Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ২৪ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৪ জুন, ২০১৬ ০১:২১
শিরোপার স্বপ্ন আরামবাগের
আরামবাগ ৩ : ১ বিজেএমসি
ক্রীড়া প্রতিবেদক
শিরোপার স্বপ্ন আরামবাগের
ফেডারেশন কাপ সেমিফাইনালে দ্বিতীয় গোল করে এগিয়ে যাওয়ার পর বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আরামবাগ ফুটবলারদের উল্লাস —বাংলাদেশ প্রতিদিন

সকালের সূর্য দেখে দিনের পূর্বাভাস বুঝা যায়। এবার আরামবাগের শুরুটা দেখেও বুঝা যাচ্ছিল তারা এবার কিছু করতে চায়।

ফেডারেশন কাপ ফুটবলে ট্রফি জিতে তারা ইতিহাস করতে পারেনি ঠিকই, অপেক্ষায় আছে। তৃতীয় বারের মতো আসরে তারা ফাইনাল খেলার যোগ্যতা পেয়েছে। আজ শেখ রাসেল ও ঢাকা আবাহনীর বিজয়ী দলের মধ্যে শিরোপা জিততে লড়বে তারা। ট্রফি ঘরে তুললে নতুন দল হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করবে তারা। গতকাল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রথম সেমিফাইনালে আরামবাগ ৩-১ গোলে টিম বিজেএমসিকে পরাজিত করে। অথচ খেলার প্রথমার্ধে ১ গোলে পিছিয়ে ছিল তারা।

এবার দল গড়তে রীতিমতো হিমসিম খেতে হয়েছে মতিঝিল পাড়ার দলটিকে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শেষ হওয়ার পরই বাফুফে দল-বদলের তারিখ ঘোষণা করে। পেশাদার লিগে উঠে খেলোয়াড় সংগ্রহের জন্য পর্যাপ্ত ফান্ড ছিল না তাদের। অচেনা তরুণদের নিয়ে কোনোভাবে দল গড়ে তারা। স্বাধীনতা কাপে গ্রুপ পর্বে খেলেই বিদায় নিয়েছিল। ফেডারেশন কাপে রীতিমতো ম্যাজিক প্রদর্শন। গ্রুপ-এ তে প্রথম ম্যাচে ঢাকা আবাহনীকে হারায়। পরের ম্যাচে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ফেনী সকারের সঙ্গে জেতা ম্যাচ ড্র করে। এতেই বুঝা যাচ্ছিল আরামবাগ অনেক দূর যাবে। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিপক্ষ শেখ জামাল হওয়ায় অনেকে ধরে নিয়েছিল আরামবাগের বিদায় নিশ্চিত। সেই ম্যাচে প্রথমার্ধে ২-০ গোলে পিছিয়ে যাওয়ায় অনেকে জামালের জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে উঠে। মনে জেদ ও কমিটমেন্ট থাকলে সব ভয়কে জয় করা যায় তা আরামবাগ দেখিয়েছে। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে সমতা ফেরায়। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে জয়ী হয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেয়। সত্যি কথা বলতে কি গতকাল ম্যাচ জেতার সম্ভাবনা ছিল ফিফটি-ফিফটি। কেননা আরামবাগ ও বিজেএমসি প্রায় সমমানের দল। ৩৮ মিনিটে ডিফেন্ডারদের ভুলে গোল খেয়ে যায় আরামবাগ। বিজেএমসির জিকু গোলটি করেন। প্রথমার্ধে আর কোনো গোল হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধে শুরু থেকে গোল শোধের জন্য মরিয়া হয়ে খেলতে থাকে। ৬৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে সমতা ফেরান ক্রেস্টার আকন্দ। ৬৯ মিনিটে তিনি আরেকটি গোল করলে আরামবাগের উল্লাস আর দেখে কে? কিছুক্ষণ পরই পেনাল্টি পায় বিজেএমসি। গোল আর শোধ হয়নি। ইনজুরি টাইমে গোল দিয়ে আরামাবাগের ফাইনাল নিশ্চিত করেন জাফর। যোগ্যতা প্রদর্শন করেই ফাইনালে  উঠল আরামবাগ। এখন তারা শিরোপার স্বপ্ন দেখতেই পারে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow