Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১ অক্টোবর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ১৯ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ১৮ জুন, ২০১৬ ২২:৪৯
পলের গোলে সেমিতে শেখ রাসেল
শেখ রাসেল ১ : ০ রহমতগঞ্জ
ক্রীড়া প্রতিবেদক
পলের গোলে সেমিতে শেখ রাসেল
রহমতগঞ্জের দুর্গে শেখ রাসেলের আক্রমণ —রোহেত রাজীব

পল এমিলি গোল দিয়েই ছুটলেন কর্নার ফ্ল্যাঙ্ক বরাবর। তার পেছনে পেছনে ছুটছেন ইকাঙ্গা, মোনায়েম খান রাজুরা। ছুটতে ছুটতে এক সময় এমিলিকেও ধরে ফেলেন রাজুরা। এরপর গোল উৎসব করতে মাটিতে শুইয়ে দেন এমিলিকে। বিপরীত চিত্র মাঠের আরেক কোনায়। অফসাইডের দাবিতে সহকারী রেফারিকে ঘিরে ধরেছেন রহমতগঞ্জের ফুটবলাররা। গোল বাতিলের দাবিতে কেউ কেউ ধাক্কাও দিচ্ছেন সহকারী রেফারিকে। কিন্তু রেফারি অনড় তার সিদ্ধান্তে। রহমতগঞ্জ যে গোলটি অফসাইড বলে বাতিলের দাবি করছিল, সেই গোলেই সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় শিরোপা প্রত্যাশী শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র। ম্যাচ শেষে রেফারি জালাল উদ্দীন গোলটিকে শতভাগ সঠিক বলেই জানান। প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে টানা দুই বারের চ্যাম্পিয়ন শেখ জামালকে হারিয়ে চমক সৃষ্টি করে আরামবাগ। দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও সমতায় ফেরে মতিঝিল পাড়ার দলটি। এরপর টাইব্রেকারে সাডেন ডেথে জিতে জায়গা করে নেয় সেমিফাইনালে। আরামবাগের পারফরম্যান্সে উজ্জীবিত হয়ে কাল খেলতে নামে দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনাল। ১০২ মিনিটের গোলে হেরে গেলেও পুরনো ঢাকার দলটি দুর্দান্ত খেলেছে এবং লড়াই করেছে সমানতালে। যদি জিতেও যেত, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকতো না। প্রথমার্ধে শেখ রাসেল ভালো খেললেও দ্বিতীয়ার্ধ ছিল রহমতগঞ্জের। দুই দলই একাধিক গোল মিস করে। ফলে গোলশূন্য ছিল নির্ধারিত ৯০ মিনিট। সেমিফাইনালে ওঠার ম্যাচটি মীমাংসা হয় অতিরিক্ত সময়ে। ম্যাচে প্রথম আক্রমণে যায় শিরোপা প্রত্যাশী শেখ রাসেল। ২৬ মিনিটে ইকাঙ্গার বাড়ানো বল ধরে অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে ফিকরুর জোরালো শট নেন। কিন্তু রহমতগঞ্জের গোলরক্ষক সামিউল ইসলাম মাসুমকে পরাস্ত করতে পারেননি। ঠিক দুই মিনিট পর মোনায়েম রাজুর ক্রস ডিফেন্ডার রফিকুর রহমানের পায়ের লেগে জালে প্রবেশের আগের মুহূর্তে লাইন থেকে বাঁচিয়ে দেন রহমতগঞ্জের অধিনায়ক শওকত রাসেল। প্রথমার্ধে উল্লেখ করার মতো আক্রমণ এই দুটোই। গোলশূন্য থেকেই প্রথমার্ধের বাঁশি বাজে।  

দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ায় পুরনো ঢাকার দলটি। শুরুতে গোল পেয়ে যাচ্ছিল। জাহাঙ্গীর আলমের আচমকা শট আটকে দেন শেখ রাসেলের গোলরক্ষক রাসেল মাহমুদ লিটন। ৬৯ মিনিটে রাজু, পল এমিলি ও ইকাঙ্গা মিলে মিশে আক্রমণ শানালেও গোল পায়নি। ৯০ মিনিটে নিশ্চিত গোল রক্ষা করেন রাসেল মাহমুদ। রাশেদ তুর্যের বাড়ানো বলে সিয়ো জুনাপিও বুক দিয়ে থামিয়ে শট নেন। কিন্তু রাসেল মাহমুদ দারুণ দক্ষতায় বাঁচিয়ে  দেন। ফলে খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে ম্যাচ মীমাংসিত গোলটি করেন পল এমিলি। কাউন্টার অ্যাটাকে গোল করে শেখ রাসেল। নিজেদের ডি বক্সের বাইরে থেকে জামাল ভূঁইয়ার লম্বা থ্রু ধরে পল এমিলি আগুয়ান গোলরক্ষক সামিউলের মাথার ওপর দিয়ে জালে ফেলেন (১-০)। গোলটির পর অফসাইডের দাবিতে সহকারী রেফারির ওপর চড়াও হন রহমতগঞ্জের কোচ কামাল বাবুসহ ফুটবলাররা। কিন্তু রেফারি কিছুই করেননি। দ্বিতীয়ার্ধে দুই হলুদ কার্ড দেখে বহিষ্কৃৃত হন আসিফ হোসেন রিমন। শেষে ১০ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলেছে রহমতগঞ্জ।

 

শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র : রাসেল মাহমুদ লিটন, নাসিরুল ইসলাম নাসির, রাশেদুল আলম মনি, জামাল ভূঁইয়া, আতিকুর রহমান মিশু, পল এমিলি, শাহেদুল আলম শাহেদ, মোনায়েম খান রাজু, আসাদুজ্জামান বাবলু, জিন ইকাঙ্গা ও ফিকরু টেফেইরা।

রহমতগঞ্জ এফসি: সামিউল ইসলাম মাসুম, রফিকুর রহমান মামুন, আসিফ হোসেন রিমন, শওকত রাসেল, নাইমুর রহমান শাহেদ, সোহেল মিয়া, দিদারুল আলম, মেহবুব হাসান নয়ন ও সিয়ো জুনাপিও।




up-arrow