Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৭ অক্টোবর, ২০১৬ ২২:১৪
বেড়ানো
ডিজনি ওয়ার্ল্ড
ডিজনি ওয়ার্ল্ড

ছেলে-বুড়ো সবার ছেলেবেলা খুঁজে পেতে ১৯৫৫ সালে স্থাপন করা হয়েছিল ডিজনিল্যান্ড। দ্য গ্রেটেস্ট এন্টারটেইনমেন্ট ওয়ার্ল্ড ডিজনির রাস্তায় দেখা হয়ে যাবে মিকি মাউজ কিংবা ডাম্বোর সঙ্গে।

রেসিংকারের থ্রিলার বা ওয়াটার রাইডের মতো এক্সাইটমেন্ট রাইডে মেতে থাকে সব বয়সী মানুষ। রূপকথার রাজ্যের সিনড্রেলা থেকে শুরু করে ডায়নোসরের রাজ্য সবই মিলবে এখানে। জানাচ্ছেন — আবদুল কাদের

 

ছেলে-বুড়োর পছন্দের ফ্যান্টাসি ডিজনি ওয়ার্ল্ড ২৭ হাজার ২৫৮ একর জায়গা জুড়ে তৈরি একটি সুবিশাল থিম পার্ক। পুরো পার্কটিতে মোট চারটি থিম পার্ক, দুটি ওয়াটার পার্ক, চারটি গল্ফ কোর্স, প্রায় ২৭টি থিমেড রিসোর্ট, শপিং ডিসট্রিক্ট, একটি ক্যাম্পিং রিসোর্ট এবং আরও হাজারো বৈচিত্র্যের ফ্যান্টাসি নিয়ে তৈরি। বলা যায় এটি পৃথিবীর সবচেয়ে হ্যাপিয়েস্ট প্লেস। আসলে ডিজনি এমন একটি দুনিয়া তৈরি করেছে যেখানে পা রেখে সব বয়সের মানুষ পৃথিবীর যাবতীয় দুঃখ, কষ্ট ভুলে প্রবেশ করবে এক স্বপ্নের জগতে। ক্লাসিক রাইড, ঝলমলে চরিত্রের উপস্থিতি, অগুনতি প্রদর্শনী সব কিছু সঠিক অনুপাতে মিলেমিশে যে মুচমুচে বিনোদনের আবহ জন্ম দিয়েছে এখানে তার ছোঁয়া। সম্ভবত পৃথিবীর আর কোথাও এমন কোনো থিম নেই। এক কথায় বিনোদনের সবচেয়ে বড় আসর।

 

ডিজনি ওয়ার্ল্ডের টিকিট কাটার জন্য আপনি প্রথমে অনলাইনে ঢুঁ মারতে পারেন। সুন্দর, মনোরম পরিবেশে ম্যাজিক্যাল সময় পার করার জন্য থিম পার্কটি পৃথিবীর সেরা। ডিজনি ওয়ার্ল্ডের জনপ্রিয়তা নিয়ে বলার মতো কিছু নেই। এটি সব বয়সী ছেলে-বুড়োর পছন্দের শীর্ষে। কী নেই এখানে!

 

ডিজনি রিসোর্টে চেক ইন করার সময় সকালের মিষ্টি নরম রোদ্দুরে ‘গুড মর্নিং , গুড আফটারনুন, গুড নাইট’... সব বদলে যায়। স্বাগত জানাবে মিকি মাউজ, ডাম্বোর। ‘ম্যাজিক মর্নিং, ম্যাজিক আফটারনুন, ম্যাজিক নাইট মাতিয়ে রাখে আগত পর্যটকদের। এখানে আসা পর্যটকদের এক মুহূর্তের জন্যও মনে হয় না এটি দূরের কোনো থিম পার্ক।

 

পার্কটিতে আসা পর্যটকরা ঘুরেফিরে আমোদে থাকার পাশাপাশি উপরি পাওয়া হিসেবে পাবেন ওয়াটার পার্কের জলকেলি, ডিজনি ডাউনটাউনে শপিংয়ের আনন্দ আর বোর্ডওয়াকের আলোছায়ার মাধুর্যতা। ম্যাজিক্যাল কিংডমে প্রবেশ করলেই মনে হবে আপনি পৃথিবীর বাইরে কোনো এক কাল্পনিক রাজ্যে চলে এসেছেন। ডিজনি রিসোর্ট হোটেলের রুমেও সর্বত্র ছড়ানো মিকির ডল, ওয়ালপেপার এমনকি রিসোর্টের শাওয়ার সাজানো মিকির কার্টুনে। বেডস্প্রেস, বেডকভার, সোফা সবকিছুতেই মিকির ছড়াছড়ি।

 

ম্যাজিক কিংডমের ছয়টি থিমল্যান্ডই অজস্র রোমান্সে এবং অ্যাডভেঞ্চারে পরিপূর্ণ। প্রতি বছরই কিছু না কিছু নতুন আকর্ষণ থাকে এখানে আসা দর্শনার্থীদের জন্য। আঁকাবাঁকা বাঁকের স্ট্রিট গিয়ে মিলেছে ম্যাজিক্যাল ক্যাসেলে। বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগের মিজোরির মার্সেলিন শহরের আদলে, সেই সময়কার ট্রিপিক্যাল ডেকোরেশন সাজানো মেইন স্ট্রিটের দুই ধারে পসরা সাজিয়ে বসেছেন সেখানকার দোকানিরা। মেইন স্ট্রিটের প্রধান আকর্ষণ তিন ফুট ন্যারো গজ ওয়ার্ল্ড, ডিজনি ওয়ার্ল্ড, রেল রোড, তিন ফুট ন্যারো গজ ট্রামওয়ে; ঘোড়ার টানার স্ট্রিট কার; চারপাশে চলে-ফিরে বেড়ানো নানা ওল্ড ফ্যাশনের গাড়ি। পুরো ডিজনি পার্কটির চারপাশের জগত্টাই কেমন যেন স্বপ্নকে ছাড়িয়ে অবাক করে তোলে চোখের পাতা। ১৮৯ ফুট উঁচু সিন্ডারেল ক্যাসলের সামনেই অবস্থান করছে ডিজনি লেজন্ড ব্রেন গিবসনের তৈরি করা ওয়ার্ল্ড ডিজনি আর মিকি মাউজের পার্টনার স্ট্যাচু। ফ্রন্টিয়ার ল্যান্ড বা আমেরিকার পশ্চিমাঞ্চলে পৌঁছানোর পথে দেখবেন আকাশজুড়ে বেগুনি মেঘের মেলা। দেখলে মনে হবে মেক্সিকান পেটুনিয়ার পার্পল শাওয়ার শুরু হয়ে গেল।

 

ফ্লোরিডার এই অঞ্চলটি ক্রান্তীয় আবহাওয়ার কারণে সেপ্টেম্বর মাসে হঠাৎ বৃষ্টি নামে। ফ্রন্টিয়ার ল্যান্ডের রোলার কোস্টার রাইড বিগ থান্ডার মাউন্টেন রেলরোডের গায়ের রোম খাড়া করা উত্তেজনা ফিকে হতে না হতেই ফ্ল্যাশ মাউন্টেন রাইডের জলীয় উন্মাদনা, ব্রের র‌্যাবিটের গল্পকে থিম করে কৃত্রিম, সংকীর্ণ নালার মধ্য দিয়ে কাঠের ছোট্ট বোটের চঞ্চল, লেকের জার্নি। এরই ফাঁকে উপভোগ করতে পারবেন লিবার্টি স্কয়ারে পাক্কা কুড়ি মিনিটের রিলাক্সিং ও রিভারবেটি রাইডের আনন্দ।

 

এখানেই শেষ নয়। রয়েছে রাজকন্যা, ক্যাসল, পিটার প্যান, লিটল মারডেম, ডাম্বোর দুনিয়া শিশু ভাবনামূলক, স্বপ্নিল ফ্যান্টাসিল্যান্ডে ম্যাড টি পার্টির পাগলামি এবং সেভেন ডোয়ার্ফস মাইন ট্রেন নামের রোলার কোস্টারের ভয়ানক শিরশিরানি! রকেট, স্পেস ট্র্যাভেল; ইউএফ ও আর রোবটের দুনিয়ার অজানা ছায়াপথ—  টুমরোল্যান্ড স্পিওয়ে, স্পেস মাউন্টেন, অ্যাস্ট্রো অরবিটারের হরেক রকমের চুম্বকীয় স্পেরাইডের হাতছানি তো আছেই!

 

শেষ বিকালের লাজুক সূর্যটা ঘোমটা নামিয়ে দিলেই সন্ধ্যার আসরটি জমে ওঠে কফি, ক্যাফিনের কাপে। রূপকথার সিন্ড্রালারা ক্যাসলের সামনে, ক্যাসলের ক্যানভাসে নেচে-গেয়ে মাতিয়ে তোলে পুরো ওয়ার্ল্ড ডিজনি। চলে দেশি-বিদেশি গানের শো। সবকিছুই চলে সারা রাত। স্পেক্টাকুলার লাইট, নানা রকমফের লেজার শো অ্যান্ড সাউন্ড শো আপনার শেষ রাতের ক্লান্তি দূর করে দেখাবে ডিজনির ভোরের আলো। সবকিছুই যেন অসাধারণ চমকপ্রদ প্রদর্শনী।

ডিজনির আরেক পাশে রয়েছে ৫০০ একর জায়গাজুড়ে অ্যানিমেল কিংডম। নানা ধরনের আফ্রিকান পশুপাখির সঙ্গে সুবিশাল আফ্রিকান হাতি, শক্তিশালী কালো গণ্ডার, গ্র্যান্টস জেব্রা, হাই তোলা জলহস্তী, লম্বা জিরাফ, পেলিকান, সাদা গণ্ডার অস্ট্রিচ— এ ছাড়াও আরও কত রকমের জীবজন্তু রয়েছে এই অ্যানিমেল পার্কে। এখানে হাতের কাছেই মিলবে প্রত্যাশার সবকিছু। আসলে ডিজনির মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সারা বিশ্বের থিম পার্কগুলো এন্টারটেইনমেন্টের মোড়কে মানুষকে স্বপ্ন দেখতে শেখায় এবং সেই স্বপ্নপূরণে অনুপ্রেরণীয় স্পৃহা জোগায়।

 

ভ্রমণ টিপস

বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র এবং রোদের কথা মাথায় রেখে সানগ্লাস, টুপি সঙ্গে রাখুন এবং ঘোরাঘুরির জন্য আরামদায়ক একজোড়া জুতা অবশ্যই সঙ্গে রাখবেন। যে কোনো ধরনের সমস্যার জন্য পার্কের ফ্রন্ট ডেস্ক কিংবা কাস্টমার কেয়ার মেম্বারদের সাহায্য নিতে পারেন।

 

কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে বিমানে অরল্যান্ডো ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। সেখান থেকে ‘ডিজনি ম্যাজিক্যাল এক্সপ্রেস’ আপনাকে পৌঁছে দেবে ডিজনি রিসোর্টে। ডিজনির প্রয়োজনে সাউটে ঢুঁ মারতে পারেন।

ওয়েব : disneyworld.disney.go.com.

কোথায় থাকবেন

‘ডিজনি ওয়ার্ল্ড’-এর এরিয়ার মধ্যেই ডিলাক্স, মডারেট এবং ভ্যালু ক্যাটাগরির রিসোর্ট পেয়ে যাবেন।

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত
এই পাতার আরো খবর
up-arrow