Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:২২
অনুপ্রেরণীয়
রেলের ফ্ল্যাগম্যান থেকে বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী
টমাস আলভা এডিসন
রেলের ফ্ল্যাগম্যান থেকে বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী

বিখ্যাত মানুষগুলো ছেলেবেলা থেকেই পরিশ্রমী হয়ে থাকেন। বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসনও ছিলেন তাদের মধ্যে একজন। একবার স্টাফোর্ড রেল জংশনে রাত্রিবেলায় ট্রেন ছাড়ার সিগন্যাল ম্যানের কাজ পেলেন। রাত জেগে কাজ করতে হতো বলে দিনের বেলায় সামান্য ঘুমিয়ে নিজের সৃষ্টির গবেষণায় মেতে থাকতেন। এ সময় তিনি একটি ঘড়ি তৈরি করলেন, যা কিনা আপনাআপনি নির্দিষ্ট সময়ে সিগন্যাল দিত। এর পরে বোস্টন শহরে কাজ করার সময় দেখলেন, অফিসজুড়ে ইঁদুরের ভীষণ উৎপাত।  তিনি হঠাৎ করে একটি যন্ত্র উদ্ভাবন করলেন, যা সহজেই  ইঁদুর ধ্বংস করতে সক্ষম...

 

টমাস আলভা এডিসন। বিখ্যাত বিজ্ঞানী। বিজ্ঞানের এই আধুনিকায়নের যুগে যিনি বিজ্ঞানের বিপ্লবের সরদার। আবিষ্কার করেছিলেন বৈদ্যুতিক বাতি, কিন্টোগ্রাফ ও ফোনোগ্রাফ। তার বিখ্যাত আবিষ্কারগুলো আজকের জীবনধারায় এনছে আমূল পরিবর্তন। বিখ্যাত এই মানুষটি ছোটবেলা থেকেই বেশ পরিশ্রমী ছিলেন। সারা রাত কাজ করে দিনের বেলায় সামান্য ঘুমিয়ে মেতে থাকতেন নিজের বিখ্যাত আবিষ্কারের গবেষণার নেশায়।

তার বাবা স্যামুয়েল অগডেন এডিসন এবং মা ন্যান্সি ম্যাথিউস এলিয়টের সবচেয়ে ছোট সন্তান। তার বাবা ছিলেন ওলন্দাজ বংশোদ্ভূত। ছেলেবেলায় পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা থাকায় এডিসনের ছেলেবেলা ছিল আনন্দদায়ক। তার যখন সাত বছর বয়স তখন তার বাবা মিশিগানের অন্তর্গত পোর্ট হুরন শহরে স্থানান্তর হন। কারণ, তার বাবা বিদ্রোহে অংশ নিয়েছিলেন। নতুন শহরে এডিসন স্কুলে ভর্তি হলেন। তিনি তীক্ষ মেধার অধিকারী ছিলেন। তবে, স্কুলের গত্বাঁধা পড়াশোনা তার কাছে ভালো লাগত না। পড়াশোনায় অমনোযোগী আর শিক্ষকের বকাঝকায় দিন কাটত তার। একদিন এক শিক্ষককে তিনি পেছন হতে ‘বোকা’ বলেছিলেন। এতে শিক্ষক ভীষণ ক্ষেপে যান। ফলস্বরূপ তিন মাসেই স্কুলজীবনের সমাপ্তি ঘটে এডিসনের। আর কোনো দিন স্কুলে পা মাড়াননি বিখ্যাত এডিসন। শুরু করলেন মায়ের নিকট পড়াশোনা। স্কুলশিক্ষিকা মায়ের প্রভাব অনেক বেশি ছিল এডিসনের ওপর। অল্প বয়সেই জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার কারণে দুই কানেই কম শুনতেন এডিসন। বড় হতে হতে একরকম বধির হয়ে যান তিনি। ছোটবেলায় এটার জন্য নানা সমস্যায় জর্জরিত এডিসন বড় হয়ে আজগুবি সব গল্প বানিয়ে বলতেন। মাত্র ১১ বছর বয়সেই জ্ঞানে-বিজ্ঞানে পণ্ডিত হয়ে ওঠেন তিনি। প্রচুর বই পড়ে ফেলেন এই অল্প

বয়সেই। সেই থেকেই জ্ঞানচর্চায় আগ্রহ দেখা দেয়। এরপর থেকেই সবাইকে সুশিক্ষায় শিক্ষতি হওয়ার পরামর্শ দিতেন তিনি।

১২ বছর বয়সে এডিসন ভাবলেন তিনি যা শিখেছেন,  সেগুলোকে কাজে লাগানো উচিত। বাবা-মায়ের কাছে অনুমতিতে গ্র্যান্ড ট্র্যাংক রেইল রোড লাইনে পত্রিকার হকারের কাজ করেন। এরপর নিজেই ‘গ্র্যান্ড ট্রাংক হেরাল্ড’ নামের ছোট পত্রিকা বের করা শুরু করেন। একদম নতুন তরতাজা খবর থাকায় ট্রেনযাত্রীরা এডিসনের পত্রিকা পড়া শুরু করেন। একদিন একটি ছেলে রেল লাইনের ওপর খেলা করছিল আর এডিসন দেখলেন দূরে একটি ওয়াগন এগিয়ে আসছে। কিন্তু ছেলেটির সেদিকে নজর নেই। এরপর ছেলেটিকে বাঁচানোর জন্য ঝাঁপিয়ে পড়লেন। ছেলেটি স্টেশন মাস্টারের ছেলে। পুরস্কারস্বরূপ স্টেশন মাস্টারের কাছ থেকে টেলিগ্রাফ শিখতে চাইলেন। এর কয়েক মাসের মধ্যেই এডিসন টেলিগ্রাফি রপ্ত করে ফেলেন। একবার স্টাফোর্ড জংশনে রাত্রিবেলায়  ট্রেন ছাড়ার সিগনাল দেওয়ার কাজ  পেলেন। রাত জেগে কাজ করতে হতো এবং দিনের বেলায় সামান্য কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নিজের গবেষণার কাজ করতেন। এ সময় তিনি একটি ঘড়ি তৈরি করলেন, যেটি আপনা থেকেই নির্দিষ্ট সময়ে সিগনাল দিত। এর পরে বোস্টন শহরে কাজ করার সময় দেখলেন, অফিসজুড়ে ভীষণ ইঁদুরের উৎপাত। তিনি হঠাৎ করে একটি যন্ত্র উদ্ভাবন করলেন, যা সহজেই ইঁদুর ধ্বংস করতে সক্ষম। ১৮৬৯ সালে বোস্টনে চাকরিরত অবস্থায় ভোল্ট গণনার যন্ত্র আবিষ্কার করেন। এরপর বোস্টন ছেড়ে চলে এলেন নিউইয়র্কে। সেখানে এক টেলিগ্রাফ অপারেটরের সঙ্গে পরিচয় ঘটে। সেখানে কারখানায় ফোরম্যান হিসেবে চাকরি পেলেন। কিছু দিনের মধ্যেই তিনি নিজের যোগ্যতা বলে ম্যানেজার পদে উন্নীত হলেন। ১৮৭৬ সালে এডিসনের আবিষ্কৃত একটি যন্ত্রকে বলা যায় আধুনিক উল্কিযন্ত্রের পূর্বসূরি। এরপর একের পর এক আবিষ্কার করে গোটা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেন এই বিখ্যাত বিজ্ঞানী। বিভিন্ন স্থানে কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্র তৈরির কাজে হাত দিয়ে নিজেই আবিষ্কার করেন অনেক বস্তু। তিনি শুধু বাল্বের ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছিলেন।  এরপর তিনি তৈরি করলেন নতুন এক ধরনের ডাইনামো, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার জেনারেটর  থেকে শুরু করে ল্যাম্প তৈরি করা প্রভৃতি।

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত
এই পাতার আরো খবর
up-arrow