Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : শনিবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২১ অক্টোবর, ২০১৬ ২১:১৯
ইনফো টিপস
স্মার্টফোনের ডিসপ্লে
স্মার্টফোনের ডিসপ্লে

কোনোটা আইপিএস আবার কোনোটা অ্যামোলেড। আবার কোনোটা রেটিনা কিংবা গরিলা গ্লাসের। মূলত আইফোনে ব্যবহার করা হয় আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে। অন্যদিকে বেশির ভাগ অ্যানড্রয়েড ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইস অ্যামোলেড ডিসপ্লের হয়ে থাকে।

 

অ্যামোলেড ডিসপ্লে স্ক্রিনের প্রতিটি পিক্সেল আলাদাভাবে আলোকিত হয়। এতে একটি পাতলা ফিল্ম ট্রানজিস্টর দিয়ে তৈরি। যা পিক্সেলগুলো আলোকিত করে। অন্যদিকে আইপিএস এলসিডি প্রযুক্তি অ্যামোলেডের থেকে অনেকটাই আলাদা। এ ক্ষেত্রে একটি পোলারাইজড আলোকরশ্মিকে একটি কালার ফিল্টারের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত করা হয়।

 

বর্তমানে স্মার্টফোন মানেই টাচস্ক্রিন। হাতের স্পর্শে কম সময়ে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে নেওয়া যায় অনায়াসেই। তাই স্মার্টফোন সবার পছন্দের তালিকায় শীর্ষে। কিন্তু স্মার্টফোন কেনার সময় পর্দা বা ডিসপ্লের প্রতি নজর রাখা উচিত।

 

স্মার্টফোন কেনার সময় এখনো অনেকে দামের চিন্তাই বেশি করেন। কেউবা ভাবেন ব্যাটারি ব্যাকআপ কেউবা জোর দেন প্রসেসর এবং র‌্যামের ওপর। আবার যারা গেম খেলেন বা নিয়মিত ভিডিও দেখেন ফোনে, তারাই বেশি করে ডিসপ্লে নিয়ে মাথা ঘামান। বেশির ভাগ ক্রেতা ‘ফুল এইচডি’ ডিসপ্লে শুনেই ফোনটি বগলদাবা করে বাড়ি ফেরেন। কিন্তু আপনার স্মার্টফোনে ‘ফুল এইচডি’ লেখা থাকলেই যে সেটি সেরা ডিসপ্লে এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই।

 

এইচডি ডিসপ্লে মানে নিঃসন্দেহে ভালো। কিন্তু চেনাটা দায়। আইফোনে আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে বেশির ভাগ অ্যানড্রয়েড ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইসে রয়েছে অ্যামোলেড ডিসপ্লে হয়ে থাকে। আমাদের দেশে স্মার্টফোনের বাজার এখন জমজমাট। প্রচুর ব্র্যান্ড এবং প্রোডাক্টে বাজারে সয়লাব। স্মার্টফোনগুলোর মধ্যে দামের তারতম্যও খুব বেশি না হওয়ায় মাথা গুলিয়ে যাওয়া স্বাভাবিক। তাই ফোন কেনার সময়ে কোন ডিসপ্লেটা বেশি ভালো তা খুঁটিয়ে দেখাটা প্রয়োজন।

 

কোন ডিসপ্লে ভালো আইপিএস না অ্যামোলেড? রেটিনা, গরিলা নাকি টিএফপি এলইডি? সাধারণত আইফোনে ব্যবহার করা হয় আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে। ওদিকে বেশির ভাগ অ্যানড্রয়েড ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইসে রয়েছে সুপার অ্যামোলেড ডিসপ্লে। বিশেষ করে স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি এস সিরিজের বেশি দামের ফোনগুলোতে সুপার অ্যামোলেড তো রয়েছে, কয়েকটি মাঝারি রেঞ্জের ফোনেও এই ডিসপ্লে দেখা যায়।  

 

আইফোন আইপিএস এলসিডি প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার কারণ কোম্পানির বক্তব্য এই প্রযুক্তি অ্যামোলেডের তুলনায় অনেক বেশি সস্তা। ওদিকে স্যামসাংয়ের মতো, সুপার অ্যামোলেড প্রযুক্তিতে ডিসপ্লের রং অনেক বেশি উজ্জ্বল লাগে। নিঃসন্দেহে সুপার অ্যামোলেড ডিসপ্লে অসাধারণ। শোনা যাচ্ছে, স্যামসাং গ্যালাক্সি এস ৮-এ থাকবে কার্ভড ফোরকে অ্যামোলেড ডিসপ্লে।

 

তাই বলে আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে যে খারাপ তা কিন্তু একেবারেই নয়। আইপিএস ডিসপ্লের ইউএসপি হলো শার্পনেস আর ক্ল্যারিটি বা স্বচ্ছতা। তবে রোদের মধ্যে খুব স্পষ্ট হয় অ্যামোলেড ডিসপ্লে আবার অনেকের মতে, তেরছাভাবে বা অ্যাংগুলার ডিসপ্লে ভালো হয় আইপিএস প্রযুক্তিতে। আইফোন ছাড়াও এলজি, এইচটিসি এবং লুমিয়া ফোনগুলোতেও আইপিএস এলসিডি  প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। প্রশ্ন হলো ক্রেতারা কোনটি কিনবেন? সেরা উপায় হলো দোকানে দুই ধরনের ডিসপ্লে পাশাপাশি রেখে বিচার করা। যে ডিসপ্লেটি আকর্ষণীয় মনে হবে সেটিই কিনুন। কয়েকটি স্মার্টফোনের ডিসপ্লে সম্পর্কে জেনে নিন।

 

টিএফটি এলসিডি

স্মার্টফোনে সবচেয়ে বেশি প্রযুক্তির ডিসপ্লে ব্যবহৃত হয় টিএফটি এলসিডিতে। এটি থিন ফিল্ম ট্রানজিস্টর লিকুইড ক্রিস্টাল ডিসপ্লে, যা ছবিকে বেশি নিখুঁতভাবে দেখায়। বেশি মানসম্পন্ন ছবি এবং উচ্চ রেজ্যুলেশনের ভিডিও দেখা যায় এতে।

 

আইপিএস এলসিডি

আইপিএস এলসিডির পর্দায় যে কোনো দিক থেকে পরিষ্কার ছবি দেখা যায় এবং ছবি ও ভিডিও দেখতে অনেক বেশি শক্তির প্রয়োজন হয় না। তাই ব্যাটারি খরচও কম এতে।

 

অ্যামোলেড

অ্যামোলেড হলো অ্যাকটিভ-ম্যাট্রিকস অরগানিক লাইট-এমিটিং ডায়োড। এটি মোটামুটি এলইডি ডিসপ্লের মতোই। এই ডিসপ্লের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, আপনি বেশি অন্ধকার আলো কিংবা সূর্যের আলোতেও সমস্যা হবে না।

 

রেটিনা

রেটিনা ডিসপ্লে স্মার্টফোনের পর্দা আইপিএস, এলসিডি ও ব্যাকলিট এলইডির সমন্বয়ে তৈরি। এর ডিসপ্লে রেজ্যুলেশন অত্যন্ত উচ্চ (৬৪০ পিক্সেল -৯৬০ পিক্সেল)। এ ডিসপ্লে অত্যন্ত তীক্ষ এবং ছবি ও ভিডিও স্পষ্ট দেখা যায়।

 

গরিলা গ্লাস

এটি অ্যালকালি-অ্যালোমিনোসিলিকেট যৌগের তৈরি গ্লাস। এটি শক্ত ও মজবুত ডিসপ্লে। এই ডিসপ্লে স্মার্টফোনের পর্দাকে দাগ, আঁচড়, ঘষা-মাজা থেকে রক্ষা করে।

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত
এই পাতার আরো খবর
up-arrow