Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : শনিবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৭ অক্টোবর, ২০১৬ ২১:৪৮
দুই বাংলাদেশির হাতে আগা খান পুরস্কার
স্থাপত্যে সৌন্দর্য জয়
দুই বাংলাদেশির হাতে আগা খান পুরস্কার
তানিয়া তুষ্টি
স্থাপত্যে সৌন্দর্য জয়

সম্মানজনক আগা খান স্থাপত্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন দুই কৃতী বাংলাদেশি। একজন ঢাকার বায়তুর রউফ মসজিদের স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম। অন্যজন গাইবান্ধার ফ্রেন্ডশিপ সেন্টারের স্থপতি কাশেফ মাহবুব চৌধুরী।   আবুধাবিতে এক অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের নাম  ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়া পুরস্কার প্রদানের  ভেন্যু ঘোষণা করেন দেশটির মিউনিসিপাল অ্যাফেয়ার্স ও যোগাযোগ বিভাগের চেয়ারম্যান আওয়াইদা মুর্শেদ আল মারার।

১৯৯৫ সালে মেরিনা তাবাসসুম ও কাশেফ  মাহবুব চৌধুরী বুয়েট থেকে স্থাপত্যবিদ্যায়  লেখাপড়া শেষ করেন। পড়াশোনা শেষ করে দুজন মিলে গড়ে তোলেন আর্কিটেক্ট ফার্ম আরবানা। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের পর তারা ১৯৯৭ সালে বিয়ে করে সংসার শুরু করেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতাস্তম্ভ ও স্বাধীনতা জাদুঘরের নকশাটিও তারা যৌথভাবে করেছেন।

স্থপতি মেরিনা তাবাসসুমের করা ঢাকার বায়তুর রউফ মসজিদের নকশায় রয়েছে সুলতানি স্থাপত্যের অনুপ্রেরণা। ঐতিহ্যকে ধারণ করে এই যুগেও এমন একটি নয়নাভিরাম স্থাপনা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। মসজিদে করা নকশা সুলতানি যুগের কাজের সৌন্দর্য সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেয়।

এদিকে মহাস্থানগড়ের আবহ খুঁজে পাওয়া যাবে স্থপতি কাশেফ মাহবুব চৌধুরীর করা নকশায়। স্থাপত্যটি দেখলে দর্শনার্থীরা ভাবতে পারেন মহাস্থানগড়ের একাংশ হয়তো এখানে নতুনভাবে আবিষ্কার হয়েছে।

বিশ্বের ৩৪৮টি স্থাপত্যকর্ম থেকে জুরিদের বাছাই করা ১৯টি স্থাপনার সংক্ষিপ্ত তালিকায় মেরিনা আর কাশেফের নাম এসেছিল মে মাসে। চূড়ান্ত বিচার শেষে আবুধাবিতে এবারের ছয় বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়।

বিদেশিদের নকশায় গড়া বাংলাদেশের তিনটি স্থাপত্যকর্ম এর আগে ত্রিবার্ষিকে পুরস্কার পেলেও  মেরিনা ও কাশেফ বাংলাদেশি হিসেবে প্রথম।  

মেরিনার নকশায় গড়া বায়তুর রউফ মসজিদে গম্বুজ বা মিনার নেই। আটটি পিলারের ওপর নির্মিত এই মসজিদ। এর ভিতর পর্যাপ্ত আলো হাওয়া খেলার যে ব্যবস্থা তিনি রেখেছেন, তা আগা খান পুরস্কারের জুরি বোর্ডের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

এদিকে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার মদনের পাড়া গ্রামে কাশেফের নকশায় গড়ে তোলা হয়  ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার। স্থাপত্যটি ব্যবহার হচ্ছে একটি এনজিও ট্রেনিং সেন্টার হিসেবে। এটি নির্মাণে ব্যবহার হয়েছে হাতে তৈরি ইট, কাঠ আর পাথর। অনেকগুলো ব্লকে ভাগ করা এ স্থাপনায় সব ছাপিয়ে নজর কাড়ে সবুজের সমারোহ।

এরই মধ্যে আগা খান ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক পুরস্কারজয়ীদের ওয়েবসাইটে নিশ্চিত করেছে, আসছে নভেম্বরে আবুধাবির ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট আল জাহিলি ফোর্টে এবারের বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। পুরস্কার বাবদ তারা পাবেন ১০ লাখ মার্কিন ডলার।

সম্মানজনক আগা খান পুরস্কার

আগা খান অ্যাওয়ার্ড ফর আর্কিটেকচার চতুর্থ আগা খান কর্তৃক ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি স্থাপত্যবিষয়ক সম্মাননা। যেসব স্থাপনা নকশা, সামাজিক আবাসন, সাম্প্রদায়িক উন্নয়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে ইসলামী সমাজের প্রয়োজন এবং আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে নির্মিত হয়েছে, সেসব স্থাপনাকে স্বীকৃতি প্রদানই এ পুরস্কারের লক্ষ্য।

একনজরে আগা খান স্থাপত্য পুরস্কার ২০১৬

>> বায়তুর রউফ মসজিদ; ঢাকা, বাংলাদেশ।

স্থপতি : মেরিনা তাবাসসুুম

>> ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার; গাইবান্ধা, বাংলাদেশ। স্থপতি : কাশেফ মাহবুব  চৌধুরী

 >> হুটং চিলড্রেনস লাইব্রেরি অ্যান্ড আর্ট  সেন্টার; বেইজিং, চীন। স্থপতি : ঝাং কে

>> সুপারকিলেন;  কোপেনহেগেন, ডেনমার্ক। স্থপতি : বার্কে ইঙ্গেলস গ্রুপ

>> তবিয়ত পেডেস্ট্রিয়ান ব্রিজ; তেহরান, ইরান। স্থপতি : লেইলা আরাগিনা, আলিরেজা জোদি

>> ইসাম ফারেস ইনস্টিটিউট; বৈরুত,  লেবানন।

স্থপতি : জাহা হাদিদ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত
এই পাতার আরো খবর
up-arrow