Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২২:০৫

২২ বছর বয়সে সিইও বাংলাদেশি সাদমান

শনিবারের সকাল ডেস্ক

২২ বছর বয়সে সিইও বাংলাদেশি সাদমান

বিশ্বজুড়ে এখন বাংলাদেশিদের সাফল্য হরহামেশাই শোনা যাচ্ছে। এই জয়যাত্রায় নতুন একটি নাম যোগ হলো শাদমান সাদাব। এই তরুণ মাত্র ২২ বছর বয়সেই হংকংভিত্তিক উন্নয়ন সংস্থা ফিউচার সিটি সামিট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বাবা হাসানুজ্জামান ভূঁইয়া ও মা সাবিরা হাসানের একমাত্র ছেলে সাদাব। গত বছরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের টেলিভিশন অ্যান্ড ফিল্ম স্টাডিজ বিভাগ থেকে স্নাতক শেষ করেন তিনি। ভবিষ্যতের শহর গড়ার লক্ষ্যে প্রতি বছর একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করে উন্নয়ন সংস্থা ফিউচার সিটি সামিট লিমিটেডে (এফসিএস)। ২০১৬ সাল থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোর বিভিন্ন শহরের সমস্যাগুলো খুঁজে বের করে তা সমাধানে নিত্যনতুন ধারণার সংমিশ্রণে কাজ করে যাচ্ছে নানাভাবে। এ ক্ষেত্রে তরুণদের বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে সংস্থাটি। যেমন সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও উদ্যোগী তরুণদের মধ্যে একটি যোগসূত্র স্থাপন করার পাশাপাশি সম্ভাবনাময় উদ্যোগগুলোর জন্য বিনিয়োগের ব্যবস্থাও করে প্রতিষ্ঠানটি।

আর এসব কার্যক্রম যে মানুষটির হাত ধরে পরিচালিত হচ্ছে তিনি বাংলাদেশি শাদমান সাদাব। তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়াÑ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এমন নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে এফসিএস। এখন এসবের দায়িত্ব শাদমানের কাঁধে এবং সফলতার সঙ্গেই এ দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ইতিমধ্যেই এফসিএসের কাজের পরিধি আরও বড় করেছেন। গত মাসেই ইন্দোনেশিয়ার বালিতে সফলভাবে আয়োজন করেছেন ‘ফিউচার সিটি সামিট ২০১৯’। ১৪টি দেশের ৩০টি শহর থেকে তরুণরা অংশ নিয়েছিলেন এই সম্মেলনে।

শাদমান সাদবের শৈশব কাটে নারায়ণগঞ্জে। নারায়ণগঞ্জ আইডিয়াল স্কুল থেকে এসএসসি পাস করে

নটর ডেম কলেজে ভর্তি হন। এইচএসসির পর এডমিশন নেন ডাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।  ছোটবেলায় অন্তর্মুখী এই ছেলেটাই এখন বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন অবলীলায়। মূলত নটর ডেম কলেজে পড়ার সময়ই নিজেকে আবিষ্কার করেন সম্পূর্ণ নতুনভাবে। বুঝতে পারেন অনেক কিছু করতে হবে তাকে। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর আউটসোর্সিং যেমন করেছেন তেমনি টিউশনিও করেছেন। পাশাপাশি ব্রিটিশ কাউন্সিল, টেন মিনিট স্কুল ও ব্লাডম্যান ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তিনি। পড়াশোনার বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমে শাদমান বলেন, ‘সত্যি বলতে আমি প্রচুর ফাঁকি দিয়েছি। কেন যেন মনে হতো, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে বাস্তবের কাজের দুনিয়ার একটা বড় দূরত্ব আছে। পড়ালেখার পাশাপাশি আমি কাজ শিখতে চেয়েছি।’ আকাশ ছুঁয়ে দেখার স্বপ্ন থেকেই সবসময় চেষ্টা করে গেছেন। এক সময় সুযোগ এসে কড়া নাড়ে দড়জায়। ২০১৬ সালে শাদমান সাদাব হংকংয়ে ‘ফিউচার সিটি সামিট’ সম্মেলনে আবেদন করেন। অংশগ্রহণও করেন। সাদমান বিশ্বাস করেন মানুষের সঙ্গে যত বেশি সম্ভব যোগাযোগ তৈরি করা যায় তত বেশি শেখা যায়। তত বেশি সুযোগ তৈরি হয়। তাই ‘২০১৬ সালের ফিউচার সিটি সামিটে তিনি নিজে উদ্যোগী হয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা তরুণদের সঙ্গে পরিচিত হয়েছিলেন। পরবর্তী দুই বছর যুক্তরাজ্য, জাপান, নেপাল, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি। অংশ নিয়েছেন কয়েকটি সম্মেলন, প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতায়। এভাবেই পরিচিতদের বৃত্ত বড় হতে থাকে তার।

এফসিএসের সঙ্গে তার মূল কাজের শুরুটা হয়েছিল ২০১৭ সালে। বাংলাদেশ অঞ্চলের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরে আয়োজনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও যোগাযোগ বিভাগের দায়িত্ব পান। আর সবচেয়ে বড় অর্জনটা আসে ২০১৮ সালে।

হংকংয়ের তরুণ আন্দ্রে কোকের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। উপদেষ্টা হিসেবে আছেন টি-হাব ইন্ডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা শ্রিনিভাস কল্লিপারা, হংকংয়ের অলাভজনক সংস্থা মেক আ ডিফারেন্সের আহ্বায়ক আদা য়িং কে য়োং, এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল অব হংকং এসএআর গভর্নমেন্টের সদস্য রেজিনা ইপ লও সুক-য়িসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গণ্যমান্য ব্যক্তি।


আপনার মন্তব্য