Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : রবিবার, ২৬ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৬ জুন, ২০১৬ ০০:০৪
মেসিদের স্বপ্নপূরণের দিন
রাশেদুর রহমান
মেসিদের স্বপ্নপূরণের দিন

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে ৮২ হাজার ৫৬৬ জন দর্শকের বসার ব্যবস্থা আছে। নিউইয়র্ক জায়ান্ট আর নিউইয়র্ক জেটের ডার্বি হলে এ মাঠে আসন পাওয়ার জন্য রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়। আগামীকাল সকালেও নিউ জার্সির এ স্টেডিয়ামে ভিড় লেগে থাকবে। কোপা আমেরিকার শতবার্ষিকী টুর্নামেন্টের ফাইনালে আর্জেন্টিনা-চিলি দ্বৈরথ দেখার লোভে কেবল নিউজার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডেই নয়, ফুটবলভক্তরা ভিড় জমাবেন দুনিয়াজুড়ে টিভি সেটের সামনে। আর আকাশি-সাদা জার্সি গায়ে জোর গলায় গাইবেন ‘ভামোস, ভামোস আর্জেন্টিনা’ (চল, চল আর্জেন্টিনা)।

অমরত্বের পথে লিওনেল মেসিকে পেলে-ম্যারাডোনার কাতারে শামিল হতে এবারের কোপা আমেরিকা জয়ের বিকল্প নেই। মেসি অসাধারণ ফুটবল খেলছেন। এরই মধ্যে তিনি কোপা আমেরিকার সেরা ফুটবলার হিসেবে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। গোল করছেন। সতীর্থদের দিয়ে করাচ্ছেন। ফুটবলীয় ব্যাকরণে অসম্ভব সংজ্ঞাগুলোকেও বাস্তবে রূপ দিচ্ছেন। একের পর এক ছাড়িয়ে যাচ্ছেন মাইলফলক। কিন্তু এসবে কী আর মন ভরে! শিরোপাহীন মেসির হৃদয়ের দহন যন্ত্রণা কমতে পারে কেবল এবার কোপা আমেরিকা জিতলেই। মেসি অবশ্য মুকুট পড়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন পুরোপুরি। দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘শিরোপা ছাড়া ফিরে এসো না’ বক্তব্য মেসিদের গায়ে যেন আগুন জ্বেলে দিয়েছেন। মেসি ছাড়াও এ আগুন জ্বলছে হিগুয়েন, আগুয়েরো, লেভেজ্জি, রোহো, ডি মারিয়াদের হৃদয়ে। গত কোপা আমেরিকার ফাইনালে মেসিদের হারিয়ে শিরোপা জেতা চিলিয়ানরা কী এবার আর্জেন্টাইনদের এ আগুনেই পুড়বে নাকি! মেসি বলছেন, ‘একটা দল হিসেবে আমরা নিজেদেরকে গড়ে তুলেছি। এটাই আমাদের শক্তি। এখনো পর্যন্ত আমরা দুর্দান্ত ফর্মে আছি। ফাইনালে এ ফর্মটাই আমাদের আবারও দেখাতে হবে। ’ সেমিফাইনাল পর্যন্ত মেসিরা কোপা আমেরিকায় মোট ১৮টা গোল করেছেন। তবে চিলিও তো কম নয়। সবমিলিয়ে তারাও ১৬টা গোল করেছে! মেক্সিকোর মতো দলকে ৭ গোল দেওয়া সহজ কাজ ছিল না। চিলি এই কঠিন কাজটাই করে দেখিয়েছে। মেসি বলছেন, ‘(চিলির) এই দলটা দুর্দান্ত। আপনাকে তারা খেলতেই দিবে না। পায়ে বল থাকলে অসাধারণ খেলে তারা। ’ তাই বলে চিলিকে নিয়ে মোটেও চিন্তিত নন আর্জেন্টাইন জাদুকর। চাপমুক্ত হয়ে নির্ভার থেকে খেলতে চান এ বার্সা তারকা। মেসিদের এ দহন যন্ত্রণা চিলিকে পোড়াতে পারে নিষ্ঠুরভাবে। তাছাড়া প্রতিশোধের ব্যাপারও তো আছে! মুখে মেসিরা যতই বর্ণনা করুক, এ ম্যাচে প্রতিশোধের কোনো কিছু নেই। তারপরও গত কোপা আমেরিকা ফাইনালে চিলির কাছে পরাজয়ের দুঃসহ যন্ত্রণা ভুলতে এবারের ফাইনাল জয় তো অপরিহার্যই!

ফাইনালে লড়াইটা হবে আর্জেন্টিনা-চিলির। তবে মূল লড়াইয়ের মধ্যে থাকছে অনেক খণ্ডযুদ্ধ। যেমন মেসি-সানচেজ, হিগুয়েন-ভারগাস, রোহো-ভিডাল লড়াইগুলো দর্শকদের জন্য উপভোগ্য হয়ে উঠবে। এ দ্বন্দ্ব যুদ্ধে বিজয়ীরাই শিরোপা উৎসব করবে কোপা আমেরিকায়। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই কেবল নয়, চিলিয়ানরা এবারের কোপা আমেরিকায় একমাত্র আর্জেন্টিনার কাছে পরাজয় ছাড়া বাকি ম্যাচগুলোতে খেলেছে দুর্দান্ত। অতীত পরিসংখ্যান আর্জেন্টিনার পক্ষে থাকলেও তাই ম্যাচটাকে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে আলবেসিলেস্তরা। এর আগে কোপা আমেরিকায় দুবার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। ১৯৫৫ সালে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। আর গতবার জিতল চিলি। এবার কে? লিওনেল মেসির সম্ভবত কোপা আমেরিকা জয়ের এটাই শেষ সুযোগ। ২৮ বছরের মেসির জন্য তিন বছর পরের (২০১৯ সালে) কোপা আমেরিকায় ফর্ম ধরে রাখা কতোটা সম্ভব হবে কে জানে!

up-arrow