Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ১ জুন, ২০১৬ ২৩:৩৪
সবার আগে সুপার লিগে দোলেশ্বর
ক্রীড়া প্রতিবেদক
সবার আগে সুপার লিগে দোলেশ্বর

শিরোপা জিতলে ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ার ড্রেসিংরুমে ‘শ্যাম্পেন-বৃষ্টি’ খুবই পরিচিত দৃশ্য। কাল বিকালে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে প্রাইম দোলেশ্বরের ড্রেসিংরুমের সামনেও দেখা গেল একই ছবি। গাজী গ্রুপের বিরুদ্ধে জয় নিশ্চিত হওয়ার পর নাসির হোসেন সতীর্থদের শরীর ভিজিয়ে দিলেন। তার দেখাদেখি অন্যরাও একই কাজ করলেন। তবে এটা ‘শ্যাম্পেন-বৃষ্টি’ ছিল না মোটেও! উদযাপনের ধরনটা দেখতে এক রকম মনে হলেও শ্যাম্পেনের পরিবর্তে বোতলে ছিল পানি!

এই জয়ে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতেছে প্রাইম দোলেশ্বর— এমন নয়! তবে এবারের আসরে সবার আগে নিশ্চিত করেছে সুপার লিগ। ৫ উইকেটের এই জয়ে তারা মোহামেডানকে টপকে আবারও শীর্ষে উঠে গেছে। তবে দোলেশ্বরের ক্রিকেটারদের উল্লাস করার কারণ, অনিশ্চয়তার দোলাচলে দুলতে থাকার পর আসা জয়।

স্কোরকার্ড দেখে বোঝার উপায় নেই যে ম্যাচটা কতটা রোমাঞ্চ ছড়িয়েছে। ৫০ ওভারের ম্যাচে ২১৪ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে এক ওভার হাতে রেখেই জয় পাওয়াটা আহামরি কিছু নয়। কিন্তু আবহাওয়া ও উইকেটের কথা ভাবলে ভিন্ন প্রেক্ষাপট চোখের সামনে ভাসবে।

একে তো সকাল বেলা মিরপুরের আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। তা ছাড়া খেলা হচ্ছিল এমন উইকেটে— যেটাই ছিল ব্যাটসম্যানদের জন্য রীতিমতো পরীক্ষাগার। এমন উইকেটে কোনো অধিনায়কই টস জেতার পর সকালের ময়েশ্চারে ব্যাটসম্যানদের মরণফাঁদে ঠেলে দিতে চাইবেন না। তাই প্রাইম দোলেশ্বরের অধিনায়ক ফরহাদ রেজাও প্রথমে বোলিং নিতে ভুল করেননি।

শুরু থেকেই দোলেশ্বরের বোলাররা চেপে ধরেন গাজীর ব্যাটসম্যানদের। নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে মাত্র ২১৩ রানেই আটকে দেয়। ইলিয়াস সানির ব্যাট থেকে আসে সর্বোচ্চ ৪৬ রান। ২১৪ রানের টার্গেটকে সহজ মনে হলেও দোলেশ্বরের ব্যাটসম্যানরা ২২ গজে যাওয়ার পর দেখা যায় তারাও ঠিক মতো খেলতে পারছেন না। গাজী গ্রুপের মতো দোলেশ্বরও ঠিক ১২ রানের মাথাতেই তাদের প্রথম উইকেট হারায়। এরপর থেকেই সতর্কভাবে খেলতে থাকেন ব্যাটসম্যানরা। কিন্তু ২৪ ওভারে ৭০ রানে দোলেশ্বর তিন উইকেট হারানোর পর ম্যাচ জমে উঠেছিল। লো-স্কোরিং ম্যাচের আসকিং রেটটা এক সময় ছয় পেরিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু দোলেশ্বের বিদেশি ব্যাটসম্যান অশোক ম্যানেরিয়া ব্যাটিং করে ম্যাচ জিতেই মাঠ ছাড়েন। ৬১ বলে ৫৯ রানের হার না মানা দারুণ এক ইনিংস খেলেছেন। চতুর্থ ও পঞ্চম উইকেটে নাসির ও রনি তালুকদারের সঙ্গে ৬৪ ও ৭০ রানের জুটি দুটিই দোলেশ্বরের জয়ের বন্দরে নিয়ে গেছে।

কাল রাজস্থানের তারকা অলরাউন্ডার ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিংয়েও দেখিয়েছেন ক্যারিশমা। বাঁ হাতি এই স্পিনার ১০ ওভারও বোলিং করে মাত্র ২৯ রানে নিয়েছেন তিন উইকেট।

দারুণ এই জয়ে উচ্ছ্বসিত দোলেশ্বরের কোচ মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমার খুবই ভালো লাগছে। শুরু থেকেই আমরা চ্যাম্পিয়নের লক্ষ্য নিয়ে খেলছি, এখনো লক্ষ্য একই আছে। তবে আগের ম্যাচে আমরা আবাহনীর বিরুদ্ধে প্রায় জেতা ম্যাচে হেরে গেছি। পরের ম্যাচেও যেন আমরা জিততে পারি সে চেষ্টা থাকবে। জিততে পারলে সুপার লিগে আমাদের কাজটা আরও সহজ হবে।’




up-arrow