Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১৮ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৮ জুন, ২০১৬ ০২:২০
সাফল্য
আশরাফুলের ইলেকট্রিক সেন্সর
কমেডিয়ান থেকে রাষ্ট্রপতি
আশরাফুলের ইলেকট্রিক সেন্সর

এবার আরেক বাংলাদেশি সাফল্যগাথা রচনা করলেন যুক্তরাষ্ট্রে। নতুন একটি ‘ইলেকট্রিক সেন্সর’ উদ্ভাবন করা এই বিজ্ঞানী হলেন মুহাম্মদ আশরাফুল আলম। তার সঙ্গে ছিলেন আইদা ইব্রাহিম ও জয় এন গুপ্তা। খাদ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে তাদের এই সেন্সর যুগান্তকারী এক আবিষ্কার। উদ্ভাবিত সেন্সর দিয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যেই জীবিত ও মৃত ব্যাকটেরিয়ার কোষ শনাক্ত করা যাবে। ফলে রোগ নির্ণয় হবে আগের চেয়ে নির্ভুল।

 

বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশিদের সাফল্যগাথা পুরো দেশবাসীকেই আনন্দিত করে। এবার সেই আনন্দের জোয়ার এনেছেন আরেক বাংলাদেশি। সম্পূর্ণ নতুন ধরনের ‘ইলেকট্রিক সেন্সর’ আবিষ্কার করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানী মুহাম্মদ আশরাফুল আলম। তার উদ্ভাবিত ইলেকট্রিক সেন্সর দিয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যেই জীবিত ও মৃত ব্যাকটেরিয়ার কোষ শনাক্ত করা যাবে। এর ফলে আগের চেয়ে নির্ভুলভাবে রোগ নির্ণয় করা যাবে। একই সঙ্গে সব ধরনের খাবারের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে পুরোপুরি।

ব্যাকটেরিয়া কালচার করার জন্য সনাতন পদ্ধতিতে বেশ সময় লাগে। সেটাকেই চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেওয়া হয়েছিল এ গবেষণার আগে। অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার কীভাবে আরও নির্ভুল করা যায় সেটা নিয়ে অনেকেই বহুদিন ধরে কাজ করে আসছিলেন। এ ইলেকট্রিক সেন্সরটি সেই কাজগুলোর একটি ভালো উত্তর হতে যাচ্ছে। শতাধিক ইলেকট্রিক সেন্সর থাকছে একটি ইলেকট্রিকে চিপে। প্রতিটি সেন্সর বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়ার পরিচয় আলাদাভাবে চিহ্নিত করতে সক্ষম হবে। ব্যাকটেরিয়া নির্দিষ্টকরণে এ ধরনের সেন্সরের ওপর ভরসা রাখছেন গবেষকরা। তাদের ভাষায়— একেবারেই সুনির্দিষ্টভাবে ব্যাকটেরিয়াকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হবে তাদের ইলেকট্রিক সেন্সর। এরই মধ্যে এটি প্রমাণিত হয়েছে, ইলেকট্রিক সেন্সর মৃত এবং জীবিত ব্যাকটেরিয়াকে শতভাগ নির্ভুলভাবে চিহ্নিত করে আলাদা করতে পারছে। যে ধরনের ব্যাকটেরিয়াকে গবেষক দল খুঁজতে চাইছেন সেটিকে সুনির্দিষ্টভাবে খুঁজে পাওয়া সত্যি একটি কঠিন কাজ ছিল এতদিন। এরপরের ধাপে কাজ চলছে, ব্যাকটেরিয়ার জীবনকাল কতটুকু রয়েছে সেটি নির্ণয় করা। তাদের এই চিপ সামনের দিনে সেটিও পারবে এমনটাই আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) পড়ালেখা করা আশরাফুল আলম যুক্তরাষ্ট্রের পুরডু ইউনিভার্সিটিতে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে শিক্ষকতায় নিযুক্ত আছেন।

সাধারণত যে কোনো রোগেই ব্যাকটেরিয়ার পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হয়। ল্যাবে  সেই নমুনা পরীক্ষা করতে ব্যয় হয় কয়েক ঘণ্টা। কিন্তু আশরাফুল আলমের আবিষ্কৃত ইলেকট্রিক সেন্সর দিয়ে জীবিত ও মৃত ব্যাকটেরিয়ার কোষের পার্থক্য শনাক্ত করা ছাড়াও মাত্র কয়েক মিনিটে ব্যাকটেরিয়া নির্ণয় করা সম্ভব।

 

ইতিমধ্যে আশরাফুল আলমের এই গবেষণাপত্রটি ‘প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্স’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। ব্যাকটেরিয়ানাশক ওষুধ দেওয়ার আগে ব্যাকটেরিয়ার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। সাধারণত পরীক্ষাগারে ব্যাকটেরিয়ার নমুনা পরীক্ষা করে  দেখতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। ফলে দ্রুতই রোগ ধরা কিংবা রোগীর চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয় না। কিন্তু আইদা ইব্রাহিমি নামের এক পিএইচডি শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে আশরাফুল আলম যে সেন্সরটি বানিয়েছেন, তাতে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে সময় লাগবে কয়েক মিনিট। এ ছাড়া সেন্সরটি নির্ভুলভাবে জীবিত ও মৃত ব্যাকটেরিয়ার কোষের পার্থক্য শনাক্ত করতে পারে। আশরাফুল আলম বিভিন্ন গণমাধ্যমে জানান, কেবল ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করলেই চলবে না, সেই সঙ্গে বুঝতে হবে ব্যাকটেরিয়াগুলোকে মারা যায় কীভাবে। সেদিক থেকে আমাদের গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই বিজ্ঞানী আরও জানান, এখন কোনো ব্যক্তি ব্যাকটেরিয়ায় সংক্রমিত হলে দ্রুতই তার চিকিৎসা শুরু করা যাবে। কার্যকরী ওষুধও দেওয়া যাবে সহজেই।

ব্যাকটেরিয়া চিহ্নিতকরণে এই ইলেকট্রিক সেন্সর এরই মধ্যে সারা বিশ্বে আলোচনায় এসেছে।

 

ব্যাকটেরিয়ানাশক ওষুধ দেওয়ার আগে ব্যাকটেরিয়ার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। সাধারণত পরীক্ষাগারে ব্যাকটেরিয়ার নমুনা পরীক্ষা করে দেখতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। আশরাফুল আলম যে সেন্সরটি বানিয়েছেন, তাতে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে সময় লাগবে কয়েক মিনিট

ইলেকট্রিক সেন্সর-এর কাজ কী?

এটি অন্য দশটি ইলেকট্রিক সেন্সর থেকে কার্যকারিতার দিক থেকে খুব বেশি আলাদা নয়। তবে ব্যাকটেরিয়া কোষ শনাক্তকরণে এটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। আশরাফুল আলমের উদ্ভাবিত ইলেকট্রিক সেন্সর অল্প  সময়ের মধ্যেই জীবিত ও মৃত ব্যাকটেরিয়ার কোষ শনাক্ত করতে পারবে। এ কারণেই এটি নিয়ে এত আলোচনা। যে খাবারগুলো ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে  সহজেই আক্রান্ত হয় বা খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে তখন এই সেন্সর সত্যিকারভাবেই জাদুকরী হয়ে উঠবে।

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত
এই পাতার আরো খবর
up-arrow