Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২১ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২০ জুন, ২০১৬ ২৩:০৭
তিন খেলায় একি কাণ্ড!
ক্রীড়া প্রতিবেদক
তিন খেলায় একি কাণ্ড!

ক্রিকেট, ফুটবল ও হকি তিন বড় খেলা মাঠে। ক্রীড়াঙ্গনে এর চেয়ে বড় স্বস্তি আর কি হতে পারে। বিশেষ করে প্রায় তিন বছর পর সব দলের অংশগ্রহণে হকি লিগ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফুটবলে স্বাধীনতা কাপও হয়েছে। একই সময়ে তিন প্রধান খেলা মাঠে, তারপরও স্বস্তি বলতে যা বুঝায় তা কি পাচ্ছে দর্শকরা। তিন খেলাতেই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেই চলেছে। হকি লিগে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যা হচ্ছে তা সত্যিই অবাক করার মতো। কয়েকটি ম্যাচ ছাড়া মোহামেডানের খেলা মানেই যেন হট্টগোল। বিদেশি আম্পায়ার, তবু বিতর্কের শেষ নেই। কথায় কথায় যে কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না মোহামেডানের খেলোয়াড়রা। প্রথম পর্বে ঊষা-মোহামেডানের ম্যাচের দিন অপ্রীতিকর ঘটনার কারণে ম্যাচ শেষ হতে পরের দিন ১৮ মিনিট খেলা চালাতে হয়েছে। শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা না হলেও আম্পায়ারের সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে তা মানার মতো নয়। ফেডারেশনের ভূমিকাও রহস্যময়। বড় দল বলে তারা যেন বড় শাস্তি দিতে ভুলে গেছে। সুপারলিগ মাঠে গড়িয়েছে। প্রতিটি ম্যাচই এখন গুরুত্বপূর্ণ। এতে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

 

 

আসা যাক ফুটবলে স্বাধীনতা কাপ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। কিন্তু ফেডারেশন কাপে খেলোয়াড়দের মাথা গরম হয়ে খেলতে দেখা যাচ্ছে। রেফারির ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ। কোপা-আমেরিকা কাপে হাতে বল লাগার পরও ব্রাজিলের বিরুদ্ধে পেরু গোল দিয়েছে। আর এই বিতর্কিত গোলেই গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ফেডারেশন কাপেরও এ ধরনের শিকার হচ্ছে দলগুলো। একি ভুল না ইচ্ছাকৃত। ঘরোয়া ফুটবলে আগের সেই জনপ্রিয়তা নেই। থাকলে মাঠে যা ঘটছে তা নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড বেধে যেত। ২ গোলে এগিয়ে থেকেও কোয়ার্টার ফাইনালে আরামবাগের কাছে টাইব্রেকারে হেরে গেছে ফেবারিট শেখ জামাল। অথচ এবার তাদের হ্যাটট্রিক শিরোপা জেতার সম্ভাবনা ছিল। কোচ শফিকুল ইসলাম মানিক দাবি করেছেন আরামবাগের দ্বিতীয় গোলটি ছিল না। জালে বল জড়ানোর আগে তাদের ডিফেন্ডারকে ফাউল করা হয়। যাক ম্যাচ হারলেও এ নিয়ে শেখ জামাল সেদিন কোনো হট্টগোল করেনি। শান্তিপূর্ণভাবেই ম্যাচ শেষ হয়েছে।

 

 

ব্রাদার্স-আবাহনী ম্যাচে রেফারিকে কিল-ঘুষিও খেতে হয়েছে। ম্যাচে ১ গোলে এগিয়ে থাকার পরও ব্রাদার্স ২-১ গোলে হেরে যায়। এই জয়ে আবাহনী জায়গা করে নেয় সেমিফাইনালে। দুই গোলের ব্যাপারে ব্রাদার্সের চরম আপত্তি ছিল। প্রথমটি হ্যান্ডবল, দ্বিতীয়টি ছিল গোল লাইন ক্রস করেছে কিনা তা নিয়ে বিতর্ক। দ্বিতীয় গোলটি হলেও প্রথমটা যে ডি-বক্সে দাঁড়ানো আবাহনী খেলোয়াড়ের হাতে লাগে প্রেস বক্স থেকে দেখা গেছে। তবু রেফারির গোলের বাঁশি বাজিয়েছেন। এখানে আপত্তিটা ততটা জোরালো ছিল না। কিন্তু সানডের হেড নিয়ে যেন আবাহনী তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠে। তাদের একটাই দাবি এটা গোল নয়। কিন্তু রেফারি তার সিদ্ধান্তের অটল। এ সময় ধাক্কার পাশাপাশি রেফারিকে লাঞ্ছিত করা হয়। পরে পুলিশ প্রহরার মাঠ ছাড়েন তিন রেফারি।

আসা যাক ক্রিকেটে। হকিতে যেমন মোহামেডান। তেমনি প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে আবাহনী। এবার অধিকাংশ ম্যাচেই তারা হট্টগোল করেছে। শুধু তাই নয়, রেফারির বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও উঠেছে। এই নিয়ে আবার একটি ক্লাব আইসিসির কাছে নালিশও করেছে। এক খেলায় দেখা গেছে স্ট্যাম্প আউট হয়ে ক্রিকেটার সাজঘরে ফেরত যাচ্ছেন। তাকে আবার আউট না বলে ক্রিজে ফিরিয়ে আনছেন আম্পায়ার। যা ক্রিকেট ইতিহাসে কখনো দেখা যায়নি। সুপারলিগে আম্পায়ারের সঙ্গে তামিম কি করেছে মাঠে যারা ছিলেন তারাই দেখেছেন। পত্রিকার রিপোর্টসহ ছবিও ছাপা হয়েছে। এরপরও বিসিবি নীরব। এমনকি রহস্যজনকভাবে তামিমের বিরুদ্ধে রিপোর্টও দেননি আম্পায়াররা। কেন এমন হচ্ছে মাঠে এটাই প্রশ্ন। ঘরোয়া আসরে তিন খেলাতেই দর্শকশূন্য। এই যদি হয় অবস্থা, তাহলে কি দর্শক ফেরানো যাবে। সবচেয়ে বড় কথা এর প্রভাব তো আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পড়বে।

up-arrow