Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১৮ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৭ জুন, ২০১৬ ২৩:৩৫
সেমিফাইনালে আরামবাগ
ক্রীড়া প্রতিবেদক
সেমিফাইনালে আরামবাগ
কোয়ার্টার ফাইনালে শেখ জামালকে হারিয়ে চমক দেখানো আরামবাগের ফুটবলারদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস —বাংলাদেশ প্রতিদিন

গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে স্বাধীনতা কাপ জয়ী চট্টগ্রাম আবাহনী ও ঐতিহ্যবাহী দল মোহামেডান। দুই পরাশক্তির বিদায়ে ওয়ালটন ফেডারেশন কাপের আবেদন কমেছে বলে যারা দাবি করেছিলেন, তাদের বাকরুদ্ধ করেছে আরামবাগ ক্রীড়া চক্র।

ফুটবলপ্রেমীদের চমকে মতিঝিল পাড়ার দলটি সাডেন ডেথে জায়গা নিয়েছে ফেডারেশন কাপের সেমিফাইনালে। প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে আরামাবাগ টাইব্রেকারে ৫-৪ গোলে হারিয়েছে হ্যাটট্রিক শিরোপা জেতার লাইনে থাকা শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবকে। নির্ধারিত সময় দুই দলের ম্যাচটি ড্র ছিল ২-২ গোলে।

চলতি মৌসুমে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে আরামবাগ। শেখ জামাল আগের দুই মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন। দুরন্ত ফুটবল খেলে এবার দাপটের সঙ্গে খেলে জায়গা করে নেয় কোয়ার্টার ফাইনালে। এবার শিরোপা জিতলেই হ্যাটট্রিক চক্র পূরণ করত দলটি। বিপরীতে মোহামডোনকে হারিয়ে চমক দেখানো আরামবাগ এবার নামছে নিজেদের প্রমাণ করতে। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে গতকাল প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে ০-২ গোলে পিছিয়েছিল আরামবাগ। এমেকা ডার্লিংটন ফেরায় শেখ জামালের শক্তি বেড়ে যায় বহুগুন। হ্যাটট্রিক শিরোপার টার্গেটে খেলতে নেমে গতকাল প্রথমার্ধেই এগিয়ে যায় দুই গোলে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত ফুটবল খেলে সমতা ফেরায় আরামবাগ। নির্ধারিত ৯০ মিনিট ২-২ গোলে সমতা থাকার পর অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের খেলায়ও গোল করতে পারেনি দুই দল। ফলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। টাইব্রেকারে প্রথম পাঁচ শটের চারটিতে উভয় দলের ফুটবলাররা গোল করেন। কিন্তু সাডেন ডেথে আরামবাগের মনসুর আমিন গোল করলেও ব্যর্থ হন কেস্ট কুমার বোস। ফলে টাইব্রেকারে ৫-৪ গোলে জিতে সেমিফাইনালে জায়গা নেয় আরামবাগ। টাইব্রেকারে আরামবাগের ইয়োকো সামনিক মিস করলেও গোল করেন ইসা ইউসুফ, সাজ্জাদুজ্জামান পলাশ, আবদুল হামিদ ভাসানী, কেস্টার আকন ও মনসুর আমিন। শেখ জামালের এমেকার ডারলিংটন, ওয়েডসেন আনসেলমে, ইয়াসিন খান ও ল্যান্ডিং ডারবো গোল করেন। মিস করেন এনামুল হক ও কেস্ট কুমার বোস।

হ্যাটট্রিক শিরোপার টার্গেটে নামা শেখ জামাল শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে থাকে। কিন্তু আরামবাগের রক্ষণাত্মক ভঙ্গির খেলার সঙ্গে পেড়ে ওঠছিল না। ২৩ মিনিটে প্রথম সাঁড়াশি আক্রমণ করে শেখ জামাল। এনামুল হোসেনের মাইনাস ওয়েডসন আনসেলমে আলগোছে বাড়িয়ে দেন আগুয়ান এমেকাকে। এমেকা অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে শট নিয়ে পরাস্ত করতে পারেননি আরামবাগের গোলরক্ষককে। এরপর ৪২ মিনিটে শেখ জামালকে এগিয়ে দেন লিঙ্কন (১-০)। বাঁ প্রান্ত থেকে ওয়েডসেনের ক্রস ছোট বক্সে দাঁড়ানো লিঙ্কন পেয়ে যান। বল ধরে মাথা ঠাণ্ডা রেখে শেখ জামালকে উচ্ছ্বাসে ভাসান। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে আরও গোল সংখ্যা দ্বিগুন করে নেয় শেখ জামাল। ল্যান্ডিংয়ের কাছ থেকে বল নিয়ে ক্ষীপ্রগতিতে আরামবাগের গোলবারে ঢুকে গোলরক্ষক মিতুল হাসানকে পরাস্ত করেন ওয়েডসেন (২-০)। দুই গোলের ব্যবধানেই বিরতির বাঁশি বাজান রেফারি। দ্বিতীয়ার্ধে গোলশোধে মরিয়া হয়ে ওঠে আরামবাগ। ৬১ মিনিটে গোল ব্যবধান কমায় মতিঝিল পাড়ার দলটি। বাঁ প্রান্ত থেকে জাফরের মাপা ক্রসে ক্যামেরুনের ফরোয়ার্ড ইয়োকো সামনিকের নিখুঁত হেড ঠিকানা খুঁজে পায় (১-২)। ওই গোলের পর নতুন উদ্যমে খেলতে থাকে আরামবাগ। ৬৯ মিনিটে সমতা আনে। সামনিকের মাইনাস ধরে কেস্টার অ্যাকন ঠাণ্ডা মাথায় শেখ জামালের গোলরক্ষক হিমেলের মাথার ওপর দিয়ে জালে ফেলেই নাচতে থাকেন (২-২)। অবশ্য ৭৪ মিনিটে এড়িয়ে যেতে পারত শেখ জামল। কিন্তু ওয়েডসেনের শট দৃঢ়তার সঙ্গে আটকে দেন মিতুল। সমতা আসার পর খোলশ ছেড়ে বেরিয়ে আসে শেখ জামাল। কিন্তু স্ট্রাইকারদের ফিনিশিংয়ের অভাবে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি গত চার আসরের তিনবারের চ্যাম্পিয়ন শেখ জামালের। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচ গড়ায়। কিন্তু তখনো গোল করতে পারেনি। ফলে টাইব্রেকারে নিস্পত্তি হয় ম্যাচের।

up-arrow