Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২১ অক্টোবর, ২০১৬ ২১:১৭
বেড়ানো
পৃথিবীর স্বর্গ মরিশাস
পৃথিবীর স্বর্গ মরিশাস

স্বর্গ আসলে মরিশাসের থেকে কপি করে বানানো!— কথাটি নাকি বলেছিলেন মার্ক টোয়েন। সোনালি সমুদ্রসৈকতের লাস্যময়ী আলো, নারিকেল গাছের সারি, সামনে অপূর্ব নীল রঙের জলরাশি এবং দূরে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে থাকা ছোট ছোট পাহাড়ের সারি।

অপূর্ব এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে চলে যেতে পারেন পৃথিবীর স্বর্গ দ্য রিপাবলিকান মরিশাস দ্বীপে। পৃথিবীর বিখ্যাত হানিমুন স্পট তো বটেই এক্সাইটিং এক্সপেরিমেন্ট করার জন্যও মরিশাস দ্বীপের রয়েছে জগজ্জোড়া খ্যাতি। জানাচ্ছেন— আবদুল কাদের

 

মার্ক টোয়েন নাকি মরিশাস সম্পর্কে একটি উক্তি করেছিলেন, যার সারমর্ম হলো, মরিশাসই প্রথমে সৃষ্টি হয়েছিল, স্বর্গ আসলে মরিশাসের থেকে কপি করে বানানো! মরিশাসের সৌন্দর্যে মাতোয়ারা মার্ক টোয়েনের মতো অসংখ্য ভ্রমণপাগল পর্যটক। অপরূপ সোনালি সমুদ্র সৈকতজুড়ে খেলা করে লাস্যময়ী আলো, হাতছানি দিয়ে ডাকে নারিকেল গাছের সারি, সামনে অপূর্ব নীল রঙের ভারত মহাসাগর আর একটু দূরেই মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে ছোট ছোট পাহাড়ের সারি। পৃথিবীর বুকে স্বর্গীয় আমেজের জন্য শ্রেষ্ঠ মরিশাস নব্য দম্পতিদের জন্য সেরা হানিমুন স্পট। এ ছাড়াও সমুদ্র সৈকতে রোমান্সের সঙ্গে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের চমৎকার মিশেল কেবল মরিশাসেই মেলে!

 

ভ্রমণপ্রিয় মানুষের প্রথম পছন্দ মরিশাসকে দুটি ভাগে ভাগ করলে মিলবে নর্থ জোন অ্যান্ড সাউথ জোন। প্রথমেই ঘুরে দেখা যাক মরিশাসের নর্থ জোন। উত্তর-পূর্ব দিকের নর্থ জোনে শহর ছাড়িয়ে চলতি বাস এগিয়ে যাবে লা-সিটাডেল অর্থাৎ পাহাড়ের মাথায়। পাহাড়ের উপর থেকে সমুদ্রের তীরে পোর্ট লুইকে ব্যাকশিডের মতো মনে হবে। মরিশাসের মনোরম পরিবেশ পর্যটকদের মন ছুঁয়ে যেতে বাধ্য। এখানে মিলবে ডাকদের ঐতিহাসিক কালো পাথরের প্রাচীন দুর্গ। দুর্গের সামনে তাক করে আছে বিশাল কামান। বলে রাখা ভালো মরিশাস কিন্তু জাহাজ তৈরির জন্য বিখ্যাত। এখানকার কাঠের তৈরি পুরনো জাহাজগুলো দেখলে মনে হবে বিখ্যাত মুভি পাইরেটস অব দ্য ক্যারিবিয়ান রাজ্য। রয়েছে কডান ওয়াটারফ্রন্ট লাগোয়া শপিং কমপ্লেক্সে। কেনাকাটার জন্য এর চেয়ে ভালো অপশন আর নেই। নর্থ জোনের সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে ঘুরতে চোখে পড়বে মানুষের জটলা। আসলে ঐ জটলাগুলো হলো স্থানীয়দের ক্রেয়োল নাচের আসর। গানের ছন্দ আর নাচের তালে নিজেকে হারিয়ে ফেলবেন এক মুহৃর্তের জন্য। মনে রাখবেন, মরিশাসে কিন্তু ছোট ছোট দ্বীপের অভাব নেই। বেল মেয়ার এবং সার্ফ আইল্যান্ডে ট্রাই করুন সাবমেরিন রাইড, ডিপ সি ওয়াকিং, স্কুবা সুইমিং, ইউন্ড সার্ফিং, স্কিয়িং, ইয়টিং, প্যারালেসিংয়ের মতো এক্সাইটিং ওয়াটার স্পোর্টস।

 

সাহস আর বাজেট, দুটো মিলে হয়ে যাবে নতুন এক অভিজ্ঞতা। আর পাশেই সমুদ্রসৈকতে সঙ্গী নারিকেল গাছের সারি প্রাণ ভরিয়ে দেবে। মনে হবে ক্যারিবীয় দ্বীপে চলে এসেছেন। সাগর জলে নীল, সবুজ, কালো রঙের মেলা আর নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা। মাঝেমধ্যে চোখে পড়বে রং-বেরংয়ের পালতোলা নৌকা, ঠিক যে আঁকা ছবি। ইচ্ছে হলেই স্পিডবোট চড়ে হারিয়ে যেতে পারেন সাগরের অতল গহ্বরে।

 

চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা দেশ-বিদেশের পর্যটকদের মেলা দেখে মনে হবে গোটা বিশ্ব মিলেছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের ব্লকব্লাস্টারে। এখানে আরও উপভোগ করতে পারবেন বালাক্লাভা অঞ্চল, সিউসাগর রামগুলাম বোটানিকাল গার্ডেন, বার্ড স্যাচুয়ারি, ঐতিহাসিক ব্লু পেনি মিউজিয়াম এবং বিখ্যাত মরিশাস অ্যাকুরিয়াম। মরিশাসের মাঝে অ্যালেকজান্দ্রা ও চেমারাল জলপ্রপাতটিও দেখার মতো। তা ছাড়া ম্যাটু দে লেবারডোনেসের কলোনিয়াম স্থাপত্যের নিদর্শন, সবুজের সমারোহ, সুন্দর সুন্দর অর্চার্ড এবং শেষে রাম টেস্টিং ট্যুর মিস করবেন না।

 

এই তো গেল নর্থ জোনের রূপবৈচিত্র্য। এখানেই শেষ নয়। সাউথট্যুরে হারিয়ে যাবেন আরেক মোহনীয় অপলক সুন্দরের মূর্ছনায়। সমুদ্রকে ঘিরে থাকা নানা রঙের চোখ জুড়ানো কোরাল রিফ। প্রকৃতির এক অদ্ভুত সৃষ্টি। আশ্চর্য সুন্দর জিনিসের সম্ভার পর্যটকদের সেলফি আর ছবি তোলার মাত্রা বাড়িয়ে দেবে কয়েকগুণ।

এখানে একটি বিখ্যাত হিন্দু মন্দির

 

রয়েছে। মন্দিরে রয়েছে পাথুরে শিবমূর্তি। মহেশ্বরনাথ শিব মন্দিরটি বিশাল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। এবার ঘুরে আসুন গ্রান্ড গলফ কোর্স। গলফ কোর্সটি বিশ্ববিখ্যাত। মরিশাসের বিশাল জায়গাজুড়ে আছে এই একাধিক গলফ কোর্স। সবুজ প্রান্তরের এই খেলার মাঠে শরীর ও মন দুই-ই ভরে যাবে। তা ছাড়া মরিশাস বিলাসবহুল হোটেল, রিসোর্টগুলো ডিটক্স ও রিল্যাক্স করার জন্য আয়েশি মানুষের পারফেক্ট চয়েস।

 

যাদের শরীর ম্যাসাজ করানোর প্রতি আলাদা আদর রয়েছে তারা নিতে পারেন আধুনিক সায়েন্টিফিক থেরাপির সংমিশ্রণে মরিশাসের স্পা থেরাপি। সব টেনশন ক্লান্তি ভুলে হারিয়ে যান ম্যাসাজের রূপকথার রাজ্যে। সাউথ জোনের সৌন্দর্য এখানেই শেষ নয়। মরিশাসের সবচেয়ে গর্জেস ভিউ পয়েন্ট হলো প্যানোরামিক ভিউ। এই স্থানটির মোর্ন মাউন্টেইন ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে বিখ্যাত। পাহাড়টিতে রয়েছে এক্সাইটিং সব এক্সপেরিমেন্ট। স্থানীয়দের মাঝে পাহাড়টি নিয়ে রয়েছে মজার মজার গল্প। পাহাড়টি নাকি স্লেভ রুট মনুমেন্ট ক্রীতদাসদের স্মৃতি তৈরি হয়েছিল।

 

এখানে ব্লু সি বিচ, ফ্লিক অ্যান্ড ফ্ল্যাক ও ট্যামারিন সমুদ্র সৈকতের চার পাশজুড়ে আছে সবুজের সমাবেশ। এখানকার মার্টেলো টাওয়ার মিউজিয়াম, ক্যাসেলা ওয়াল্ডং অফ অ্যাডভেঞ্চারে ওয়াইল্ড লাইফ, পৃথিবীর সাতরঙা মাটি বেশ জনপ্রিয়। তা ছাড়া মরিশাসের ঢোল পুরি, চিলি কেক, ক্রেয়োল কারি এবং সি-ফুড, নামি-দামি ভিন্ন মদের স্বাদ এবং ইতালীয় ও ভারতীয় খাবারে লোভ সামলানো দায়। সৈকতের হাওয়ায় মাথা দোলানো ঝাউবনে রাজকীয়ভাবে রিল্যাক্স করার জন্য আদর্শ স্থান।

 

কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে মরিশাসের সরাসরি কোনো বিমান সার্ভিস নেই। তাই প্রথমে যেতে হবে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের দিল্লি কিংবা মুম্বাই শহরে। সেখান থেকে লেওয়ভার করে তারপর সরাসরি মরিশাসে যেতে পারবেন। মরিশাস ঘুরে দেখার জন্য ভাড়া করা গাড়ি বা বাস নিন।

 

কোথায় থাকবেন

দ্য রিপাবলিকান মরিশাসের মরিশাস দ্বীপে থাকার জন্য রয়েছে ডিলাক্স লা মেরিডিয়ান ইন মরিস, হোটেল হিলটন অ্যান্ড রিসোর্টস।

 

কেনাকাটা

পর্যটন স্বর্গ মরিশাসে পর্যটকদের কেনাকাটার কথা জিজ্ঞাসা করলে এক কথায় উত্তর দেবে পারফিউম, অয়েল অ্যান্ড কফি। তাই আপনি বাদ যাবেন কেন? তা ছাড়া বিখ্যাত বেতের শোপিস এবং হস্তশিল্পের বুনো পোশাক পেয়ে যাবেন স্থানীয় পোর্ট লুই মেন মার্কেটে।

 

ভ্রমণ টিপস

বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র নিতে ভুলবেন না। রোদের কথা মাথায় রেখে সানস্ক্রিন ক্রিম, হ্যাট, সানগ্লাস সঙ্গে রাখুন। মরিশাস যাবেন আর সুইমিং করবেন না তা কি হয়? সুইমিং এনজয় করার জন্য সুইমওয়্যার এবং ঘোরাঘুরির জন্য আরামদায়ক একজোড়া জুতা অবশ্যই সঙ্গে রাখবেন।

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত
এই পাতার আরো খবর
up-arrow