Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ৫ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৪ জুন, ২০১৬ ২৩:০২
ভাবতেই পারিনি আলীর সঙ্গে লড়ব
মোহাম্মদ আলীর বিপক্ষে লড়াই করা সেই বালকের স্মৃতিচারণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ভাবতেই পারিনি আলীর সঙ্গে লড়ব
সিডনিতে চলছিল অস্ট্রেলিয়া ও গ্রিসের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। তখনই স্টেডিয়ামের জায়ান্ট স্ক্রিনে ভেসে ওঠে কিংবদন্তি মোহাম্মদ আলীর মৃত্যুর খবর —এএফপি

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বক্সার মোহাম্মদ আলী ঢাকায় এসেছিলেন ১৯৭৮ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে। নিউ-স্প্রিংসের কাছে হারের পর বাংলাদেশ সফরে আসেন দুনিয়া কাঁপানো এই বক্সার।

রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকা ছাড়াও কক্সবাজারে যান মোহাম্মদ আলী। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে তাকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয় তৎকালীন ঢাকা স্টেডিয়ামে। কিংবদন্তি বক্সারকে এক নজর দেখতে পুরো গ্যালারি ভরে যায়। অনুষ্ঠানে দেশের তারকা খেলোয়াড়দের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় আলীর সঙ্গে। তৎকালীন জাতীয় ক্রীড়া

পরিষদের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এ সময়ে আলীর পাশে ছিলেন। দর্শকদের জন্য তিন রাউন্ডের বক্সিং প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু আলীর সঙ্গে কে লড়বে, বক্সারই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সিনিয়র লেভেলের বাংলাদেশ এক চ্যাম্পিয়নকে বেছে নেওয়া হয়। কিন্তু আলী হাসতে হাসতে বলেন, তিনি ভীষণ ক্লান্ত, বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নের সঙ্গে লড়াই করা সম্ভব নয়।

পুরো গ্যালারি আলী আলী চিৎকারে মুখরিত। তখনই ঘোষণা আসে আলীর সঙ্গে লড়বে জুনিয়র চ্যাম্পিয়ন মো. গিয়াস উদ্দীন। তিন রাউন্ডের লড়াই। অথচ দ্বিতীয় রাউন্ড শুরুর কিছুক্ষণ পরই আলী মঞ্চে লুটিয়ে পড়লেন। মনে হচ্ছিল গিয়াসের আঘাতে তিনি নকআউট হয়েছেন। বাস্তবে মোহাম্মদ আলী কৌতুক করেই লুটিয়ে পড়েন। সেদিনের প্রদর্শনী বক্সিংয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন গিয়াস উদ্দীন। বললেন, ১৯৭৮ সালে আমার বয়স ১২ কি ১৩ হবে। সেবারই জুনিয়র লেভেলে চ্যাম্পিয়ন হই। সবার মতো আমিও মোহাম্মদ আলীকে দেখতে যাই। নাগরিক সংবর্ধনায় আলী যখন বক্তৃতা দিচ্ছিলেন তখন আমি মঞ্চের পাশেই বসে ছিলাম। মুগ্ধ চোখে আমি আলীকে দেখছিলাম। এমন সময় আমাকে কাছে ডাকলেন তখনকার বক্সিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আসাদউল্লাহ। বললেন, প্রস্তুত হয়ে নাও, আলীর সঙ্গে লড়তে হবে। বিশ্বাস করুন কথাটি শুনে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। আলীর সঙ্গে আমি লড়ব, ভাবতেই

পারছিলাম না। আলীর সামনে যেতেই, পুরো গ্যালারি তখন করতালিতে ফেটে পড়ল। আম্পায়ার কে ছিলেন, এ মুহূর্তে ঠিক মনে করতে পারছি না। তবে লড়াইয়ের আগে আলী আমাকে জড়িয়ে ধরলেন। আমি ঠিকই বক্সিং চালাচ্ছি, কিন্তু আলী প্রতিবারই হালকাভাবে আমার মুখ স্পর্শ করছেন। বুঝতে পারলাম এটা আদর ছাড়া আর কিছুই নয়। দ্বিতীয় রাউন্ড কিছুক্ষণ চলার পর দেখলাম আলী হাসতে হাসতে শুয়ে পড়লেন। বুঝলাম এটা নকআউটের অভিনয় করছেন। বিজয়ী ঘোষণা করা হলো আমাকে। আলীর সঙ্গে লড়াই করার স্মৃতি কখনো ভুলবার নয়। সকালে যখন শুনলাম আলী আর নেই তখন আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারলাম না। দুপুর থেকেই ফোন আসা শুরু হয়। কারণ একটাই আলীর সঙ্গে লড়াইয়ের স্মৃতিচারণ। সত্যিই আমি ভাগ্যবান গ্রেট এক ব্যক্তির কাছে যেতে পেরেছিলাম। নাগরিক সংবর্ধনায় ঢাকা শহরের চাবি তুলে দেওয়া হয় মোহাম্মদ আলীর হাতে। তৎকালীন বক্সিং ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক আরশাদ উল্লাহ অসুস্থ থাকার খুব একটা কথা বলতে পারেননি। অনেক কষ্টে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বললেন, বাংলাদেশে আলী যতদিন ছিলেন তার দেখাশোনার দায়িত্ব আমারই ছিল। সম্ভবত পাঁচদিন ছিলেন, অথচ এই অল্পদিনেই আমাদের আপন করে নিয়েছিলেন মোহাম্মদ আলী।

up-arrow