। আর এতে যে কারও পক্ষে জনপ্রিয় লেখক হয়ে যাওয়া ওয়ান-টুর ব্যাপার মাত্র। আমার এক প্রতিবেশী বললেন, প্রতি বছর মেলায় হাজার হাজার বই বের হয়। এই বছরও নাকি একই অবস্থা। তার মানে লেখকের সংখ্যা শঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলেছে। এই অবস্থা থেকে বাঁচার উপায় কী? আমি বললাম, বাঁচার কোনো উপায় নেই। সবাইকেই মরতে হবে। কারণ, মানুষ মাত্রই মরণশীল। আমার মশকারায় ভদ্রলোক খানিকটা বিরক্ত হয়ে বললেন, সিরিয়াস কথা নিয়ে মজা করবেন না তো! এই যে দেশে লেখকের সংখ্যা বেড়েই চলেছে, এই অবস্থা থেকে অবশ্যই মুক্তি পেতে হবে। কারণ, আজকাল মেলায় যাওয়া যায় না। সবাই শুধু নিজের বই নিয়ে এগিয়ে এসে বলে বইটা কেনার জন্য। কী যন্ত্রণা! আমি বললাম, এই অবস্থা থেকে সত্যি যদি বাঁচতে চান, তাহলে একটা কাজ আপনাকে করতেই হবে। যদি করতে পারেন, তাহলে মানুষ আপনাকে দেখে ভয় পাবে। আপনাকে বই কেনার জন্য জোরাজুরি করবে দূরের কথা, আপনার কাছেই আসার সাহস পাবে না।

ভদ্রলোক এবার গভীর আগ্রহ নিয়ে জানতে চাইলেন, সেই কাজটা কী? আমি বললাম, কাজটা হচ্ছে, একটা বই প্রকাশ করা। বিশ^াস না হয় প্রকাশ করে দেখেন। মেলায় আপনার পরিচিতজনরা আপনার সামনে পড়বে দূরের কথা, যতদিন না ফেব্রুয়ারি শেষ হচ্ছে, ততদিন ফোনও রিসিভ করবে না।


আপনার মন্তব্য