Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১ অক্টোবর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ১৫ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ১৪ জুন, ২০১৬ ২৩:১৮
বদলে যাবে পেশাদার লিগ
ক্রীড়া প্রতিবেদক
বদলে যাবে পেশাদার লিগ

বদলে যাচ্ছে পেশাদার ফুটবল লিগের চেহারা। তাই যদি হয় তাহলে লিগের চেহারা কেমন হবে প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে। সাইফ পাওয়ার টেক পাঁচ বছরের জন্য লিগের স্বত্ব কিনে নিয়েছে। এজন্য প্রতি বছর প্রতিষ্ঠানটি ৪ কোটি টাকা দেবে বাফুফেকে। স্পন্সর নিয়ে ফেডারেশনকে দুশ্চিন্তায় থাকতে হচ্ছে না। সংকটাপন্ন ফুটবলে সাইফ পাওয়ার টেক এভাবে এগিয়ে আসায় ধন্যবাদ পেতেই পারে। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার বলেছেন, তিনি লিগের চেহারা পাল্টে দিতে চান। ভালো কথা, কিন্তু বদলটা হবে কীভাবে? এ ব্যাপারে কেউ কিছু বলছেন না। তবে ধারণা করা হচ্ছে লিগ সেমিফাইনাল ও ফাইনাল পদ্ধতিতে হতে পারে। অর্থাৎ সর্বোচ্চ পয়েন্টধারী নয়, যারা ফাইনালে জিতবে তারাই ট্রফি ঘরে তুলবে।

এক সময় নিটল টাটা লিগ এই পদ্ধতিতে হতো। কিন্তু ওই লিগ আর পেশাদার লিগতো এক নয়। কোনো সন্দেহ নেই লিগ জমিয়ে তুলতে এ ধরনের চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত যদি তাই হয় তাহলে প্রকৃত অর্থে লিগ বলতে যা বোঝায় তা হবে কিনা। তাছাড়া এএফসি এই পদ্ধতি মেনে নেবে কিনা তা দেখার বিষয় রয়েছে।

১৯৭৬ ও ৭৭ সালে ঢাকা প্রথম বিভাগ লিগে সেমিফাইনাল ও ফাইনাল হয়েছিল। কিন্তু দুই বছর চালিয়ে বাফুফের আবার প্রকৃত লিগ পদ্ধতিতে ফিরে আসে। পেশাদার লিগ ঘরোয়া ফুটবলে সর্বোচ্চ আসর। একে বিতর্কিত করা ঠিক হবে না। বরং বাফুফের চিন্তা করা উচিত দল বাড়ানোর। ১২টি দলকে নিয়ে এত বড় আয়োজন সত্যিই বেমানান। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে দলের সংখ্যা বাড়ানোটা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

এবার শুধু ঢাকা ও চট্টগ্রাম নয়। ছয়টি জেলায় লিগ আয়োজনের চিন্তা রয়েছে। রাজশাহী, ময়মনসিংহ, সিলেট, বরিশাল, গোপালগঞ্জ যে কোনো চার ভেন্যুকে বেছে নেওয়া হতে পারে। খুবই ভালো উদ্যোগ, এটা যদি বাস্তবায়িত হয় প্রশংসিত হবে বাফুফে। তবে প্রশ্ন উঠেছে এসব জেলা লিগ আয়োজনে প্রস্তুত কিনা। বাফুফে মাঠ কমিটির চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান বাবুল ইতিমধ্যে রাজশাহী ও বরিশাল স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেছেন। তিনি প্রেস বক্সে ত্রুটি ছাড়া অন্যসব বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অর্থাৎ লিগ এখানে হতে পারে। সিলেটেও কোনো সমস্যা নেই।

অসুস্থতার কারণে বাবুল বাকি ভেন্যুতে পরিদর্শনে যেতে পারেননি। তবে তিনি যা বলেছেন তাতে অন্য ভেন্যুগুলো এক মাসে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। সব ঠিক থাকলে ১৫ জুলাই লিগের পর্দা উঠতে পারে। তা নাহলে বড় জোর এক সপ্তাহ পেছাতে পারে। বাফুফে ঘোষণা দিয়েছে লিগের অধিকাংশ খেলা ঢাকার বাইরে হবে। এখন যদি ভেন্যু প্রস্তুত না থাকে তাহলে ছয় ভেন্যুতে খেলা হবে কীভাবে? এমনিতেই পেশাদারি লিগে পেশাদারিত্ব চোখে পড়ছে না। কর্মকর্তারাও বুঝে শুনে কথা বলছেন না। বড় স্পন্সর মিলেছে এখন লিগে জৌলুস বাড়ে কীভাবে সেটাই চিন্তা করা উচিত। হুট করে এমন কোনো ভেন্যুতে খেলা দেওয়া ঠিক হবে না যেটাতে বিতর্ক বাড়ে।




up-arrow