Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ১ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৩১ মে, ২০১৬ ২৩:৩৬
মুস্তাফিজের অপেক্ষায় সাসেক্স
মেজবাহ্-উল-হক
মুস্তাফিজের অপেক্ষায় সাসেক্স
সোমবার রাতে দেশে ফেরেন মুস্তাফিজুর রহমান। কাল হাজির হয়েছিলেন মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে। সেখানে কাটার মাস্টারকে বুকে জড়িয়ে বরণ করে নেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা —বাংলাদেশ প্রতিদিন

দ্বিধা-দ্বন্দ্ব মনে নিয়েই মুস্তাফিজুর রহমানকে নিলামে কিনেছিল সান রাইজার্স হায়দরাবাদ। তারপর দেখা গেল, মুস্তাফিজ হচ্ছেন ‘ছাই চাপা আগুন’! আগ্নেয়গিরি-ই বলা যায়— যেভাবে আইপিএলে প্রথম ম্যাচ থেকেই বোলিংয়ে দাপট দেখিয়েছেন!

টি-২০ বিশ্বকাপে সেরা বোলিং ফিগার (নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২২ রানে ৫ উইকেট), ওয়ানডে সিরিজে অভিষেকের পর তিন ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়ে ভারতকে উড়িয়ে দেওয়ার পরও কারও কারও মনে সংশয় ছিল মুস্তাফিজের পারফরম্যান্স নিয়ে।

কিন্তু আইপিএলে গিয়ে ক্রিকেট বিশ্বকে নিজের প্রতীভা সম্পর্কে বুঝিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের এই তারকা পেসার।

এ কথাও ঠিক যে, আইপিএলে খেলতে গিয়ে আরও পরিপক্ব, পরিণত হয়েছেন কাটার মাস্টার। সান রাইজার্স কোচ টম মুডির তত্ত্বাবধানে তার বোলিংয়ের ধার আরও বেড়েছে। আগে মুস্তাফিজের বোলিংয়ের গতি ছিল ঘণ্টায় গড়ে ১৩৫ কিলোমিটার। কিন্তু এখন ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করতে পারেন। ‘স্লোয়ার’ আরও নিখুঁত হয়েছে। মুস্তাফিজের সবচেয়ে বড় ক্যারিশমা হচ্ছে—১৪০ কিমি গতিতে বোলিংয়ের সময়ও তার অ্যাকশন যেমন থাকে ১২৫ কিমিতে বোলিং করার সময়ও অ্যাকশনের পরিবর্তন হয় না। এখানেই সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্ত হন ব্যাটসম্যানরা।

কাটার ও ইয়র্কার নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। এই দুটি হচ্ছে তার বোলিংয়ের মেইন অস্ত্রো। এখন যোগ হয়েছে সুইং। অসাধারণ আউট সুইং করতে পারেন। যদিও ইন সুইংয়ে কিছুটা দুর্বলতা রয়েই গেছে। তবে যতই দিন যাচ্ছে, মুস্তাফিজের বোলিংয়ে যোগ হচ্ছে নতুন শক্তি। হয়তো খুব শিগগিরই দেখা যাবে, ইনসুইং দিয়েই ব্যাটসম্যানদের নাকাল করে ছাড়ছেন।

এখনই মুস্তাফিজকে খেলতে ব্যাটসম্যানদের যে নাভিশ্বাস উঠে যায়— যখন ওভারের ছয় বলে ছয় রকম বল করবেন তখন কি অবস্থা হবে ব্যাটসম্যানদের? অবশ্য সে দিনও খুব বেশি দূরে নয়, খুব শিগগিই আরও ভয়ঙ্কর রূপে মুস্তাফিজকে দেখা যাবে বলে মনে করেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। রবি শাস্ত্রী তো বলেই দিয়েছেন, ছেলেটা বয়সের তুলনায় অনেক বেশি পরিণত। আর প্রোটিয়া গতি তারকা ডেল স্টেইন তো মুস্তাফিজের ভিতরে ওয়াসিম আকরামের ছায়া দেখছেন—যিনি ওভারের ছয় বলেই ছয় রকমের বোলিং করে ব্যাটসম্যানকে আতঙ্কে ফেলে দিতেন।

মজার বিষয় হচ্ছে, হায়দরাবাদের মতো সাসেক্সও কিছুটা সংশয় নিয়েই দলে নিয়েছিল মুস্তাফিজকে। কিন্তু এখন উভয় দলের কর্তৃপক্ষই এমন আনন্দে ভাসছে। কাটার মাস্টারের কাছ থেকে যা পাওয়ার তা চেয়ে হাজার গুণ বেশি কিছু পেয়েছে হায়দরাবাদ। এখন প্রতীক্ষায় রয়েছে ইংলিশ কাউন্টি ক্লাব সাসেক্স।

কিন্তু কোটি টাকার প্রশ্ন হচ্ছে, সাসেক্সে খেলছেন তো মুস্তাফিজ? ইনজুরির কারণে আইপিএলে কোয়ালিফায়ারের ম্যাচটি খেলতে পারেননি। ঢাকায় ফিরেই গতকাল ক্রিকেট বোর্ডে এসে দেখা করেছেন ফিজিওর সঙ্গে। মুস্তাফিজের ফিটনেস সম্পর্কে জানতে বিসিবিও উদগ্রীব। ইতিমধ্যে অবশ্য তারা জেনেও গেছেন। কিন্তু এ ব্যাপারে কিছুই জানান হয়নি মিডিয়ায়। প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দীন চৌধুরী বলেছেন, ‘ফিটনেস ঠিক থাকলে সাসেক্সে খেলবে মুস্তাফিজ। ’ তবে সাসেক্সে খেলা না খেলা নিয়ে ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মধ্যেও রয়েছে মতভেদ। কেউ বলছেন, মুস্তাফিজকে সাসেক্সে খেলানো ঠিক নয়। এতে তার বোলিং রহস্য ফাঁস হয়ে যাবে। কেউ বলছেন, অবশ্যই মুস্তাফিজের কাউন্টিতে খেলা উচিত। সেখানে খেললে তার প্রতীভা উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হবে।

সে যাই হোক, বিসিবির প্রধান নির্বাহীর কথায় ইংলিশ কাউন্টি ক্লাব আশ্বস্ত হতে পারে সাসেক্স কর্তৃপক্ষ। কেন না ইতিমধ্যেই তারা মুস্তাফিজের জার্সি ব্র্যান্ডিং করার জন্য সব কিছু প্রস্তুত করে রেখেছে। কাটার মাস্টার ইংল্যান্ডে পৌঁছা মাত্র তার নাম সম্বলিত জার্সি বাজারে ছাড়া হবে। হয়তো আরও কতো শত আয়োজনের পরিকল্পনা করে রেখেছে ক্লাবটি! বাংলাদেশের তারকা পেসারকে বরণ করে নেওয়ার প্রহর গুনছে সাসেক্স।

ভাগ্যই বটে মুস্তাফিজের। এর আগে বাংলাদেশি কোনো খেলোয়াড়ের জার্সি ব্র্যান্ডিং করেনি বাইরের দেশের কোনো ক্লাব বা দল। মুস্তাফিজই প্রথম। অবশ্য যেভাবে একের পর এক মুস্তাফিজ সাফল্যের সিঁড়ি ভেঙে উপরের দিকে যাচ্ছেন, আরও কতো ‘প্রথম’ যে তার নামের সঙ্গে যুক্ত তার অপেক্ষায় রয়েছে!

up-arrow