Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ২ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১ মার্চ, ২০১৯ ২২:৩৫

দৃষ্টিহীন মাফিয়া পড়ছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে

বাবুল আখতার রানা, নওগাঁ

দৃষ্টিহীন মাফিয়া পড়ছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে

প্রথমত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, দ্বিতীয়ত নারী। আরেকটি বড় সমস্যা জন্ম হতদরিদ্র এক ভ্যানচালকের পরিবারে। আমাদের সমাজে কত মেধাবী মানুষ আছে, কজনের কথা আমরা জানতে পারি। যারা উদ্যমী ও পরিশ্রমী কোনো বাধা-বিপত্তি দমিয়ে রাখতে পারেনি, তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মাফিয়া খাতুন। মাফিয়ার জন্ম নওগাঁর রানীনগর উপজেলার খট্টেশ্বর গ্রামে এক হতদরিদ্র ভ্যানচালক আমজাদ হোসেনের পরিবারে। মাফিয়ার পরিবারে দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে মাফিয়াই বড়। লেখাপড়া শেষ করে চাকরি করে নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের সেবা করতে চায় মাফিয়া। অপরদিকে তার পরিবারের স্বপ্ন তার মেয়ে উচ্চ পড়ালেখা শেষ করে একটি বড় চাকরি করবে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মাফিয়া কি তার বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখা শেষ করে সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে। কিন্তু এতসব প্রতিবন্ধকতার পরও সে পড়ালেখায় সফল হয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সমাজে। পড়ালেখায় ভালো ফলাফল করে এবার  সে ভর্তি হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। কিন্তু অর্থের অভাবে আগামীতে পড়াশোনা চালাতে পারবে কিনা তা নিয়ে আতঙ্কিত মাফিয়া ও তার ভ্যানচালক পরিবার। উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে জীবনে বড় হওয়ার স্বপ্ন কি মাফিয়ার পূরণ হবে না। সে আর দশজন মানুষের মতো সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে না। আর মাফিয়ার এই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার জন্য প্রয়োজন সমাজের বিত্তবান থেকে শুরু করে সবার সার্বিক সহযোগিতা। অদম্য মেধাবী মাফিয়া খাতুনের এই সাফল্যের গল্প এখন সবার মুখে মুখে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী অদম্য মেধাবী মাফিয়া। তাই অন্যের সাহায্য নিয়ে চলতে হয় তাকে। কিন্তু শিশুকাল থেকেই শিক্ষাজীবনে কখনো হার মানেনি মাফিয়া। মা আর বাবার প্রেরণায় ও অক্লান্ত সহযোগিতায় শত বাধা আর বিপত্তিকে পেছনে ফেলে সে এখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যায়ে আইন বিভাগের একজন শিক্ষার্থী। এর ওর কাছ থেকে পাওয়া অর্থ, নিজের প্রতিবন্ধী ভাতা আর ভ্যানচালক বাবার ঘাম ঝরানো অর্থ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারলেও বর্তমানে সেখানে থেকে পড়ালেখা চালানো নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে মাফিয়া ও তার গরিব পরিবার। জন্ম থেকেই আর্থিক অনটন আজও মাফিয়ার পিছু ছাড়েনি। তবুও মাফিয়া আরও সামনে এগিয়ে যেতে চায় আর এর জন্য প্রয়োজন সবার সার্বিক সহযোগিতা।

প্রতিবন্ধী মাফিয়া খাতুন বলেন, সীমাহীন দুঃখ আর কষ্ট আমাকে আলাদা করতে পারেনি শিক্ষাজীবন থেকে। প্রাথমিক থেকে সিঁড়ি বেয়ে এবার পা রেখেছি উচ্চশিক্ষার গণ্ডিতে। অনার্সে ভর্তি হয়েছি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে। কিন্তু আমি জানি না আগামী দিনগুলো আমার কীভাবে যাবে। পরিবারে রয়েছে আরও কজন ভাই-বোন। ভ্যানচালক বাবা তাদের চালাবে না আমাকে পড়ালেখার খরচ দিবে। মা আর কতদিন আমার জন্য মানুষের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করবে। তাই আমি সমাজের বিত্তবান মানুষের সহযোগিতা কামনা করছি আমাকে হাত ধরে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। প্রতিবেশী আবুল কালাম আজাদ বলেন, মাফিয়া অত্যন্ত মেধাবী ও দুর্গম মনের মেয়ে। সহজে সে ভেঙে পড়ে না। তা আমরা দেখে আসছি। অনেক যুদ্ধ করে মাফিয়ার বাবা-মা তাকে পড়ালেখা করিয়ে আসছে। আমরাও যতটুকু পারি মাফিয়াকে সহযোগিতা করে আসছি। তবে দেশের বিত্তবানদের এ ধরনের মানুষের জন্য বড় ধরনের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া উচিত। মাফিয়ার মা সামেনা বিবি বলেন, আমার এই প্রতিবন্ধী মেয়ের পড়ালেখার জন্য কত জায়গায় গিয়েছি। কেউ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে আবার কেউ ফিরিয়ে নিয়েছে। আমি আমার মেয়ের পড়ালেখার জন্য, তার স্বপ্ন পূরণ করার জন্য মানুষের বাড়িতে ও জমিতে কাজ করেছি। এতদিন অনেক কষ্ট করে মেয়েকে চালিয়ে নিয়েছি কিন্তু এখন আর পারছি না। আমি আমার মেয়ের স্বপ্ন পূরণের জন্য সমাজের সবার সহযোগিতা চাই।


আপনার মন্তব্য