Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১৮ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৮ জুন, ২০১৬ ০০:৩২
গিনেস রেকর্ডস
গিনেস রেকর্ডস

পৃথিবীর সবচেয়ে অদ্ভুত এবং আলোচিত বিষয়গুলোর গুদামঘর বলা যায় গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডকে। এটি মূলত একটি বার্ষিক প্রকাশনা। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিশ্বরেকর্ড নথিভুক্ত করার জন্য প্রতি বছর গিনেস কর্তৃপক্ষের কাছে প্রায় ৫০ হাজার আবেদন আসে। গড়ে সেখান থেকে মনোনয়ন পায় ৬ হাজারটি। গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের অফিশিয়াল সাইট ঘেঁটে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন— মাহবুবুল আলম

 

 

সোয়া মাইল দীর্ঘ পিজ্জা

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পিজ্জা তৈরি করে গিনেস বুকে নাম লেখিয়েছে ইতালি। দেশটির নেপলে ২৫০ জন বাবুর্চি ১ হাজার ৮৫৩ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি পিজ্জা তৈরি করেছেন, যা এযাবত্কালের সবচেয়ে বড় পিজ্জা। ১.১৫ মাইল দৈর্ঘ্যের কার্পেটের মতো বিশালাকারের এ পিজ্জা তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে ২ হাজার কেজি আটা, এক হাজার ৬০০ কেজি টমেটো, ২ হাজার কেজি দুগ্ধজাত খাবার, ২০০ লিটার অলিভ অয়েল। বিশেষভাবে তৈরি পাঁচটি বড় চুলায় পিজ্জাটি তৈরি করতে সময় লাগে ১১ ঘণ্টা। রেকর্ডের জন্য পিজ্জা তৈরির এ উদ্যোগ নিয়েছে নেপলের পিজ্জা ভিলেজের ওরমাটা কোম্পানি। সবচেয়ে বড় পিজ্জা তৈরির পর এর কিছু অংশ উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। বাকি অংশ বিতরণ করা হয় স্থানীয়দের মধ্যে। এর আগের রেকর্ডটিও ছিল ইতালির। ২০১৫ সালের ২০ জুন দেশটির মিলানে তৈরি এক হাজার ৫৯৫ মিটার দীর্ঘ পিজ্জাটি এতদিন বিশ্বের সবচেয়ে বড় পিজ্জা ছিল।

 

বৃহত্তম ডিএনএ হেলিক্স

বুলগেরিয়ার সমুদ্র তীরবর্তী শহর ভারনা। আর এ শহরেই ভারনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বড় মানব ডিএনএ হেলিক্স তৈরি করে গিনেস বুকে নাম লিখিয়েছেন। গত ২৩ এপ্রিল ভারনার দক্ষিণ সমুদ্র তীরে বিভিন্ন গঠন, টুপি ও রঙিন পোশাকের ৪ হাজার শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে এ জটিল নকশাটা তৈরি করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুদৃঢ় সম্পর্ক তৈরি করতে বিশ্ববিদ্যালয়টি এক ধরনের মজার ছলে এটি তৈরি করেন। তবে এটি বেশিক্ষণ স্থায়ী ছিল না। মাত্র ৫ মিনিটের মধ্যেই ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন শিক্ষার্থীরা। গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের বিচারক জ্যাক ব্রকব্যাঙ্ক উপস্থিত থেকে পুরো দৃশ্যটি অবলোকন করেন। এর আগের রেকর্ডটি ছিল তুরস্কের হেসেটেপি বিশ্ববিদ্যালয়ের। বছর তিনেক আগে ৩ হাজার ৩৪ জনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয়টি রেকর্ড বইয়ে নাম লেখান।

 

৯৬ বছর বয়সে গ্র্যাজুয়েট

মানুষের মন যদি চায়, তাহলে কী না হয়। মনের জোরের কাছে হার মানে যে কোনো বার্ধক্য। আর সেটাই আরও একবার প্রমাণ করে দেখালেন শিগেমি হিরাতা। ৯৬ বছর ২০০ দিন বয়সে গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি নিয়ে পৃথিবীতে বেশি বয়সে গ্র্যাজুয়েশন নেওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় শীর্ষে আছেন এই জাপানিজ। জাপানের বিখ্যাত কিয়োটো ইউনিভার্সিটির আর্টস অ্যান্ড ডিজাইন থেকে ব্যাচেলর অব আর্টস বিভাগে এই ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ইতিমধ্যে এর জন্য গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের সনদও অর্জন করেছেন তিনি। ১৯১৯ সালে হিরোশিমার একটি খামার বাড়িতে জন্ম হিরাতার। নানা সমস্যার কারণে উপযুক্ত বয়সে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করতে পারেননি তিনি। এরপরও নিজের ইচ্ছার কাছে হার মানেননি তিনি। অনেক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ৮৫ বছর বয়সে ২০০৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। আর ১১ বছর পর চলতি বছরের ১৯ মার্চ তিনি গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত
এই পাতার আরো খবর
up-arrow