Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : শনিবার, ২ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১ জুলাই, ২০১৬ ২২:২৯
তাদেরও ঈদ আছে
ঈদ মানেই তো আনন্দ। আনন্দ উদযাপনে ঈদ উৎসবের তুলনা হয় না। সবাই এই উৎসবে শামিল হন। ভাগাভাগি করে নেন আনন্দ। আনন্দের মাত্রা দ্বিগুণ করার এই সুযোগ কেউ কি ছাড়ে!
তাদেরও ঈদ আছে

এখনো আমরা একে অন্যের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিই

সমরেশ মজুমদার, কথাসাহিত্যিক

ঈদ আমার কাছে বরাবরই আনন্দের। তা ছাড়া কখনো মনে হয়নি এটি ভিন্ন ধর্মালম্বীদের কোনো উৎসব। বিশেষ করে আমার এক ছোট ভাইয়ের জন্য এ দিনটি সত্যি আনন্দময় হয়ে ওঠে। বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বলতে গেলে একটু পেছনে তাকাতে হয়। প্রায় তিন যুগ আগের কথা। আমার এক ছোট ভাই নাম রবীন্দ্র, হিন্দু ব্রাহ্মণ। তার এক বন্ধু ছিল। সে বন্ধুটির নাম ইমতিয়াজ খান। সে একজন মুসলমান। তারা ১০ বছর ধরে একে অন্যের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ইমতিয়াজের বাসা শহরের বাইরে। কিন্তু তার ইচ্ছা ছিল শহরে পড়াশোনা করার। অবশ্য শহরে তার কোনো থাকার জায়গা নেই, নেই আত্মীয়স্বজন। এই সময় এগিয়ে আসে বন্ধু রবীন্দ্র। ইমতিয়াজকে সে নিজের বাসায় থাকতে দেয়। রবীন্দ্রের মা-ও এতে আপত্তি করেনি। তিনিও চাইতেন ইমতিয়াজ তাদের বাসাতেই থাকুক। একই বাসায় থাকার কারণে ভিন্ন ধর্মালম্বী হওয়া সত্ত্বেও রবীন্দ্র ও ইমতিয়াজ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে যোগ দিত। রবীন্দ্রের বাসায় পুজো হতো— ইমতিয়াজ তাকে সহযোগিতা করত। আবার রোজা এলে ইমতিয়াজ যখন রোজা রাখত রবীন্দ্র তখন না খেয়ে থাকত। ইমতিয়াজের সঙ্গে রবীন্দ্রও ঈদ উৎসবে শামিল হতো। তারা দুজনে এখনো ভালো বন্ধু। তারা শহরেই একসঙ্গে ব্যবসা করে, তারা সিকিউরিটি কোম্পানি খুলেছে। বর্তমানে তাদের বয়স ৫৫ বছর। এখনো তারা একে অন্যের ধর্মীয় উৎসবে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়। আমিও সেসব উৎসবে নিমন্ত্রণ পাই। এবার হয়তো ৬ বা ৭ তারিখে ঈদ হতে যাচ্ছে। বরাবরের মতো ইমতিয়াজ আমাকে ঈদে নিমন্ত্রণ করেছে। ঈদ আনন্দে তাই আমিও শামিল হব।

 

উৎসব আনন্দের ভাগিদার কেউ একা নয়

কুমার বিশ্বজিৎ,  সংগীতশিল্পী

ঈদ মানেই আনন্দ। এই আনন্দ উৎসব পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ে। সারা দেশের মানুষ এতে শামিল হয়। এই উৎসব ঘিরে বহু আয়োজন থাকে। আমাদের বাংলা সংস্কৃতিতে অনেক উৎসব আছে। আর ওই উৎসবগুলো পালন করতে অনেক ধর্ম-বর্ণের মানুষ আছে। আনন্দের ভাগিদার কিন্তু কেউ একা নয়।

আমরা সবাই যে কোনো ধর্মের আনন্দের ভাগিদার হতে পারি। আর ঈদ হচ্ছে তেমনি একটি উৎসব। ঈদ এলেই নতুন নতুন গান করতে হয়। বাজারে নতুন নতুন পোশাকের পাশাপাশি আসতে থাকে নতুন নতুন গানে অ্যালবাম। বিভিন্ন টিভিতে ঈদের নানা অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করা। সময় পেলে পরিবারকে নিয়ে একটু ঘুরতে যাওয়া ইত্যাদি। সব মিলিয়ে ঈদকে ঘিরে একটি ভিন্ন ধরনের আমেজ তৈরি আমাদের মাঝে।

 

ঈদকে কখনো আলাদা করে দেখিনি ঈদ মনে হয় আমারই

চয়নিকা চৌধুরী, পরিচালক

আমার মা ছিলেন একজন শিক্ষক। ধর্মটাকে আমরা কোনো দিন ভিন্ন চোখে দেখিনি। আর এ সময়ে এসে ঈদটাকে আমার নিজেরই মনে হয়। কারণ, এখন প্রায় প্রতি রোজার প্রথম ইফতারি আমরা বাসায় করি। আর যখন শুটিংয়ে থাকি তখন শুটিংয়ের সবার সঙ্গে ইফতারি করি। আমার পরিবারের সবাই ঈদে এত বেশি কেনাকাটা করে পূজায় আমাদের তেমন কিছু কিনতে হয় না। এখনো ঈদে আমাদের বাসায় ভালো ভালো রান্না হয়। ঈদে সময় পেলে ঘুরতে যাই। ঈদের নাটকগুলো দেখার চেষ্টা করি। সব মিলিয়ে ঈদকে কখনো আমরা আলাদা করে দেখিনি। সবার মতো করে, আমরাও ঈদের আনন্দকে ভাগ করে দেই সবার মধ্যে। এই আনন্দ শব্দটাই সবার মাঝে ছড়িয়ে দিয়ে আনন্দ পাই। আনন্দের এ মুহূর্ত তাই উপভোগ করি।

 

 

ঈদের আনন্দ দারুণ উপভোগ করি

বিদ্যা সিনহা মিম, অভিনয়শিল্পী

ঈদ উৎসবে মেতে ওঠার জন্য সবার মতো আমিও মুখিয়ে থাকি। কাজের ব্যস্ততা থেকে ছুটি পাওয়া এ দিনটি অনেক আলাদা। সবসময়ই ঈদের আনন্দ করা হয়। আগে অনেক বেশি ঈদের মজা পেতাম, কারণ ঈদের সময় ঈদনাটকে কাজ করা হতো। তাই ঈদের আসল মজাটা পেতাম। ঈদের সময় মেহেদি পরা হয়। সেলামি নেওয়া হয়। ঈদি জোগাড় করাটা আমার ঈদের আনন্দ দ্বিগুণ করে দেয়। সেলামি দিয়ে নতুন ড্রেস কেনা হয়। তবে চলচ্চিত্রে কাজ করার পর নাটকে কাজ করা হয় না। তবে ঈদের আনন্দ এখনো দারুণ উপভোগ করি। এ দিন সময় পেলে বাইরে বেড়ানো হয়। বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে আড্ডা হয় খুব। আর ঘরে মজার মজার খাবার সাবাড় করার আনন্দ তো আছেই। এ ছাড়া ঈদে টিভিতে নতুন কাজ করি। সেগুলো সবাইকে নিয়ে দেখা হয়।

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত
এই পাতার আরো খবর
up-arrow