Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ মার্চ, ২০১৭

প্রকাশ : শনিবার, ২৫ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৫ জুন, ২০১৬ ০০:০৯
আবাহনী-আরামবাগ ফাইনাল
ক্রীড়া প্রতিবেদক
আবাহনী-আরামবাগ ফাইনাল
শেখ রাসেলের গোলবার লক্ষ্য করে সাইড ভলি নিচ্ছেন আবাহনীর সানডে চিজোবা —বাংলাদেশ প্রতিদিন

ফের সেমিফাইনালের গণ্ডি পেরোতে পারল না শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র। পারল না মৌসুমের দ্বিতীয় টুর্নামেন্ট ওয়ালটন ফেডারেশন কাপের ফাইনালে উঠতে। স্ট্রাইকারদের ফিনিশিংয়ের অভাবে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে শেখ রাসেল ১-২ গোলে হেরেছে আবাহনীর কাছে। সোমবার ফাইনালে আবাহনীর প্রতিপক্ষ আরামবাগ ক্রীড়া চক্র। মতিঝিলপাড়ার দলটি ১৫ বছর পর ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ৩-১ গোলে টিম বিজেএমসিকে হারিয়ে। মৌসুমের প্রথম টুর্নামেন্ট স্বাধীনতা কাপের সেমিফাইনালে শেখ রাসেল টাইব্রেকারে হেরেছিল চট্টগ্রাম আবাহনীর কাছে। এবার হারল ঢাকা আবাহনীর কাছে।

গোড়ালির আঘাত মারাত্মক হওয়ায় গতকাল মাঠে নামতে পারেননি আবাহনীর ইংলিশ মিডফিল্ডার লি টাক। তার জায়গায় টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো খেলতে নামেন কামারা সাররা। খেলতে নেমেই বাজিমাত করেন সেনেগালের স্ট্রাইকার কামারা। গোল করে দলকে ফাইনালে তুলতে নেতৃত্ব দেন।  

প্রথম সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছিল দিনের আলোয়। গতকাল ম্যাচটি মাঠে গড়ায় ইফতারের পর। ফাইনাল অবশ্য সোমবার দুপুর সাড়ে ৩টায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজতেই আক্রমণে যায় শেখ রাসেল। দলটির ইথিওপিয়ান স্ট্রাইকার ফিকরু টেফেইরা বল নিয়ে ঢুকে পড়েন আবাহনীর রক্ষণভাগে। শেষ ডিফেন্ডার সামাদ ইউসুফকে ডজ দিয়ে শট নেন ফিকরু। কিন্তু বল গোলরক্ষক শাহেদকে পরাস্ত না করে বার পোস্টের খুব কাছে দিয়ে বাইরে চলে যায়। খেলার ৫ মিনিটে প্রথম আক্রমণে যায় আবাহনী এবং তাতে গোলও পায়। বাঁ প্রান্ত থেকে ওয়ালি ফয়সালের ফ্রি-কিক ভেসে আসে রাসেলের ডি-বক্সে। আবাহনীর স্ট্রাইকার সানডে চিজোবা তড়িত্ গতিতে ছিটকে বেরিয়ে বুক দিয়ে বল থামিয়ে ডান পায়ে ভলি নেন। বক্সে দাঁড়ানো কামারা সাররা লাফিয়ে হেডে দলকে উত্সবে মাতান (১-০)। ৮ মিনিটে আবারও গোল পেতে যাচ্ছিল আবাহনী। কামারা সাররার থ্রু পাস পরাস্ত করে রাসেলের রক্ষণভাগকে। ফল পেয়ে যান সানডে। বল ধরে সানডে কোনাকুনি প্লেসিং শটে দলকে উপহার দিতে চেয়েছিলেন দ্বিতীয় গোল। কিন্তু বল জালে প্রবেশ না করে চলে যায় সাইডবার ঘেঁষে বাইরে। ৩৮ মিনিটে ফের সানডে-কামারা কম্বিনেশন। আবারও গোলের সম্ভাবনা জাগে। সানডে ছোট বক্সের কোনা থেকে আড়াআড়ি পাস দেন কামারাকে। কামারা শট নেন। কিন্তু শেখ রাসেলের গোলরক্ষক রাসেল মাহমুদ লিটন পা দিয়ে বলের গতিপথ পরিবর্তন করেন। ফলে গোল হয়নি। প্রথমার্ধ শেষ হয় ওই এক গোলেই।

পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু করে শেখ রাসেল। সমতা আনতে মরিয়া হয়ে ওঠে। ৬৩ মিনিটে সমতা আনে দলটি। ক্যামেরুনিয়ান স্ট্রাইকার পল এমিলি ও মিডফিল্ডার রুম্মান হোসেন ওয়ান-টু-ওয়ান করে ঢুকে পড়েন আবাহনীর রক্ষণভাগে। এরপর ঠাণ্ডা মাথায় প্লেসিং শটে সমতা আনেন (১-১)। কিন্তু বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি রাসেলের সমতায় ফেরার আনন্দ। ৬৮ মিনিটে সানডে চিজোবা অসাধারণ দক্ষতায় ডি বক্সের মাথা থেকে ডান পায়ের বাঁকানো শটে বোকা বানান লিটনকে (২-১)। ওই গোলের পর আবাহনীর কোচ জর্জ কোটান রক্ষণভাগকে শক্ত করে ফেলেন। বিপরীতে শেখ  রাসেল আক্রমণের গতি বাড়িয়েও আর গোলের দেখা পায়নি। ফলে হেরেই বিদায় নিতে হয় টুর্নামেন্ট থেকে।

আবাহনী এ নিয়ে নবমবার ফেডারেশন কাপের ফাইনালে উঠল। আরামবাগ উঠল তৃতীয়বার।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow