Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৪ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ১৩ জুন, ২০১৬ ২৩:১২
তবু নির্দোষ তামিম!
ক্রীড়া প্রতিবেদক
তবু নির্দোষ তামিম!

প্রিন্ট ও টিভি মিডিয়ার সাংবাদিকদের দেখে ঘাবড়ে গেলেন আমিন খান! ঘাম ঝড়লো তার শরীর থেকে। প্রশ্ন শুনে পাল্টে গেল অবয়ব। আবাহনী-প্রাইম দোলেশ্বর ম্যাচের ভবিষ্যৎ কি? কিংবা তামিম ইকবাল, দুই আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারির কোনো শাস্তি হবে কি না? অথবা সিসিডিএমের পদে বসে থাকা কর্মকর্তাদের থাকা উচিত কি না, এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে ঘাম ছুটে যায় আমিন খানের। যদিও উত্তর দিয়েছেন। কিন্তু সবকিছুকে পাশ কাটিয়ে সিদ্ধান্তের ক্ষমতা চাপিয়ে দিয়েছেন বিসিবির ঘাড়ে। আমিন খান ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিশের (সিসিডিএম) কো-অর্ডিনেটর। নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে কাল যা বললেন, তাতে দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার তামিম ইকবালের শাস্তি হচ্ছে না। 

রবিবার বিকেএসপিতে মুখোমুখি হয়েছিল আবাহনী ও প্রাইম দোলেশ্বর। ম্যাচটির ১৫.৪ ওভারে স্ট্যাম্পিংয়ের বিষয়ে আম্পায়ারের একটি সিদ্ধান্তের বিপক্ষে প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে আবাহনীর অধিনায়ক তামিমসহ অপরাপর ক্রিকেটাররা। বিশেষ করে তামিম তেলেবেগুনে জ্বলে উঠে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন আম্পায়ারদের। আম্পায়াররা নিরাপত্তাহীনতায় ম্যাচ রেফারি মন্টু দত্তের সঙ্গে কথা বলে মাঠ ছেড়ে চলে আসেন। এরপর অনেকটা সময় খেলা বন্ধ ছিল। পরে অবশ্য আম্পায়াররা মাঠে ঢুকে দোলেশ্বরের ক্রিকেটার ও কর্মকর্তাদের কার্টেল ওভারের ম্যাচ খেলার প্রস্তাব দেন। খেলা বন্ধের সময় আবাহনীর ছুড়ে দেওয়া ১৯২ রানের টার্গেটে দোলেশ্বেরের রান ১৭ ওভারে ৫৯/২। ডিএল মেথডে দোলেশ্বরকে টার্গেট দেওয়া হয় ১৬০ রানের। অর্থাৎ পরের ১৭ ওভারে ১০১ রানের। কিন্তু দোলেশ্বর রাজি হয়নি। পরে আম্পায়াররা মাঠ ছেড়ে যান। গতকাল রিজার্ভ ডে থাকার পরও খেলা চালায়নি সিসিডিএম। রিজার্ভ ডেতে খেলা না চালানোয় বিতর্ক আরও উস্কে পড়ে। এ বিষয়ে সিসিডিএম কো-অর্ডিনেটর আমিন বলেন, ‘ম্যাচ রেফারি তার রিপোর্টে লিখেছেন, আম্পায়াররা অসুস্থ। ম্যাচ পরিচালনার মতো অবস্থায় ছিল না। পরদিনও পারবেন কিনা, এ নিয়েও ম্যাচ রেফারি সন্দিহান। এই কারণে উনি জানিয়েছেন যে খেলা চালানো যাচ্ছে না।’ অসুস্থতার কথা বলে আম্পায়াররা মাঠ ছাড়লেও তাদের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেন আমিন খান। রিপোর্টে ম্যাচ রেফারি মন্টু দত্ত ম্যাচ বন্ধ রাখার বিষয়ে আম্পায়ারদের অসুস্থতার কথা বলেন। কিন্তু কোথাও তামিম কিংবা অন্য কোনো ক্রিকেটারের আচরণ, গালিগালাজের উল্লেখ করেননি। অদ্ভূত! তামিম কিংবা অন্য ক্রিকেটারদের নাম উল্লেখ করেনি বলে তাদের কোনো ধরনের শাস্তি দেওয়া যাচ্ছে না বলেন সিসিডিএম কো-অর্ডিনেটর বলেন, ‘মাঠে কি ঘটনা ঘটেছে, আমি জানি না। আমি দেখবো ম্যাচ রেফারির রিপোর্ট। ম্যাচ রেফারির রিপোর্টে কোনো ক্রিকেটার, কোনো সমর্থকের উচ্ছৃঙ্খলতার বিষয়ে কোনো লেখা ছিল না। তিনি শুধু লিখেছেন, আম্পায়াররা অসুস্থ। আম্পায়াররা অসুস্থ থাকায় তিনি ম্যাচ স্থগিত করেছেন।’ রিপোর্টে কার ভয়ে কিছু লিখেননি ম্যাচ রেফারি, একমাত্র তিনিই ভালো জানেন। অথচ আম্পায়ারের সঙ্গে তামিম আঙ্গুল তুলে কথা বলছেন-সেটা পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে। তারপরও সিসিডিএম কো-অর্ডিনেটর বলছেন, ‘কোথায় কি আছে, সেটা বিষয় নয়। বিষয় হচ্ছে ম্যাচ রেফারির রিপোর্টে কি লেখা আছে।’

আম্পায়ারদের জন্য ম্যাচ স্থগিত। অথচ তাদের বিপক্ষে কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না সিসিডিএম। সিদ্ধান্ত নিবে বিসিবি বলেন আমিন খান, ‘আম্পায়ারদের ব্যাপারে বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা জানতে পেরেছি, দুই দল এক সময় খেলার জন্য প্রস্তুত ছিল। আম্পায়ারদের অপারগতার কারণেই খেলা হয়নি।’ আবাহনী-দোলেশ্বর স্থগিত ম্যাচের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমিন বলেন, ‘এই ম্যাচ আমরা বোর্ডের কাছে রেফার করেছি। বোর্ড সিদ্ধান্ত নিবে। আম্পায়ারদের ব্যাপারেও বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে। সামনে বাকি ম্যাচগুলো সূচি অনুযায়ী হতে থাকবে। আমরা ইতিমধ্যেই সব ক্লাবকে চিঠি দিয়ে সেটি জানিয়ে দিয়েছি।’

চেয়ারে বসে আছেন। অথচ কোনো দায়িত্ব নিচ্ছেন না। কিংবা দায়িত্ব নিয়ে কথাও বলতে চাচ্ছেন না। তাহলে সিসিডিএমের গুরুত্বপূর্ণ পদে কেন বসে আছেন? এরও উত্তর, ‘বিসিবি জানে।’ অদ্ভূত সব কার্যক্রম। শুধু থাকতে হবে, লেজুরবৃত্তি করতে হবে বলেই, নিজেদের অস্তিত্ব বিলিয়ে দিয়ে বসে আছেন চেয়ারে। আর বিসিবির দোহাই দিয়ে বাঁচিয়ে দিচ্ছেন উচ্ছৃঙ্খল ক্রিকেটারদের।




up-arrow