Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : শনিবার, ১৬ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৫ জুলাই, ২০১৬ ২১:৪৮
রানীর বাড়িতে লুঙ্গি-গামছা
অর্জন
রানীর বাড়িতে লুঙ্গি-গামছা

তরুণের পরনে লুঙ্গি, পাঞ্জাবি। গলায় গামছা আর পায়ে স্যান্ডেল। সোজা হেঁটে ঢুকে গেলেন রাজকীয় প্রাসাদে। লন্ডনের বাকিংহাম প্রাসাদে বাংলাদেশি তরুণ গেলেন সম্মানজনক ‘কুইনস ইয়ং লিডার’ পুরস্কার গ্রহণ করতে। পুরস্কার দিলেন স্বয়ং রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ। তরুণটি আর কেউ নয় নরসিংদীর ওসামা বিন নূর।   তিনি ও তার বন্ধুরা সৃষ্টি করেছিলেন ‘ইয়ুথ অপরচুনিটিজ’ নামের ফেসবুক পেজ।   সেই পেজের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী প্রশংসনীয় একটি নেটওয়ার্ক সৃষ্টির জন্য ‘কুইনস ইয়ং লিডার’ জেতেন তিনি। শনিবারের সকাল ইতিপূর্বে তাকে নিয়ে কভার স্টোরি প্রকাশ করেছিল।

 

লন্ডনের বাকিংহাম প্রাসাদ। ব্রিটিশদের আভিজাত্যের এক প্রতিবিম্ব। রানীর রাজকীয় প্রাসাদ এটি। বিশ্ববাসী এ প্রাসাদের মর্যাদা জানে আলাদা করেই। সম্মানজনক ব্যক্তিদের পদচারণা ঘটে এখানে। অনন্য গৌরবগাথা অর্জন— এই প্রাসাদ ঘুরে আসার অপূর্ব সুযোগ তৈরি করে। লন্ডনের বাকিংহাম প্রাসাদে এবার বাংলাদেশি তরুণের সম্মানজনক পদচারণা ঘটল। তবে তাকে দেখা গেল বাংলাদেশি সংস্কৃতির ধারক হিসেবেই। তরুণের পরনের পোশাক ছিল লুঙ্গি আর পাঞ্জাবি। গলায় ঝুলিয়েছেন গামছা। পায়ে সাধারণ স্যান্ডেল। এই তরুণ তো এক টুকরো বাংলাদেশকে ধারণ করে— সেটারই আবেগি উপস্থাপন। অনেকেই হয়তো জানতে চাইবেন, কে এই সৌভাগ্যবান তরুণ, লন্ডনের প্রাসাদে রানী কেনইবা তাকে পুরস্কারে সম্মানিত করলেন? তার নাম ওসামা বিন নূর। তার গ্রামের বাড়ি নরসিংদী জেলার রাইপুরা উপজেলার সিরাজনগর। তবে বড় হয়েছেন ঢাকায়। নূরুল ইসলাম ও আঁখি নূর বেগমের চার সন্তনের মধ্যে ওসামা দ্বিতীয়। এই তরুণ ঢাকার আপডেট ডেন্টাল কলেজের দন্তচিকিৎসা বিষয়ের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। বাবার সঙ্গে মাঝে মাঝে গ্রামে যেতেন। ছোটবেলা থেকে অন্যদের শেখানোর মানসিকতা কাজ করছে তরুণ বয়সে এসেও। সারাবিশ্বের তরুণদের বিভিন্ন তথ্য দেওয়ার লক্ষ্যে চালু করেছিলেন ইয়ুথ অপরচুনিটি পেজ। .ুিড়ঁঃযড়ঢ়.পড়স ওয়েবসাইটটির ভাষা ইংরেজি। কনটেন্টগুলো দেখলে যে কোনো তরুণের চোখ চকচক করবে। সাজানো কনটেন্টগুলো বিভিন্ন দেশের তরুণদের নতুন নতুন সুযোগ এনে দেবে। কমপিটিশন, কনফারেন্স, এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম, ফেলোশিপ, ইন্টার্নশিপ, স্কলারশিপ, ওয়ার্কশপ, গ্র্যান্ট, অ্যাওয়ার্ড সব অপশন রয়েছে এখানে। কোনো দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেওয়া হচ্ছে আন্তর্জাতিক সুবিধাগুলোর পোস্ট নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়। ফলে ওয়েবসাইটি তিন বছরেই পেয়েছে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা। ফেসবুক পেজ এবং ওয়েবসাইট দুই মাধ্যমে সমান সক্রিয় ইয়ুথ অপরচুনিটি। তরুণদের আন্তর্জাতিক সুযোগগুলো এ সাইটে আপডেট দেওয়া হয়। ওয়েবসাইট জনপ্রিয় হওয়ায় তথ্য পাওয়াও অনেক সোজা। পেজের অনেক ফ্যান নতুন সুযোগ সম্পর্কে মেসেজ দেয় বা পেজের টাইমলাইনে লেখে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান তাদেরকে সহযোগী বানিয়ে নেয়। তরুণদের নতুন নতুন সুবিধা সম্পর্কে মেইল করে জানায়। ওয়েবসাইটের পোস্ট অপরচুনিটি অপশনের মাধ্যমেও অনেকে জানায়। এমনকি ফেসবুক কর্তৃপক্ষ মাধ্যমে বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশে বিনামূল্যে প্রবেশের ব্যবস্থা করে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক সাড়া ফেলতে সক্ষম হওয়া এ ওয়েবসাইটের উদ্যোক্তা হিসেবে অর্জন করেন ‘কুইনস ইয়ং লিডার অ্যাওয়ার্ড’। সেই পুরস্কার হাতে তুলতেই লন্ডনের বাকিংহাম প্রাসাদে লুঙ্গি, পাঞ্জাবি আর গামছা পরে গেলেন ওসামা বিন নূর। লন্ডনের রাজকীয় এই প্রাসাদে এক জমকালো অনুষ্ঠানে কমনওয়েলথভুক্ত ৪৫টি দেশ থেকে আসা উদীয়মান ৬০ তরুণ নেতৃত্বের হাতে ‘কুইনস ইয়ং লিডার অ্যাওয়ার্ড’ তুলে দেন রানী। ওসামা একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে রানীর ৯০তম জন্মদিন উপলক্ষে দেওয়া এই পুরস্কার জেতেন। বাংলাদেশি পোশাক পরে প্রাসাদে যাওয়া ওসামা কিন্তু বাংলাদেশি সংস্কৃতি ধারণ করে আনন্দ আর উচ্ছ্বাসের কথাই বলেছেনে দেশি-বিদেশি মিডিয়ায়। বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে বিশ্ববাসীর সামনে আনন্দের সঙ্গেই তুলে ধরেছেন তিনি। পুরস্কার অর্জন যেমন সম্মানের তেমন গৌরবের, বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে সবার সামনে নিয়ে আসা। মিডিয়াতে তিনি বলেছেন বাংলাদেশে অনেক অফিস, মার্কেট কিংবা রেস্তোরাঁয় মানুষকে লুঙ্গি পরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। এমনকি ঢাকার একটি এলাকায় লুঙ্গি নিষিদ্ধ করার চেষ্টা হয়েছে। এক কথায় লুঙ্গি পরা ব্যক্তিকে তাচ্ছিল্যের চোখে দেখা হয়। অথচ লুঙ্গি পরেননি এমন পুরুষ বাংলাদেশে পাওয়া যাবে না।

বাঙালি পরিচয়ের ধারক ঐতিহ্যবাহী এই পোশাকের প্রতি তাচ্ছিল্যপূর্ণ মনোভাব পরিবর্তন করার লক্ষ্যে ওসামা রানীর অনুষ্ঠানে লুঙ্গি পরার সিদ্ধান্ত নেন। অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করতে গিয়ে দুই বার রানীর সঙ্গে হাত মেলানোর সুযোগ হয়েছে তার। তিনি শুরুতে রানীকে এই অ্যাওয়ার্ড দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান। জবাবে রানী জানতে চান, ওসামা কী করেন। নিজের কাজের বিবরণ দিলে রানী বলেন, ‘ভালো কাজগুলো চালিয়ে যাও। তোমাদেরকেই আগামী বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে হবে। শুভকামনা। ’ অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ শেষে আবার রানীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিদায় নেন ওসামা।

বাকিংহাম প্যালেসে অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ ছাড়াও অ্যাওয়ার্ডস বিজয়ীরা লন্ডনে টুইটারের প্রধান কার্যালয়, বিবিসি একাডেমি, ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, কমনওয়েলথ কার্যালয়, অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মশালায় অংশ নেন ওসামা বিন নূর।

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত
এই পাতার আরো খবর
up-arrow