Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ১০ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৯ জুন, ২০১৬ ২২:৫০
হাইতিকে উড়িয়ে দিল ব্রাজিল
মেজবাহ্-উল-হক
হাইতিকে উড়িয়ে দিল ব্রাজিল
আবারও গোল। হাইতির জালে বল জড়ানোর পর উৎসবে মেতেছেন ব্রাজিলের ফুটবলাররা —এএফপি

দর্শকরা যেন আসনে বসারই সুযোগ পাচ্ছিলেন না! এক গোলের উৎসব শেষ হতে না হতেই আরেক গোল। পুরো ৯০ মিনিটে জুড়েই চলল উৎসব। একে একে সাত সাতবার হাইতির জালে বল জড়িয়েছে ব্রাজিল। হাইতির দর্শকরাও এবার উৎসব করেছেন। ৭-১ গোলে হারলেও শতবর্ষী কোপার আসরে প্রথমবারের মতো পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিরুদ্ধে খেলতে পারাটাই ছিল দেশটির জন্য স্বপ্ন। তাই স্বপ্ন পূরণের দিনে একমাত্র গোলটি যেন বাড়তি পাওয়া!

প্রথম ম্যাচে ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র-র কষ্ট ভুলতেই এ ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন ব্রাজিলিয়ানরা। আক্ষেপ নিয়ে মাঠে নামলেও জয়টা যে এতো বড় হবে তা হয়তো কেউ-ই ভাবেননি। কেন না আগের ম্যাচে শক্তিশালী পেরুকে প্রায় আটকেই দিয়েছিল হাইতি। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল পেরু। অথচ এ ম্যাচে হাইতিকে রীতিমতো বিধ্বস্ত করে দিল ব্রাজিল। দেয়ালে পীঠ ঠেকে গিয়েছিল ব্রাজিলের। এই ম্যাচে হারলেই কোপা থেকে বিদায় ঘণ্টা বেজে যেত। ড্র করলেও কোয়ার্টার ফাইনালের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যেত। সে কারণেই কিনা ফক্সবোরোর জিলেট স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই মরিয়া হয়ে খেলতে থাকে ব্রাজিল। শেষ পর্যন্ত খেলায় আধিপত্য ধরে রেখেছিল তারা। ম্যাচে গোল সাতটি হলেও মিস হয়েছে বেশ অনেক। তা না হলেও অন্তত ডজন খানেক গোল হয়ে যেত। হ্যাটট্রিক করেছেন লিভারপুলের তারকা ফিলিপ কটিনহো। জোড়া গোল এসেছে রেটানো অগাস্টোর পা থেকে। একটি করে গোল করেছেন গ্যাব্রিয়েল ও লুকাস লিমা। হাইতির হয়ে সান্ত্বনাসূচক গোলটি করেছেন মার্সেলিন।

এই জয়ে যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস নিলেন কোচ কার্লোস দুঙ্গা। আগের ম্যাচে ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে জিততে না পারায় শুরু হয়ে গিয়েছিল তার সমালোচনা। তবে দুঙ্গা সমর্থকদের ধৈর্য্য ধরার জন্য বলেছিলেন! অবশেষে বুঝিয়েও দিলেন প্রথম ম্যাচটা খারাপ হলেও এবার কোপার শিরোপা জিততেই তার দল ব্রাজিল যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছে।দুই ম্যাচে ব্রাজিলের পয়েন্ট এখন চার। শেষের ম্যাচে পেরুর সঙ্গে ড্র করলেই নিশ্চিত হয়ে যাবে কোয়ার্টার ফাইনাল। এদিকে গ্রুপের আরেক ম্যাচে ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে ২-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পরও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি পেরু। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছে। ব্রাজিলের খেলায় ফিরে এসেছে সেই সাম্বার ছন্দ। জিলেট স্টেডিয়ামে জেগেছে ‘জাগো বনিতো’! খেলার ১৪ মিনিটেই উৎসব শুরু ব্রাজিলের। ডান পাশ থেকে আক্রমণ। হাইতির দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে দেন কটিনহো। ২৯ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটিও আসে লিভারপুলের এই তারকা ফুটবলারের পা থেকে। তবে গোলের পুরো কৃতিত্ব জোনাসের। ব্রাজিলের এই স্ট্রাইকার হাইতির ডি-বক্সের মধ্যে ড্রিবলিং করে গোলকিপার প্লেসাইডকে কাটিয়ে পাস দেন। ফাঁকা জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা কটিনহো পায়ের আলতো ছোঁয়ায় বল জালে জড়িয়ে দেন।

৩৫ মিনিট করা অগাস্টোর গোলটি ছিল অসাধারণ। দানি আলভেজের ক্রস থেকে পাওয়া উড়ন্ত বলে মাথা ছুঁয়ে দিয়ে গোল আদায় করে নেন। ৫৯ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় গ্যাব্রিয়েল ব্যবধানে ৪-০ করে। ৬৭ মিনিটে লিমা দুর্দান্ত হেড করে ব্যবধানে ৫-০ করে ফেলেন। ৭০ মিনিটে সংঘবদ্ধ আক্রমণ থেকে একটি গোল আদায় করে নেয় হাইতি। সান্ত্বনাসূচক গোলটি করেন জেমস মার্সেলিন। ৮৬ মিনিটে অগাস্টো তার দ্বিতীয় গোলটি আদায় করে নেন। খেলার অতিরিক্ত সময়ে কটিনহো হ্যাটট্রিক পূরণ করে ফেলেন।

দারুণ এই জয়ের দিনে জিলেটের গ্যালারিতে তালে তালে চলতে থাকে সাম্বা। দর্শকরা তাদের চেনা ব্রাজিলকে দেখে উল্লসিত হলেও খেলোয়াড়রা ততটা উচ্ছ্বসিত নন। বরং তাদের পা মাটিতেই রয়েছে। ম্যাচ শেষে দানি আলভেজ বলেন, ‘এই জয়টা খুব দরকার ছিল। বড় জয় পাওয়ায় খুব ভালো লাগছে। তবে এই জয়ে উল্লাস করার কিছু নেই। এটা তো কেবল শুরু। আমাদের আসল পরীক্ষা সামনে।’

up-arrow