Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ৫ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৪ জুন, ২০১৬ ২৩:০৪
ব্যর্থতায় বন্দী ফুটবল
কী করবে বাফুফে
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ব্যর্থতায় বন্দী ফুটবল

ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না ফুটবল। আন্তর্জাতিক ম্যাচে হারই যেন নিত্যসঙ্গী ফুটবলারদের। বিশ্বকাপ বাছাই, সাফ চ্যাম্পিয়ন, বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ, এস,এ গেমস সব খানেই এক চিত্র। লজ্জা থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজে পাচ্ছে না বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। কাজী সালাউদ্দিন ২০০৮ সাল থেকেই দেশের ফুটবলের অভিভাবক। যোগ্য ব্যক্তির কাছে নেতৃত্ব থাকার পরও ৮ বছরে জনপ্রিয় এই খেলার কোনো উন্নয়ন ঘটেনি। বরং আরও অধঃপতন ঘটেছে। এবার তৃতীয় মেয়াদে সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর দৃঢ়ভাবে বলেছেন, আগে কি হয়েছে তা তিনি মনে করতে চান না, এখন তার লক্ষ্য একটাই ফুটবলের উন্নয়ন। কিন্তু কিভাবে সম্ভব, সেই পরিকল্পনা তিনি জানাতে পারেননি। হয়তো গোপনীয়তার কারণে বিষয়টি চেপে গেছেন।

শুধু সালাউদ্দিন নন, দীর্ঘ সময় ধরে যারা ফুটবলের দায়িত্বে আছেন তারা ফুটবলের লোক। অথচ জনপ্রিয় এই খেলা ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। অনেকে ক্ষোভের সঙ্গে বলছেন, বাংলাদেশের ফুটবল বেঁচে আছে লাইফ সাপোর্টে। এতে আবার ফুটবলাররা বিরক্ত প্রকাশ করেন। বলেন, খেলায় হারজিত থাকবেই, তার মানে এই নয় যে ফুটবল শেষ হয়ে গেছে। কথাটি ঠিক, যে কোনো খেলায় হারজিত থাকবেই। কিন্তু ফুটবলেতো বাংলাদেশ শুধু হেরেই চলেছে। কোনো ট্রফি নয়, একটা জয় যেন স্বপ্নে পরিণত হয়েছে। এশিয়ান কাপ বাছাই পর্ব প্লে-অফ ম্যাচে তাজিকিস্তানের কাছে বাংলাদেশ ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে। দুশানবেতে ড্র’র টার্গেট নিয়ে উড়ে যান মামুনুলরা। শৃঙ্খলা ভাঙায় মামুনুলকে জাতীয় দল থেকে এক বছর নিষিদ্ধ করা হয়। পরে ক্ষমা চাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। সোহেল রানারও শাস্তি প্রত্যাহার করে জাতীয় দলে ফিরিয়ে আনা যায়। এমনকি মামুনুলকে অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

কোনো কিছুতেই লাভ হচ্ছে না। হারের বৃত্তে বন্দী বাংলাদেশ। দুবার বরখাস্ত হওয়া ক্রুইফকে আপদকালীন কোচ করা হয়। কই ঘুরেফিরেতো একই ফল। ২ জুন ভরাডুবিতে কোচ তার শিষ্যদের ওপর দারুণ ক্ষুব্ধ। বলেছেন, পেশাদারি মনোযোগ নেই বলে বার বার দলে বিপর্যয় ঘটছে। অন্যদিকে মামুনুল বলেন, তাজিকরা এমনিতেই শক্তিশালী। তারপর আবার ম্যাচে অসাধারণ খেলেছে। তাই জেতা সম্ভব হয়নি। কথা হচ্ছে, একই রেকর্ড বাজবে কতদিন? ৭ জুন ঢাকায় ফিরতি পর্বের লড়াই। দুশানবের এমন ফলের পর ঢাকায় বাংলাদেশ জিতবে তা কেউ আশা করবে না। অথচ ক্রুইফ বলেছেন, নিজেদের মাঠে পরিবেশ থাকবে অন্য রকম। ভালো খেলতে পারলে অবশ্যই তাজিকিস্তানকে হারানো সম্ভব। জানি না কোচ কীভাবে ঢাকায় জেতার আশা করছেন? এটা কি স্টানবাজির মতো নয়। দেখা যাবে ম্যাচ হারের পর ক্রুইফ বলবেন, ছেলেরা খেলতে না পারলে আমি কী করব।

এভাবে চলছে বাংলাদেশের ফুটবল? কিন্তু এর কি কোনো প্রতিকার নেই। বাফুফে বলছে চেষ্টাতো কম করছি না। এখন না পারলে কি করার আছে। তাজিকিস্তানের হারের পর সাবেক ফুটবলাররা ফেডারেশনের ওপর দারুণ চটেছেন। সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক বলেন, সত্যজিত দাশ রুপু ম্যানেজার হিসেবে পুরোপুরি ব্যর্থ। এ নিয়ে ক্লাবগুলো আপত্তি তুলেছিল। এরপরও তাকে ম্যানেজার রাখা হচ্ছে কোন যুক্তিতে। ফুটবলে কি আর যোগ্য কেউ নেই। এক রুপুকে পরিবর্তন করলেই কি জাতীয় দলের পারফরম্যান্সে চমক আসবে। আসলে কি করলে ভালো হয় তা জরুরি ভিত্তিতে বাফুফেকে দেখতে হবে। অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়ে সালাউদ্দিন গংরা পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন। নিজেরা জিতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। কিন্তু ফুটবলপ্রেমীরাতো স্বস্তিতে থাকতে পারছেন না। একের পর এক ব্যর্থতা। এই চিত্রের যদি পরিবর্তন না ঘটে তাহলে তাদের বার বার জিতিয়ে লাভ হচ্ছে কী? 

up-arrow