Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২১ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ২০ জুন, ২০১৬ ২৩:০২
কোন পথে বিসিবি
ক্রীড়া প্রতিবেদক
কোন পথে বিসিবি

বহুল আলোচিত ‘বিতর্কিত’ দুই স্তরের নির্বাচক কমিটি বিসিবির কার্যনির্বাহী কমিটিতে ‘অনুমোদন’ পাওয়ায় প্রতিবাদে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ। ব্যক্তিগত সফরে তিনি এখন যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। দেশে ফিরেই ক্রিকেট বোর্ডে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন বলে জানিয়েছেন।

আগে জাতীয় দলে ছিল তিনজনবিশিষ্ট নির্বাচক কমিটি। যার প্রধান ফারুক, বাকি দুই নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন ও মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। এখন নির্বাচক ছয়জন। আগের তিন সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচক প্যানেলের সঙ্গে যোগ হবে ক্রিকেট পরিচালনা প্রধান আকরাম খানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটি। এখানে থাকবেন জাতীয় দলের কোচ চন্ডিকা হাতুরাসিংহে ও ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন। নির্বাচক প্যানেল দল গঠনের আগে নির্বাচক কমিটির সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং সভাপতির কাছে চূড়ান্ত পাঠানোর আগে তাদের অনুমোদন নিতে হবে। আর এই প্রক্রিয়ায় দেখা যাবে, নির্বাচক প্যানেলের তৈরি দল থেকে নির্বাচক কমিটির পছন্দ অনুযায়ী কাউকে হয়তো বাদ দিতে হবে আবার ম্যানেজার, কোচ ও ক্রিকেট পরিচালনা কমিটির পছন্দের কোনো ক্রিকেটারকে দলে নিতে হবে। এতে নির্বাচকদের দল নির্বাচনে আর অবাধ স্বাধীনতা থাকছে না।

অনেক দিন থেকেই নতুন এই কাঠামো নিয়ে সমালোচনা হচ্ছিল। কিন্তু কোনো কথা কানে না দিয়ে রবিবার বিসিবির কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। বিতর্কিত কাঠামোর অনুমোদনের পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফারুক আহমেদ মিডিয়াকে বলেছেন, ‘এই পদ্ধতিতে কাজ করা খুবই কঠিন। হস্তক্ষেপ ছাড়া কাজ করার সুযোগ দিতে হবে! কিন্তু এই পদ্ধতিতে নির্বাচকদের স্বাধীনতা থাকছে না। নতুন পদ্ধতিতে কোনোক্রমেই বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে সহযোগিতা করবে না। নির্বাচকরা দল নির্বাচন করার পর যদি সে দল নিয়ে আরেকটি কমিটির কাছে যেতে হয়, তাহলে তো নির্বাচকদের বিচারের মূল্য থাকে না।’

এখন নির্বাচক কমিটিতে সরাসরি থাকছেন দুই বোর্ড পরিচালক আকরাম খান ও খালেদ মাহমুদ সুজন। আর দুই বোর্ড পরিচালক থাকায় দল নির্বাচনে বাইরের হস্তক্ষেপটা যেন অনেকটা উন্মুক্ত করা হলো! শুধু কি তাই, খালেদ মাহমুদ সুজন আবার ঘরোয়া তিন লিগ— বিপিএল, বিসিএল ও প্রিমিয়ার লিগে কোচের দায়িত্বও পালন করেন!

এদিকে বিতর্কের পথ পরিষ্কার করতেই কিনা নির্বাচক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে হাবিবুল বাশার সুমনকে। ‘ডিমোশন’ দিয়ে বাংলাদেশের সাবেক সফল এই অধিনায়ককে দেওয়া হয়েছে মহিলা দল নির্বাচনের দায়িত্বে। অথচ নির্বাচকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মাঠে এসে খেলা দেখেছেন এই হাবিবুল বাশার সুমনই। তাকেই কিনা সরিয়ে দেওয়া হলো! আর ফারুক তো নিজে থেকেই পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। দুই সাবেক অধিনায়ক নির্বাচক প্যানেলে না থাকায় বড় একটা শূন্যতা যে সৃষ্টি হয়েছে তা তো বলার অপেক্ষা রাখে না।

ফারুক আহমেদ দ্বিতীয়বারের মতো প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব নেন ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে। এর আগে ২০০৩-২০০৭ সাল প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ফারুক দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম দিকে বাংলাদেশ ভালো করতে না পারলেও শেষ দিকে অনেক সাফল্য। জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজ জয়। ২০১৫ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল, এরপর ঘরের মাঠে পাকিস্তান, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজ জয়। এছাড়া টি-২০ ক্রিকেটে বাংলাদেশ এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠেছিল। এমন একজন সফল নির্বাচককেও সরে যেতে হলো বিতর্কিত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে!




up-arrow