Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১ জুন, ২০১৬ ২৩:৩৬
নিজ গ্রামে মুস্তাফিজ
মনিরুল ইসলাম মনি, সাতক্ষীরা
নিজ গ্রামে মুস্তাফিজ
গ্রামের বাড়িতে বাবা-মায়ের পাশে কাটার মাস্টার মুস্তাফিজুর রহমান —বাংলাদেশ প্রতিদিন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া জাতীয় বীর খেতাব পাওয়া উদীয়মান দেশবরেণ্য ক্রিকেটার মুস্তাফিজের মা মাহমুদা বেগমের অপেক্ষার প্রহর যেন শেষ হলো। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) জয়ের পর মহানায়ক হয়ে জাতীয় বীর খেতাবে নিজের গ্রাম সাতক্ষীরার তেঁতুলিয়ায় ফিরে এলেন ক্রিকেটের বিস্ময় বালক মুস্তাফিজ। যার মাধ্যমে ক্রিকেটবিশ্ব বাংলাদেশকে নতুনভাবে চিনল, সেই উদীয়মান তারকা কাটার মাস্টার মুস্তাফিজকে ৬০ দিন পর কাছে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা মা মাহমুদা বেগমসহ আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুরা। মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে মায়ের কোলে ফিরলেন সাতক্ষীরার কৃতী সন্তান মুস্তাফিজ। তাকে পেয়ে মা মাহমুদা বেগম, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুরা আনন্দে আত্মহারা হয়ে যান। ঢাকা থেকে নভো এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ১৮ মিনিটে যশোর বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। আগেই বাবাকে কিনে দেওয়া নতুন গাড়ি নিয়ে মুস্তাফিজকে আনার জন্য বিকালে কালিগঞ্জের তেঁতুলিয়া গ্রাম থেকে যশোর বিমানবন্দরে পৌঁছান মুস্তাফিজের বাবা আলহাজ আবুল কাশেম গাজী। সঙ্গে ছিলেন খালু আনিসুর রহমান ও বড়ভাই মাহফুজুর রহমান মিঠুসহ মুস্তাফিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা।? বিমানবন্দরে পৌঁছামাত্রই পরিবারের পক্ষ থেকে মুস্তাফিজকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান খালু আনিসুর রহমান। পরে সাতক্ষীরার উদ্দেশে রওনা দেন আইপিএল জয়ী তারকা। রাত ৯টা ৪০ মিনিটে একটি প্রাইভেট ও একটি মাইক্রোযোগে সাতক্ষীরায় পৌঁছান তিনি। এ সময় যার হাত ধরে, কোলে-পিঠে চড়ে বড় হয়েছেন মুস্তাফিজ, সেই মুস্তাফিজ তৈরির কারিগর সেজো ভাই মোখলেছুর রহমান পল্টু ছিলেন সাতক্ষীরা শহরের নিউমার্কেট মোড় এলাকায়। অপেক্ষা করছিলেন তার আদরের ছোট ভাইয়ের জন্য। এ সময় সাতক্ষীরায় কর্মরত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও টিভি চ্যানেলের  সাংবাদিকরা মুস্তাফিজের ছবি ও সাক্ষাৎকার নিতে চাইলে তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে কথা না বলে এড়িয়ে যান। পরে শহরের কামালনগর এলাকায় খালু আনিসুর রহমানের বাড়িতে পৌঁছে কিছুটা সময় কাটানোর পর রওনা হন কালিগঞ্জের নিজ গ্রাম তেঁতুলিয়ার উদ্দেশে। রাত ১১টা ৫০ মিনিটে তার বাড়িতে মায়ের কাছে পৌঁছান মুস্তাফিজ। বাড়িতে পৌঁছেই মা মাহমুদা বেগমকে জড়িয়ে ধরেন মুস্তাফিজ। সেখানেও অপেক্ষায় ছিলেন আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবসহ এলাকার শত শত মানুষ এবং স্থানীয় সাংবাদিক। এ সময় তিনি ক্লান্ত হওয়ার কারণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা না বলেই ঘরের ভিতর চলে যান।

বেলা ১১টার দিকে সাতক্ষীরা থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মুস্তাফিজের বাড়ি তেঁতুলিয়ায় পৌঁছান কিছু গণমাধ্যম কর্মী। তখনো ক্লান্ত মুস্তাফিজ ঘুমিয়ে ছিলেন। একপর্যায়ে ঘর থেকে বের হয়ে আসেন মুস্তাফিজ। তবে সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলতে নারাজ মুস্তাফিজ। ছবি তুলতে গেলেও এড়িয়ে যান তিনি। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের পক্ষ থেকে কথা বলতে বারণ রয়েছে তার। তবে তিনি বলেন, আমার জন্য দোয়া করবেন। যেন ক্রিকেটে আরও ভালো করতে পারি। মুস্তাফিজ ১ রমজান পর্যন্ত পরিবারের সঙ্গে থেকে বিশ্রাম নিতে চান। দ্বিতীয় রোজায় তিনি ঢাকার উদ্দেশে সাতক্ষীরা ত্যাগ করবেন বলে জানান মুস্তাফিজ। তবে কাউন্ট্রি খেলতে ইংল্যান্ড কবে যাবেন— এ বিয়য়ে প্রশ্ন করা হলে কোনো উত্তর মেলেনি মুস্তাফিজের মুখ থেকে।

তার সেজো ভাই মোখলেছুর রহমান পল্টু জানান, ইংল্যান্ডে খেলতে যাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ওপর। মুস্তাফিজ সুস্থ থাকলে আর কর্তৃপক্ষ চাইলে সেটি সম্ভব হবে। তবে আইপিএল সম্পর্কে তিনি বলেন, মুস্তাফিজ দীর্ঘদিন আমাদের ছেড়ে ইন্ডিয়াতে খেলতে গিয়েছিল। তাতে করে পরিবারের সবাইকে মিস করেছে মুস্তাফিজ।

up-arrow