Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ৮ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৭ জুন, ২০১৬ ২৩:২৯
ভালো খেলেও হার মামুনুলদের
বাংলাদেশ ০ : ১ তাজিকিস্তান
আসিফ ইকবাল
ভালো খেলেও হার মামুনুলদের
তাজিকিস্তানের দুর্গে বেশ ক’বার আক্রমণ চালালেও গোলের দেখা মেলেনি বাংলাদেশের —বাংলাদেশ প্রতিদিন

ফুটবল মৌতাতে এখন গোটাবিশ্ব। ক্রীড়াপ্রেমীরা এখন মাতোয়ারা ফুটবল উন্মাদনায়। বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীনতম টুর্নামেন্ট কোপা আমেরিকা পার করছে শত বছর। উত্তর থেকে দক্ষিণ, এমনকি সেন্ট্রাল আমেরিকাও মুগ্ধ জাগানো চোখে উপভোগ করছে ছন্দময় ও শৈল্পিক ফুটবল। কম্পিউটারের মাপঝোকে আঁকা ইউরোপবাসীও অধীর অপেক্ষায় গতির সঙ্গে পাওয়ার ফুটবল দেখার। রাত জেগে বিশ্ববাসী দেখছেন, দেখবেন রথী-মহারথীদের চোখধাঁধানো সব কারুকাজ। সেখানে বাংলাদেশ ও তাজিকিস্তানের ‘জাম্বুরা’ ফুটবল দেখতে মাঠ উপচে পড়া দর্শকের আশা করা কল্পনাই! হয়েছেও তাই। রমজানের প্রথম দিন। তার ওপর টিপ টিপ বৃষ্টি এবং সর্বোপরি মামুনুলদের যে পারফরম্যান্স তাতে গ্যালারি শূন্য থাকলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু ফুটবলের প্রতি অমোঘ ভালোবাসায় মাঠে উপস্থিত হয়েছিলেন হাজারখানেক দর্শক। প্রিয় জন্মভূমির জয়ের স্বপ্ন দেখা আর কঠিন বাস্তবতার জমিনের মধ্যে যে যোজন যোজন ফারাক, কাল ভালোভাবেই বুঝলেন ফুটবলপ্রেমীরা। বুঝলেন স্বপ্ন দেখানোর নায়ক কোচ লোডডিক ডি ক্রুইফ। বুঝলেন ময়দানি লড়াই করা মামুনুল, জীবনরা। এশিয়ান কাপের প্লে অফের বাছাই পর্বের ফিরতি ম্যাচে নাঝারভ আখতামের ফ্রি কিকের একমাত্র গোলে জয় তুলে পরের রাউন্ডে জায়গা নিয়েছে তাজিকিস্তান। দুই ম্যাচে ৬ (৫-০; ১-০) গোলে হেরে যাওয়া বাংলাদেশের আশা টিকে আছে পিদিমের সলতের আলোর মতো। এ জন্য ৬ ও ১১ সেপ্টেম্বর লড়তে হবে সাফের সবচেয়ে দুর্বল শক্তি ভুটানের বিপক্ষে।

দুশানবেতে পাঁচ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পরও স্বপ্ন দেখেছিলেন কোচ। তাই গতকাল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ফিরতি ম্যাচে একাদশে পরিবর্তন আনে পাঁচটি। নিয়মিত গোলরক্ষক শহিদুল আলম সোহেলের জায়গায় নামানো হয় আশরাফুল ইসলাম রানাকে। আরিফুল ইসলামের বদলে নাসিরউদ্দিন চৌধুরী, ফয়সাল মাহমুদের স্থলে মামুন মিয়া, নাসিরুল ইসলামের জায়গায় ইমন বাবু এবং শাহেদের বদলে সোহেল রানাকে খেলানো হয় একাদশ। একাধিক পরিবর্তনে ম্যাচে অপেক্ষাকৃত ভালো খেলে হেরে যায় ১-০ গেলে। হারলেও গতকাল বেশ কয়েকটি ভালো সুযোগ সৃষ্টি করেন মামুনুলরা। কিন্তু ফিনিশিংয়ের অভাবে সদ্ব্যবহার করতে পারেনি। পরিবর্তন নিয়ে খেলতে নেমেই গোল খেয়ে বসে। ৮ মিনিটে ম্যাচের একমাত্র গোলটি হয়। রক্ষণভাগের নাঝারভ আখতাম অসাধারণ ফ্রি কিকে গোল করে জয় উপহার দেন তাজিকিস্তানকে। ডিবক্সের মাথা থেকে নাঝরাভের ফ্রি কিক বাংলাদেশের রক্ষণভাগের রায়হান হাসানের গায়ে লেগে ঢুকে পড়ে গোলবারে (১-০)। ১৯ মিনিটে সমতার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। স্ট্রাইকার মোহাম্মদ জীবনের আচমকা শট ওয়ান বাউন্সের শটটি কোনোরকমে রক্ষা করেন তাজিক গোলরক্ষক মাহকামভ আবদুল আজিজ। ৩৩ মিনিটে নিশ্চিত গোল বঞ্চিত হয় বাংলাদেশ। গোলরক্ষক মাহকানভকে একা পেয়েও বাইরে মারেন জীবন। বক্সের ডান প্রান্ত থেকে ইমন মাহমুদের মাইনাস ধরে জীবন ঢুকে পড়েন প্রতিপক্ষের ছোট বক্সে। এরপর মাহকানভকে একা পেয়েও তাড়াহুড়া করে বাইরে মারেন জীবন। এরপর আর গোলের সুযোগ সৃষ্টি হয়নি। ফলে এক গোলের ব্যবধানে বিরতির বাঁশি বাজে।    

দ্বিতীয়ার্ধে গোল পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ অনেক পরিকল্পিত ফুটবল খেলে। বেশ কয়েকটি গোলের সৃষ্টি করে। ৬৬ মিনিটে মামুনুলের কর্নারে তপু বর্মনের হেডলাইন থেকে বাঁচিয়ে দেন তাজিক রক্ষণভাগের এক ফুটবলার। এর আগে ৫৭ মিনিটে মামুনুলের ফ্রি কিকে জীবন মাথা ছোঁয়াতে না পারায় সরাসরি গোলরক্ষকের হাতে চলে যায়। ৮২ মিনিটে প্রায় ৩৫ গজ দূর থেকে বাঁ পয়ের দূর পাল্লার শট নেন মামুনুল। বলটিকে গোলবারে ঢুকার ঠিক আগ মুহূর্তে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন মাহামভ আখতাম। ফলে দৃষ্টিনন্দন গোল দেখা হয়নি মাঠে উপস্থিত হাজার খানেক দর্শকের।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow