Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১ অক্টোবর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ৩ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ৩ জুন, ২০১৬ ০০:০৭
টার্গেট এবার ট্রফি জয়
মেজবাহ্-উল-হক
টার্গেট এবার ট্রফি জয়

‘শিরোপা জিততে হলে সব দলকে হারানোর সামর্থ্য থাকতে হবে’ —এই বাক্যটিই হতে পারে টাইগারদের জন্য বড় আত্মবিশ্বাস। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশের গ্রুপটি কঠিন না সহজ সেটা বিষয় নয়। টাইগারদের টার্গেট থাকা উচিত শিরোপার দিকে। ‘ভালো’ —খেলার তত্ত্ব এখন অনেক পুরনো হয়ে গেছে! বাংলাদেশ এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলেছে। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সেই একই দলগুলোর বিরুদ্ধেই তো খেলবে। তাই শিরোপা জয়ের লক্ষ্যেই প্রস্তুতি নেওয়া উচিত বলে মনে করেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।

স্বাগতিক দল হিসেবে ইংল্যান্ড এবং সিমিং কন্ডিশনে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড সব সময়ই ভয়ঙ্কর। আর এই ভয়ঙ্কর তিন দলই ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশের সঙ্গী। আরেক গ্রুপে রয়েছে এশিয়ার তিন পরাশক্তি ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা। সঙ্গে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। কিছুদিন আগে দেশের মাটিতে টাইগাররা ভারত, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে বুঝিয়ে দিয়েছে তাদের শক্তিমত্ত্বা। তবে সেটা স্পিনে নির্ভর করে নয়, পেস বোলিং দিয়েই তিন ক্রিকেট পরাশক্তিকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। আর শ্রীলঙ্কা—সবচেয়ে অগোছালো দল।

তাই ক্রিকেটামোদীদের এমনটা মনে হতেই পারে যদি ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশ থাকতো? নিশ্চয় গ্রুপে বাংলাদেশকেই ফেবারিট ভাবা হতো! কেননা ইংল্যান্ডের সিমিং কন্ডিশনে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের সামনে কাঁপুনি উঠে যাওয়ার কথা ভারত, পাকিস্তান কিংবা লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের। মুস্তাফিজের সামনে পড়তে ভালো লাগবে না কারও। সে সঙ্গে এর মধ্যে যদি তাসকিন আহমেদও বোলিং অ্যাকশন সংশোধন ফিরে আসে তাহলে তো কথাই নেই। এছাড়া আল আমিন তো দিনে দিনে আরও ক্ষুরধার হচ্ছেন। দ্য টাইগার ক্যাম্পেন— মাশরাফি তো আছেনই।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির গ্রুপিংয়ের পর স্যোশাল মিডিয়ায় ক্রিকেটামোদীদের মধ্যে একটা কমন প্রশ্ন— আইসিসি কি ইচ্ছা করেই বাংলাদেশের গ্রুপে এশিয়ার কোনো দলকে রাখেনি? যদিও গ্রুপিং হয় মূলত র‌্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে। কিন্তু এখানে কোন নিয়ম অনুসরণ করা হয়ছে— ‘এ’ গ্রুপে র‌্যাঙ্কিংয়ের ১, ৪, ৬ ও ৭ নম্বর দল। ‘বি’ গ্রুপে র‌্যাঙ্কিংয়ের ২, ৩, ৫ ও ৮ নম্বর দল। তবে আইসিসির প্রধান নির্বাহী ডেভিড রিচার্ডসনের বক্তব্যের পর বিষয়টা আর ধোঁয়াশা সৃষ্টি করেছে।

রিচার্ডসন ইংল্যান্ডের দৈনিক টেলিগ্রাফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের গুরুত্বের কথা  চিন্তা করেই তাদের চাওয়া থাকে যেন সব সময় এই দুই দলকে এক গ্রুপে রাখা যায়। আইসিসির প্রধান নির্বাহীর বক্তব্য, ‘এ বিষয়ের সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই যে আমরা আমাদের যেকোনো ইভেন্টে চেষ্টা করি ভারত-পাকিস্তান রাখার। আইসিসির কাছে এই ম্যাচটির গুরুত্ব অনেক। সারা বিশ্বের ক্রিকেট ফ্যানরা এই ম্যাচ দেখার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকেন। কিন্তু আমাদের এই আসরে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ আছে।’ এ বিষয়ে টুর্নামেন্ট নিয়ে কোনো প্রশ্ন তৈরি হবে কিনা—এমন প্রশ্নে রিচার্ডসনের বক্তব্য, ‘আমরা র‌্যাঙ্কিং ফলো করেই গ্রুপ করি।’

গতকাল ঢাকায় ফিরে কোচ চন্ডিকা হাতুরাসিংহে বলেছেন, ‘বাংলাদেশের গ্রুপটি কঠিন। ভালো করতে হলে প্রস্তুতিটি ভালো করতে হবে।’ ২০১১ সালের বিশ্বকাপের কথা চিন্তা করে দেখুন তো? কোন গ্রুপে ছিল বাংলাদেশ! আর কে ভেবেছিল অস্ট্রেলিয়া নিউজিল্যান্ডের সিমিং কন্ডিশনে এই গ্রুপ থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে পারবে বাংলাদেশ! কিন্তু টাইগাররা সাহসী ক্রিকেট খেলে ইংল্যান্ডের মতো দলকে বিদায় করে দিয়ে ঠিকই শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছিল। সেটা সম্ভব হয়েছিল ভালো প্রস্তুতির জন্যই।

এবার দলের কোচ যেখানে এক বছর আগেই বিষয়টি অনুধাবন করতে পারছেন তাহলে এবার কেন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভালো করতে পারবে না! এখন বাংলাদেশ দল আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক পরিণত দল। দলে পেস বোলারে ভরপুর। ওয়ানডেতে বাংলাদেশ পরীক্ষিত এক দল। বিশ্বের যেকোনো দলকে হারানোর সামর্থ্য রয়েছে।

২০১১ সালের বিশ্বকাপে তো মুস্তাফিজ ছিল না। কিন্তু এখন কাটার মাস্টারের উপস্থিতি দলকে যে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করে তুলেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তা ছাড়া এখনো অনেক সময় বাকি। খেলা হবে আগামী বছরের জুনে। এর আগে চলতি বছরের শেষের দিকে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে একটি পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। তারপর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার আগে ইউরোপের আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডের সঙ্গে একটি ট্রাইনেশন সিরিজ খেলবে টাইগার। তাই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিকে টার্গেট করে এখন থেকেই যদি প্রস্তুতি নেওয়া যায় তাহলে শিরোপা জয়ের আশা করা খুব বাড়াবাড়ি হওয়ার কথা নয়।




up-arrow