Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৭ অক্টোবর, ২০১৬ ২২:০৫
গিনেস রেকর্ডস
গিনেস রেকর্ডস

পৃথিবীর সবচেয়ে অদ্ভুত এবং আলোচিত বিষয়গুলোর গুদামঘর বলা যায় গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডকে। এটি মূলত একটি বার্ষিক প্রকাশনা। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিশ্ব রেকর্ড নথিভুক্ত করার জন্য প্রতিবছর গিনেস কর্তৃপক্ষের কাছে প্রায় ৫০ হাজার আবেদন আসে। গড়ে সেখান থেকে মনোনয়ন পায় ৬ হাজারটি। গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের অফিশিয়াল সাইট ঘেঁটে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন— মাহবুবুল আলম

 

>> উচ্চতম কাঠের প্যাগোডা

চীনের বিভিন্ন জায়গায় ১০ হাজারেরও বেশি বৌদ্ধ প্যাগোডা আছে। এর মধ্যে দেশটির শানজি প্রদেশের শাক্যমুনি প্যাগোডা নির্মাণশৈলীর দিকে থেকে বিশ্বের সবচেয়ে উচ্চতম।

৬৭.৩১ মিটার উঁচু প্যাগোডাটি নির্মাণের জন্য মোট তিন হাজার ঘন মিটার কোরিয়ান পাইন গাছের কাঠ ব্যবহার করা হয়েছিল, যার ওজন তিন হাজার টন। অষ্টকোনি এই প্যাগোডার বাইরে দেখতে পাঁচতলা মনে হলেও ভিতরে প্রতি তলা আবার দুই ভাগে বিভক্ত। চার মিটার উঁচু মঞ্চের ওপর নির্মিত এই প্যাগোডা আসলে ৯ তলার একটি স্থাপত্য। প্যাগোডার প্রতি তলায় বাতাসের ঘণ্টা আছে। মৃদু বাতাসে এসব ঘণ্টা  থেকে মনোহর আওয়াজ হয়।

১৪০ বছর ধরে নির্মাণের পর ১১৯৬ সালে প্যাগোডার নির্মাণ কাজ শেষ হয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, নির্মাণের পর গত ৯৬০ বছরে  বেশ কয়েকবার ভূমিকম্পের পরও এই প্যাগোডার কোনো ক্ষতি হয়নি। এমনকি চীনের অনেক প্যাগোডা ঝড় বাতাসের দিনে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও চীনের গৃহযুদ্ধের সময় দুই শতাধিক গোলা এবং প্রচণ্ড বজ্রপাতেও অলৌকিকভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে শাক্যমুনি প্যাগোডা।

 

>> মোদির জন্মদিনে গিনেস বুকে তিন রেকর্ড

গত ১৭ সেপ্টেম্বর ছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র  মোদির ৬৬তম জন্মদিন। ওই দিন তার নির্বাচনী এলাকা গুজরাট রাজ্যের নবসারি তিনটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছে। এর মধ্যে এক জায়গায় একসঙ্গে ৯৮৯ জন বিকলাঙ্গ মানুষের প্রদীপ প্রজ্বালন। সাই গারবা গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ওই সমাবেশে প্রত্যেকটি প্রদীপ অন্তত ৩০  সেকেন্ড জ্বলতে দেখা যায়। দ্বিতীয়টি বৃহত্তম হুইলচেয়ার লোগো আঁকা। এতে সাদা, নীল ও কমলা রঙের টুপি ও কম্বলে সুসজ্জিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান এক হাজার মানুষ। এর আগে রেকর্ডটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। ২০১০ সালে ৩৪৬টি হুইলচেয়ার দিয়ে একটি লোগো বানানো হয়েছিল। তৃতীয় রেকর্ডটি হাজার শ্রবণ প্রতিবন্ধীর মধ্যে হেয়ারিং এইড বিতরণ। ওই দিন ৬০০ বধির মানুষের মধ্যে শ্রবণযন্ত্র বিতরণ করা হয়। আগে এই রেকর্ডটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার।

 

>> এক গানে ৯৫৩ শিল্পী

একসঙ্গে ৯৫৩ জন শিল্পী সংগীত পরিবেশন করে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে চীন। দেশটির তিয়ানজিনে ছয় সেক্টরে বিভক্ত বিশাল ব্যান্ড এ রেকর্ড গড়ে। এতে ৩৪৯ জন গায়ক, ১৫৪ জন গিটারবাদক, ১৫১ জন ড্রামবাদক ছিলেন। এ ছাড়া বেস গিটারে ১০১ জন, হারমোনিয়ামে ১০০ জন এবং বায়ুযন্ত্রে ৯৮ জন শিল্পী অংশ নেন। ৯ শতাধিক শিল্পীর অংশগ্রহণের জমকালো ওই অনুষ্ঠানে রক ব্যান্ডের নেতৃত্ব  দেন গীতিকার-গায়ক কুই জিয়ান, যিনি চীনা সংগীতাঙ্গনে ‘ফাদার অব চাইনিজ রক’ নামে পরিচিত। আগের রেকর্ডটি ছিল ফ্রান্সের। ২০১৩ সালের জুন মাসে সেই রেকর্ড গড়তে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন ৫২০ জন শিল্পী। সংখ্যা হিসাবে যা প্রায় চীনের অর্ধেক।

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত
এই পাতার আরো খবর
up-arrow