Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১ অক্টোবর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ১৩ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ১২ জুন, ২০১৬ ২২:৪৫
তারকা ক্রিকেটারের এ কী আচরণ
ক্রীড়া প্রতিবেদক

স্বাধীনতা-উত্তর প্রিমিয়ার ক্রিকেট এত প্রতিদ্বন্দ্বিতা কেউ কখনো দেখেনি। সুপার সিক্সের দল চূড়ান্ত হয়েছে শেষ রাউন্ডে। এমন অবস্থা যখন প্রিমিয়ার ক্রিকেটে, তখন আম্পায়ারিং নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বারবার। আবাহনী ক্লাবের বিপক্ষে আম্পায়ারদের বাড়তি সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ করেছে অপরাপর ক্লাবগুলো। ক্লাবটি আরও কিছু সুবিধা নিয়েছে শিরোপা পুনরুদ্ধার করতে। যেমন রাতারাতি ভেন্যু পরিবর্তন করেছে। এ নিয়ে সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে অনেক। কিন্তু বিসিবি কিছুই করেনি। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিলেও গতকাল সুপার লিগে আবাহনী-প্রাইম দোলেশ্বরে ম্যাচের আম্পায়ারিং ফের আলোচনায় এসেছে। আম্পায়ারদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগ উঠছে তামিম ইকবালসহ অপরাপর ক্রিকেটারদের উপর। আবাহনীর সমর্থকরাও বাজে ভাষায় কথা বলে আম্পায়ারদের সঙ্গে। দুই আম্পায়ার গাজী সোহেল ও তানভীর নিরুপায় হয়ে ম্যাচ রেফারি মন্টু দত্তের সঙ্গে কথা বলে মাঠ ছাড়েন। আম্পায়াররা শুধু মাঠ ছাড়েননি, ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিশের (সিসিডিএম) ওপর দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে ম্যাচ চালাতে অস্বীকৃতি জানান। এখন ম্যাচের বাকি অংশ কবে হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবে সিসিডিএম। 

বিকেএসপিতে বৃষ্টিতে আবাহনী-প্রাইম দোলেশ্বরের ম্যাচ নির্ধারিত হয় ৪৫ ওভারে। প্রথমে ব্যাট করে ১৯১ রান করে আবাহনী। ১৯২ রানে টার্গেটে খেলতে নেমে ২ উইকেটে ৫৯ রান তোলার পর খেলা বন্ধ করে দেন দুই আম্পায়ার। ঘটনার শুরু ১৫.৪ ওভারে। সাকলাইন সজিবের বলে ব্যাটিং করছিলেন রকিবুল হাসান। রকিবুলের বিপক্ষে স্ট্যাম্পিংয়ের জোরালো আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার গাজী সোহেল। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেন আবাহনীর ক্রিকেটাররা। উত্তেজিত ভাষায় কথা বলতে থাকেন অধিনায়ক তামিম এবং বচসায়ও লিপ্ত হন আম্পায়ারদের সঙ্গে। এমন উদ্ভুত পরিস্থিতি সামাল দিতে ১৭ নম্বর ওভারে মাঠে ঢুকেন ম্যাচ রেফারি এবং ফিল্ড আম্পায়ারদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর দুই আম্পায়ার মাঠ ছেড়ে বাইরে চলে আসেন। পরে অবশ্য আলোচনা করে মাঠে ফিরেন দুই আম্পায়ার এবং ডিএল মেথডে ৩৪ ওভারে ১৬০ রানের  নতুন টার্গেট দেন প্রাইম দোলেশ্বরকে। কিন্তু দোলেশ্বর জোর করে রিজার্ভ ডে থাকায় জোর করে ডিএল মেথড খেলতে রাজি হয়নি। পরে খেলা হয়নি। এ বিষয়ে ম্যাচ রেফারি মন্টু দত্ত বলেন, ‘ম্যাচ চালানো এখন আমাদের আওতার বাইরে। সিদ্ধান্ত নিবে সিসিডিএম।’ সিসিডিএমের সদস্য সচিব রাকিব পাভেল বলেন, ‘মাঠের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী ম্যাচ রেফারি, আম্পায়ারদ্বয়। আমরা কেন এই সিদ্ধান্ত নিব।’

আম্পায়ারদের সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ শুধু চলতি মৌসুমেই নয়, প্রতিটি মৌসুমেই উঠছে। তারপরও আম্পায়ারদের মাঠ ছাড়তে দেখা যায়নি কখনো। গতকাল বিকেএসপিতে যা হলো, সেটা ক্রিকেটের জন্য সত্যিই লজ্জাজনক।




up-arrow