Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৭ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৬ জুন, ২০১৬ ২৩:৩৩
আলীর সেই স্পর্শ ভুলতে পারিনি
রকিবুল হাসান
আলীর সেই স্পর্শ ভুলতে পারিনি

স্বপ্নের নায়কের সামনা-সামনি হবো, কখনো ভাবতেই পারিনি। সত্যিই আমি ভাগ্যবান, সামনা-সামনি নয়, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবিদ কিংবদন্তি বক্সার মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে হাত মিলিয়েছি।

১৯৭৮ সালে ঢাকা সফরে এসেছিলেন আলী। তৎকালীন ঢাকা স্টেডিয়ামে তাকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। বাংলাদেশের নাগরিকত্বও দেওয়া হয়। আগের দিনই জাতীয় ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণ বোর্ড থেকে আমাকে জানানো হলো ঢাকা স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠানে দেশের সেরা খেলোয়াড়দের উপস্থিত থাকতে হবে। কথাটি শুনে আমি চমকে গেলাম। স্বপ্নের নায়ককে সামনা-সামনি দেখব। স্টেডিয়ামে গিয়ে দেখি আমার বন্ধু ফুটবলার কাজী সালাউদ্দিন ও বক্সার আবদুল হালিম। সেই অনুষ্ঠানে আর কোনো খেলোয়াড় ছিল কিনা এ মুহূর্তে মনে করতে পারছি না। যার মুষ্টিযুদ্ধ টিভিতে দেখে মুগ্ধ হয়েছি, তার সঙ্গে আমি হাত মেলাব। সেই মুহূর্তে নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ মনে হচ্ছিল।

ক্রিকেট খেলে দর্শকদের অনেক বাহবা পেয়েছি। জাতীয় দলের অধিনায়কও ছিলাম। তারপরও বলব আমার খেলোয়াড়ি জীবনে সবচেয়ে স্মরণীয় ঘটনা হচ্ছে কিংবদন্তি মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে হাত মেলানোটা। আলীকে বলা হয় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বক্সার। আমি বলব শুধু বক্সার নন, আলী ছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবিদ। তার মতো মহান ও জনপ্রিয় ক্রীড়াবিদের আর কখনো দেখা মিলবে কিনা সন্দেহ। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হলেও তিনি দুনিয়ার মানুষের হৃদয় জয় করেছেন। যাক ফিরে আসি, ৭৮ সালের সেই অনুষ্ঠানে। আলীর জন্য স্টেডিয়ামের মাঝখানে বিশেষ মঞ্চ তৈরি করা হয়। আলীকে দেখতে শুধু গ্যালারি নয়, স্টেডিয়ামের আশপাশ এলাকা ভরে গিয়েছিল।

এখনো চোখে ভাসে সেদিন অনুষ্ঠানে সাদা পোশাক পরে এসেছিলেন আলী। চোখে ছিল সেই পরিচিত সানগ্লাস। আমার সঙ্গে হাত মেলানোর আগে তৎকালীন জাতীয় ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ পরিচয় করিয়ে বললেন, রকিবুল বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক। আলী দুই হাত চেপে ধরলেন, এরপর মাথায় হাত দিয়ে বললেন, ক্রিকেটার। আলীর সেই স্পর্শ এখনো ভুলতে পারিনি। সেই স্পর্শ ভুলবারও নয়। গ্যালারিভরা দর্শক দেখে অভিভূত হয়ে যান আলী। মঞ্চে আর স্থির থাকতে পারলেন না। স্ত্রী ভোরোনিককে নিয়ে পুরো স্টেডিয়াম ঘুরে বেড়ালেন তিনি। দর্শকরা আলী আলী বলে চিৎকার করে উঠছেন। এই দৃশ্য দেখে আলী এতটা আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন যে কাঁটাতারের সামনে চলে যান। ৩৮ বছর আগের ঘটনা অথচ সেসব স্মৃতি এখনো আমার চোখে জ্বল জ্বল করছে। আলী চলে গেছেন। কখনো আর ভক্তদের সামনে হাজির হবেন না। শুক্রবার তার দাফন সম্পন্ন হবে। আমি বলব আলীর মতো মহান ব্যক্তির মৃত্যু নেই। সারা জীবন ভক্তদের মাঝে বেঁচে থাকবেন তিনি।

লেখক : বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট

দলের সাবেক অধিনায়ক

এই পাতার আরো খবর
up-arrow