Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : শনিবার, ১৬ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৫ জুলাই, ২০১৬ ২১:৩৪
অনুপ্রেরণীয়
গলফার সিদ্দিকুর রহমান অলিম্পিকে বাংলাদেশ
মেজবাহ্-উল-হক
গলফার সিদ্দিকুর রহমান অলিম্পিকে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ নামটি গৌরবের। সময়ের পরিক্রমায় এই গৌরবগাথা ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বব্যাপী। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের সাফল্য এখন বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত। ক্রীড়া ক্ষেত্রেও পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ। আমাদের ক্রিকেট এখন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আলোচিত। সে ধারাবাহিকতায় এবার যোগ হলো গলফ। গলফার সিদ্দিকুর প্রথমবারের মতো অলিম্পিকে গলফ খেলে বাংলাদেশের গৌরবের সোনালি পালক যোগ করতে যাচ্ছেন।

 

‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ অলিম্পিক এখনো বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের কাছে অভিজ্ঞতার মঞ্চ! পদক পাওয়া দূরের কথা, পদকের লড়াইয়েই অংশ নিতে পারেননি বাংলাদেশি কোনো ক্রীড়াবিদ। তবে রিও অলিম্পিকটা সম্পূর্ণ আলাদা। ব্রাজিলে এবার পদকের লড়াইয়েই থাকবে বাংলাদেশ।

দেশসেরা গলফার সিদ্দিকুর রহমান এবারের অলিম্পিকে পদকের জন্যই লড়াই করবেন। যদিও প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অলিম্পিকে সরাসরি খেলার সুযোগ পেয়েই গর্বিত তিনি। তবে এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে আরও বড় সাফল্যের কথা ভাবছেন সিদ্দিকুর রহমান।

এবারের আসরে সিদ্দিকুর রহমান ছাড়াও অংশ নেবেন সাঁতারু মাহফিজার রহমান সাগর ও সোনিয়া আকতার টুম্পা, শুটার আবদুল্লাহ হেল বাকী ও তীরন্দাজ শ্যামলী রায়। সিদ্দিকুর ছাড়া বাকিরা সবাই ‘ওয়াইল্ড কার্ড’ পেয়ে অলিম্পিকে অংশ নিচ্ছেন। তাদের নিয়ে আকাশছোঁয়া স্বপ্নও নেই। তবে সিদ্দিকুর আছেন বলেই এবার পদকের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। সিদ্দিকুর রহমানও দেশবাসীর স্বপ্ন পূরণের আশায় কঠোর অনুশীলন করে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেশসেরা গলফার বলেন, ‘আসলে টার্গেট করে গলফে কোনো কিছু অর্জন করা কঠিন। একটা ভালো সুযোগ পেয়েছি, তা কাজে লাগাতে চাই। এখন অলিম্পিককে অনুসরণ করে আমি যদি ভালো অনুশীলন করতে পারি, সুস্থ থাকতে পারি, আশা করছি ওখানে গিয়ে অনেক ভালো করতে পারব। যদি নিজের সেরাটা দিতে পারি, তাহলে একটা সম্মানজনক স্থানে থেকে শেষ করতে পারব। ’

বাংলাদেশ অলিম্পিকে প্রথম অংশগ্রহণ করে ১৯৮৪ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে। দেশের হয়ে পতাকা বহন করেন অ্যাথলেট সাইদুর রহমান ডন। ১০০ মিটার স্প্রিন্টে অংশ নিয়ে হিটেই বাদ পড়ে যান তিনি। ১১.২৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে সাইদুর ৮২তম হয়েছিলেন। এরপর প্রতি আসরেই অলিম্পিকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি ছিল। কিন্তু চূড়ান্ত পর্বে কেউই খেলতে পারেননি। ‘ওয়াইল্ড কার্ড’ নিয়ে খেলার সুযোগ পেলেও হিটেই বাদ। তবে সিদ্দিকুর এবার সরাসরি খেলার সুযোগ পেয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করলেন। দেশসেরা গলফার বলেন, ‘অলিম্পিকে খেলার সুযোগ পেয়ে অনেক ভালো লাগছে। সত্যিই আমি গর্ববোধ করছি। আমাদের দেশে গলফ একটা নতুন ইভেন্ট। পরিচিতি খুব বেশি নয়। বলতে গেলে আমাকে দিয়েই শুরু। আমাদের জাতীয় দল দিয়ে শুরু। গলফের সাফল্য এসেছে হাতে গোনা কয়েক বছরে। অল্প সময়ে আমরা অনেক অর্জন করেছি। অলিম্পিকে খেলার সুযোগ পাওয়াটা আমার জীবনে সবচেয়ে বড় অর্জন। আমাদের দেশের একটা বড় অর্জন। ’

বাংলাদেশে গলফের একমাত্র বিজ্ঞাপন সিদ্দিকুর রহমান। দুটি এশিয়ান ট্যুরের শিরোপা জিতেছেন— ২০১০ সালে ব্রুনাই ওপেনে এবং ২০১৩ সালে হিরো ইন্ডিয়া ওপেন। সম্প্রতি একটুর জন্য মিস হয়ে গেছে ইউরোপিয়ান ওপেনের শিরোপা। মরিশাসে শেষ রাউন্ডের শেষ মুহূর্তে গিয়ে তিনি একটুখানি অমনোযোগিতার কারণে শিরোপা হাতছাড়া করেছেন। তা ছাড়া এশিয়ান ট্যুরের আরও চার-পাঁচটি শিরোপা জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও পারেননি। তার পরও গলফ দুনিয়ায় আজ বাংলাদেশের যে পরিচিতি তা সিদ্দিকুরের হাত ধরেই। এবার অলিম্পিকেও সিদ্দিকুরের কারণে সরাসরি খেলার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ।

চূড়ান্ত পর্বে খেলাটা যেমন গর্বের, আনন্দের, তেমন চাপও কম নয়! বিশেষ করে দেশবাসীর স্বপ্নের পরিধি এখন বেড়ে গেছে। অনেকে এখন পদকের স্বপ্নও দেখতে শুরু করেছেন। তবে ভক্তদের এ প্রত্যাশার চাপ বেশ উপভোগই করছেন সিদ্দিকুর। তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষের এ প্রত্যাশাকে আমি অনুপ্রেরণা হিসেবে নিচ্ছি। তাদের এ প্রত্যাশা আমাকে চাপে ফেলছে না কোনোক্রমেই, বরং এনার্জি দিচ্ছে। আমি যদি প্রস্তুতি যথাযথভাবে নিতে পারি, আশা করছি অনেক ভালো করতে পারব। এজন্য আমি সবার কাছেই দোয়া চাচ্ছি, আমি যেন ভালোভাবে অনুশীলন করতে পারি এবং ভালো করতে পারি। ’

অন্যান্য খেলার মতো গলফেও জানতে হয় অনেক কৌশল। তবে সবচেয়ে বেশি দরকার হয় দৃঢ় মনোবল। মনস্তাত্ত্বিকভাবে অনেক শক্তিশালী হতে হয়। কেননা ক্রিকেট বা ফুটবলের মতো গলফেও স্লেজিং হয়। তবে ধরনটা ভিন্ন। যেমন শেষ রাউন্ডে দেখা যায়, শিরোপা কাছাকাছি থাকা গলফারদের নিয়ে গড়া গ্রুপটি সব শেষে টি-অফ করে। কোনো ‘মিরাকল’ না ঘটলে এই গ্রুপ থেকেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে যায়। আর এই গ্রুপে যারা থাকেন তারা সব সময় চেষ্টা করেন একে অন্যকে কীভাবে মানসিকভাবে চাপে ফেলা যায়।

এ সময় মানসিকভাবে দৃঢ়চেতা না হলে চ্যাম্পিয়ন হওয়া কঠিন হয়ে যায়। যেমন মরিশাসে শেষ মুহূর্তে গিয়ে সব কিছু এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল সিদ্দিকুরের। তবে এমন ভুল আর করতে চান না তিনি। তাই মানসিকভাবে দৃঢ় থাকার জন্য কাজ করছেন। সিদ্দিকুর বলেন, ‘আমি অনুশীলনে সব রকম কাজই করছি। কোনো গ্যাপ রাখছি না। আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। এর পরও খারাপ হলে আমার আফসোস থাকবে না। তবে খারাপটা নিয়ে ভেবে বসে থাকলে তো চলবে না। তাহলে আমি আরও পিছিয়ে পড়ব। যেহেতু অনেক পরিশ্রম করছি, আমার বিশ্বাস, ভালো করতে পারব। ’

দেশের গলফের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদী সিদ্দিকুর, ‘গলফে বাংলাদেশের সম্ভাবনা উজ্জ্বল। এখানে  অনেক ভালো গলফার রয়েছেন। সম্ভাবনাময় গলফার রয়েছেন। দেখা যাবে কোনো একটা টুর্নামেন্টে তারা চ্যাম্পিয়ন হলেই সব বদলে যাবে। আশা করছি তারা ভবিষ্যতে অনেক ভালো করবেন। তবে দরকার একটুখানি দায়িত্ববোধ। ’

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত
এই পাতার আরো খবর
up-arrow