Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১ জুন, ২০১৬ ২৩:৩৮
হকি লিগে হট্টগোল
ক্রীড়া প্রতিবেদক
হকি লিগে হট্টগোল

‘মোহামেডান-মেরিনার্স ক্লাবের কারণেই দীর্ঘদিন হকি লিগ হয়নি। তাদের কারণেই দেশের হকি ধ্বংস হতে বসেছিল। এখন আবার খেলায় ফিরলেও তারা যা শুরু করেছে, মনে হচ্ছে তারা বড় ধরনের গণ্ডগোল বাধিয়ে দিয়ে আবারও লিগটা বন্ধ করে দিতে চায়। হকিকে ধ্বংস করাই যেন তাদের মূল লক্ষ্য। এটা অবশ্যই দুঃখজনক এবং নিন্দনীয়।’ গতকাল মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসে এমনটাই মন্তব্য করেন অতুল হেমন্ত নামে এক হকিপ্রেমী।

গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়ার ডিভিশন হকি লিগে গতকাল দুটি খেলা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ৩১ ও ৩২ নম্বর খেলার কোনোটিই শান্তিপূর্ণভাবে হয়নি। প্রথমটি কোনোমতে শেষ হলেও দ্বিতীয়টি তো শেষই হয়নি। প্রথম খেলায় ঢাকা মেরিনার্স ইয়াংস ক্লাব ২-১ গোলে হারায় সোনালী ব্যাংক স্পোর্টস অ্যান্ড রিক্রেয়েশন ক্লাবকে। দ্বিতীয় ম্যাচে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেড মোকাবিলা করে ঊষা ক্রীড়াচক্রের। গোলযোগপূর্ণ খেলাটি বারবার বন্ধ হয় এবং থেমে থেমে চলে। ২-২ গোলে ড্র থাকা অবস্থায় আলো স্বল্পতার কারণে ম্যাচটি স্থগিত হয়ে যায়। আজ ম্যাচের অসমাপ্ত ১৮ মিনিটের খেলা একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে।

নানা জল ঘোলা করে দীর্ঘ দুই বছর পর আবারও নীল টার্ফে গড়িয়েছিল হকি। এতে সবাই বুনেছিলেন আশার জাল। ক্লাব কাপ হকিতে ছোটখাটো গণ্ডগাল হলেও তা শেষ হয়েছিল শান্তিপূর্ণভাবেই। কিন্তু প্রিমিয়ার হকি লিগে যা হচ্ছে, তাতে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে লিগ আদৌ শেষ হবে কিনা! বিদেশি আম্পায়ার দিয়ে খেলা চালানোর পরও তাদের সিদ্ধান্ত মানছেন না খেলোয়াড়রা। শুধু তাই নয়, ম্যাচ চলাকালে খেলোয়াড়দের ছাউনিতে ক্লাব অফিশিয়ালদের প্রকাশ্যে ধূমপান, মোবাইল ফোন ব্যবহারের ঘটনা তো ডালভাত হয়ে গেছে! চোখের সামনে দিনের পর দিন এসব ঘটনা ঘটতে দেখেও দোষীদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে না হকিপ্রেমীদের ভাষায় ‘মেরুদণ্ডহীন অযোগ্য-অদক্ষ-দুর্নীতিবাজ’ হকি ফেডারেশন!

এবার লিগ শুরুর আগে সময়মতো বিদেশি খেলোয়াড় না আসায় শুরুতেই লিগ পেছানোর আবেদন করে ঊষা। যদিও ঊষার সেই আবেদনে সাড়া দেয়নি ফেডারেশন। তবে টার্ফে আম্পায়ারদের সিদ্ধান্ত নিয়ে মাঠে প্রায়ই সমস্যার সৃষ্টি করছেন ‘অসহিষ্ণু’ খেলোয়াড়রা। কোনো এক অজানা কারণে বিদেশি আম্পায়াররাও খেলায় কঠোর হতে পারছেন না।

এমনই ঘটনা ঘটেছে গতকালের খেলায়। আম্পায়ারের সঙ্গে তর্ক করে মেরিনার্স-সোনালী ব্যাংকের খেলোয়াড়রা। এতে ম্যাচটি বন্ধ ছিল এক ঘণ্টার বেশি! মোহামেডান-ঊষা ম্যাচে ঘটে একই কাণ্ড! মেরিনার্স ২-১ গোলে জিতলেও আলো স্বল্পতায় মোহামেডান-ঊষার ম্যাচ শেষ হতে পারেনি। ২-২ ব্যবধানে ড্র থাকা অবস্থায় খেলা বন্ধ করে দেন দুই আম্পায়ার। আজ দুপুরে ওই অবস্থা থেকেই ম্যাচটি শুরু হবে।

মেরিনার্স-সোনালী ব্যাংকের খেলা শুরু হয় আধা ঘণ্টা দেরিতে। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচটি শেষ হওয়ার কথা ছিল সাড়ে ৩টায়। কিন্তু সাড়ে ৪টায়ও ম্যাচটি শেষ হয়নি! গতকালের প্রথম ঝামেলার সূচনা করে মেরিনার্সই। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে আম্পায়ারের এক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে মেরিনার্সের কৌশিক লাথি মারেন সোনালী ব্যাংকের অজিত কুমার বিশ্বাসকে। এ নিয়ে তর্কে জড়ান দুই দলের খেলোয়াড়রা। দুই আম্পায়ার সেলিম লাকি ও শাহবাজ আপ্রাণ চেষ্টা করে এদের থামান। পরে কৌশিক ও অজিতকে হলুদ কার্ড দেখান আম্পায়ার শাহবাজ।

up-arrow