Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ৪ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৩ জুন, ২০১৬ ২২:২১
ড. নীনা আহমেদ
বহুজাতিক আমেরিকায় সফল বাঙালি
বহুজাতিক আমেরিকায় সফল বাঙালি

ড. নীনা আহমেদ। কর্মজীবী মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করে আলোচনায় আসেন।

একজন মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পর নিজের কর্মক্ষেত্রে সাফল্যের দেখা পান। আমেরিকায় বাঙালি কমিউনিটিতে তার সেবা করার মানসিকতা প্রশংসনীয়। একই সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন আমেরিকার মূলধারার রাজনীতিতে। ডেমোক্রেটিক প্রার্থীদের হয়ে কাজ করতে গিয়ে মানুষের বিপুল সমর্থন পান। বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট হিসেবে জয়লাভ করলে তার প্রত্যক্ষ প্রভাব সবার সামনে চলে আসে। এরপর প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাকে এশিয়ান-আমেরিকান উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত করেন। এখান থেকেই আমেরিকার রাজনীতিতে এই বাঙালির সাফল্যের গল্প নতুন মাত্রা লাভ করে।

উচ্চ শিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন বাঙালি ড. এন নীনা আহমেদ। এখন তিনি আপন যোগ্যতায় অনুকরণীয় সফল একজন। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সেরা বিদ্যাপিঠ ‘ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভেনিয়া’ থেকে ১৯৯০ সালে রসায়নে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। তারপর পোস্ট ডক্টরাল ট্রেনিং নেন আরেক বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান থমাস জেফারসন ইউনিভার্সিটিতে প্রখ্যাত কলেগেন এক্সপার্ট ড. ডারউইন প্রকোপের তত্ত্বাবধানে। বিশেষ কৃতিত্বের সঙ্গে পোস্ট ডক্টরাল ট্রেনিংয়ের সময় তিনি বংশানুক্রমে ‘গেটে বাত’ বিস্তারের প্রবণতা উদ্ঘাটনের গবেষণায় অবদান রাখতে সক্ষম হন। পড়াশোনায় একাগ্র ছিলেন। তারপর তিনি ‘মেথডস অব ডিটেকটিং এ জেনেটিক প্রিডিসপজিশন ফর অস্টিয়োআর্থ্রাইটিস’র (‘Methods of detecting a Genetic Predisposition for Osteoarthritis’) অন্যতম একজন প্যাটেন্টধারী হন। আর এভাবেই নিজের জায়গা তৈরি করে নেন। তার কাজের প্রতি নিষ্ঠা আর একাগ্রতায় যোগ হয় সাফল্য। নিজের মেধা আর পরিশ্রমের গুণে ড. নীনা হয়ে ওঠেন সবার অনুপ্রেরণা। ১৯৯২ সালে তিনি ‘বাওয়ার রিসার্চ ফেলো’ হিসেবে যোগ দেন উইলস চক্ষু হাসপাতালে। ২০০৫ সাল নাগাদ এ গবেষণায় তিনি বিশেষ পারদর্শী প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে জেফারসন মেডিকেল কলেজে অপথামলজি ডিপার্টমেন্টে সহকারী অধ্যাপকে উন্নীত হন। একই সঙ্গে তিনি এই মেডিকেল কলেজের মলেক্যুলার বায়োলজি ডিপার্টমেন্টের পরিচালক পদেও অধিষ্ঠিত হন। জেফারসন হাসপাতালের পাশাপাশি উইলস চক্ষু হাসপাতালে ফ্যাকাল্টি হিসেবে কর্মরত অবস্থায়ই তিনি একটি কোম্পানি (জেএনএ ক্যাপিটল ইনক) চালু করেন। এর মাধ্যমে শহরের আশপাশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ব্যবসা-বিনিয়োগে পরামর্শ প্রদানের ক্ষেত্র প্রসারিত হয়। সফল চিকিৎসাবিজ্ঞানী হয়েও ড. নীনা নিজেকে জনসেবায় উৎসর্গ করেন। এটাতেই তার আনন্দ। মেধাবী নীনা আহমেদ পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়া সিটির অধিকারবঞ্চিত মানুষের নির্ভরতার প্রতীক হয়ে ওঠেন। নগর প্রশাসনের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেন এলাকার অল্পশিক্ষিত অথবা ইংরেজি না জানা মানুষদের। চিকিৎসা সেবাসহ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ধরনের ব্যবসায় পুঁজি বৃদ্ধির ব্যাপারেও পরামর্শ প্রদান করেন।

ড. নীনার সেবামূলক কর্মকাণ্ড প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় ২০০৯ সালে। সে সময় ফিলাডেলফিয়া সিটির মেয়র ন্যুটের তাকে মেয়রের ‘কমিশন অন এশিয়ান আমেরিকান এফেয়ার্স’-এর চেয়ারপারসন নিয়োগ করেন। এ নিয়োগ তার কাজের স্বীকৃতি দেয়। আরও উৎসাহিত হয়ে তিনি জনসেবায় নেমে পড়েন। এলাকা কিংবা আঞ্চলিক পর্যায়ের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পাশাপাশি মূলধারার রাজনীতিতে নিজেকে জোরালোভাবে সম্পৃক্ত করেন। ইউএস সিনেট এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থীদের জন্য সার্বক্ষণিক কর্মীতে পরিণত হন ড. নীনা। বিশেষ করে বারাক ওবামাকে জয়ী করার ক্ষেত্রে তৃণমূলে ড. নীনার ভূমিকা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। কর্মজীবী মানুষের সঙ্গে সম্প্রীতির বন্ধন এতই প্রবল যে, এক পর্যায়ে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাকে এশিয়ান-আমেরিকান উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত করেছেন। ২০১৪ সাল থেকে ড. নীনা এ দায়িত্বে সমগ্র আমেরিকায় এশিয়ান-আমেরিকানদের অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্নে আপসহীন ভূমিকায় রয়েছেন। এরই মধ্যে গত বছর ফিলাডেলফিয়া সিটির ডেপুটি মেয়র (পাবলিক এঙ্গেজমেন্ট) হিসেবেও নিয়োগ করা হয়েছে ড. নীনাকে। তার এ পেশার ক্ষেত্র শুধু এশিয়ান-আমেরিকানদের গণ্ডিতে আবদ্ধ নেই, বিস্তৃত হয়েছে অন্য সব অভিবাসী সমাজেও। আফ্রিকান, মেক্সিকান, স্প্যানিশরাও অকৃত্রিম বন্ধুত্বে পরিণত হয়েছেন এই বাঙালি কন্যার। ফরিদপুরের সন্তান ড. নীনার স্বামী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আহসান নসরতুল্লাহ। তিনিও ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভেনিয়া থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েছেন। ড. নীনা এবং তার স্বামী প্রতিষ্ঠিত ফিলাডেলফিয়াভিত্তিক ‘জেএনএ ক্যাপিটল ইনক’র প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান নির্বাহীর দায়িত্বে রয়েছেন নসরতুল্লাহ। রিয়েল এস্টেট সেক্টরে ব্যবসা-বিনিয়োগে গবেষণামূলক পরামর্শ ও ঋণ সহায়তা প্রদান করছে এই প্রতিষ্ঠান ১৯৯৪ সাল থেকে। ড. নীনার সব সেবামূলক কাজে উৎসাহ দেন নসরতুল্লাহ। দুই কন্যা সন্তানের সংসার ড. নীনার। তিনি বাস করেন ফিলাডেলফিয়া সিটির মাউন্ট এয়ারিতে। হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসীদের নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করতে সেতুবন্ধনে কাজ করছেন ড. নীনা।

প্রবাসীদের প্রায় প্রতিটি অনুষ্ঠানেই ড. নীনার স্বভাবসূলভ পরামর্শ, ‘যুক্তরাষ্ট্রে সুযোগ-সুবিধার অভাব নেই। সততা, নিষ্ঠা আর একাগ্রচিত্তে কাজ করলে সাফল্য আসবেই। বাঙালির মেধা অত্যন্ত প্রখর। তাকে কাজে লাগিয়ে আমেরিকান স্বপ্ন পূরণের ক্ষেত্র প্রসারিত করতে হবে। আর এ জন্য দরকার মূলধারার রাজনীতির সঙ্গেও সম্পৃক্ততা। যত বেশি মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন, সেই কমিউনিটির জন্য প্রশাসনিক সুযোগ-সুবিধাও তত বাড়ে। ’ বাঙালি তথা এশিয়ানদের প্রত্যাশা আরও বেশি ড. নীনার কাছে। মূলধারার রাজনীতিতে তাকে আরও উঁচুতে দেখতে আগ্রহী সবাই। বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী হিলারি ক্লিনটনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে ড. নীনার মাধ্যমে বাঙালিরাও স্বপ্ন পূরণের পথ অতিক্রমে আরও সহায়তা কামনা করছে।

— নিউইয়র্ক থেকে এনআরবি নিউজ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত
এই পাতার আরো খবর
up-arrow