Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৮ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৮ জুন, ২০১৬ ০০:০২
আরামবাগের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন আবাহনী
ক্রীড়া প্রতিবেদক
আরামবাগের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন আবাহনী
ফেডারেশন কাপের শিরোপাজয়ী আবাহনী —বাংলাদেশ প্রতিদিন

শুধু লিওনেল মেসি নন, গোটা বিশ্বই (চিলি বাদে) মনে-প্রাণে চাচ্ছিল কোপা আমেরিকার শিরোপাটা যেন আর্জেন্টিনা জিতে নেয়। মেসি তার সর্বস্ব উজার করে খেলেন। কিন্তু ভাগ্য সহায় না থাকায় স্বপ্ন ভঙ্গ হয় মেসিসহ গোটা আর্জেন্টিনার। কোপা আমেরিকার শতবর্ষীয় আসরের শিরোপা জেতা হলো না মেসি, ম্যারডোনার আর্জেন্টিনার। মেসিদের কাঁদিয়ে টানা দ্বিতীয় শিরোপা জিতে নেয় অ্যালেক্সি সানচেজের চিলি। শিরোপা জিততে না পেরে মনের কষ্টে, দুঃখে আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সিকে বিদায় জানিয়েছেন মেসি। মেসির অবসর, আর্জেন্টিনার শিরোপা জিততে না পারা এবং চিলির চ্যাম্পিয়ন হওয়া- এসব এখন ফুটবল বিশ্বের মূল আলোচিত বিষয়। বাংলাদেশের ক্রীড়াপ্রেমীরাও ব্যস্ত কাটাছেঁড়ায়। কোপা আমেরিকা নিয়ে যখন গোট বিশ্ব উত্তাল, তখন বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আরামবাগের ইতিহাস গড়ার স্বপ্নকে বুড়িগঙ্গার জলে ভাসিয়ে ফেডারেশন কাপের শিরোপা জিতে নেয় আবাহনী। মতিঝিল পাড়ার দলটিকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফেডারেশন কাপের নবম শিরোপা জিতেছে আকাশি-হলুদ শিবির। ফেডারেশন কাপের ২৬ আসরে সর্বোচ্চ ১০ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মোহামেডান। আবাহনী ফেডারেশন কাপে সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ২০১০ সালে। আরামবাগ ১৯৯৭ ও ২০০১ সালে ফাইনাল খেললেও রানার্স আপেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল। ১৫ বছর পর তৃতীয়বারের ফাইনালে উঠে আরামবাগ স্বপ্ন দেখেছিল ইতিহাস গড়ার। লিগ পর্ব থেকে শুরু করে সেমিফাইনাল পর্যন্ত যে দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছে দলটি, তাতে স্বপ্ন দেখাই স্বাভাবিক। কিন্তু জর্জ কোটানের আবাহনীর বিপক্ষে তাল মিলিয়ে লড়তে পারেনি। তাই কাছে এসেও শিরোপা জেতা হয়নি। আর্জেন্টিনার মতো ব্যর্থ মনোরথেই ফিরতে হয়েছে। সে সঙ্গে ন্যূনতম ব্যবধানে জিতে লিগ পর্বে হারে প্রতিশোধ নিল আবাহনী। পাঁচ বছর আগে ২০১০ সালে ফেডারেশন কাপ এবং ২০১১-১২ মৌসুমে বাংলাদেশ মৌসুমের শিরোপা জেতা আবাহনী গতকাল শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। ইনজুরির জন্য সেমিফাইনালে খেলেননি ইংলিশ মিডফিল্ডার লি টাক। কাল তিনি ফেরায় আবাহনীর আক্রমণভাগ অনেক বেশি গতিশীল ফুটবল খেলে। লি টাক- সানডে চিজোবা-জুয়েল রানাদের সাঁড়াশি আক্রমণে আবাহনী প্রথম গোল পায় ১১ মিনিটে। তবে আবাহনী প্রথম আক্রমণে যায় ৬ মিনিটে। সানডের হেড আরামবাগের গোলরক্ষক মিতুল লাফিয়ে রক্ষা করেন। ফিরতি বলে হেড করেন জুয়েল রানা। কিন্তু এবার প্রতিরোধের দেওয়াল গড়ে দেন মিতুল। ৮ মিনিটে লি টাকের ফ্রি কিকে হেড করেন জুয়েল এবারও ত্রাতা মিতুল। অবশেষে ১১ মিনিটে বহু আরাধ্য গোল পায় আবাহনী। নাবিব নেওয়াজ জীবনের বাড়ানো বল ডি-বক্সের ভিতর ধরে মাপা শটে আবাহনীকে এগিয়ে দেন লি টাক (১-০)। ফেডারেশন কাপে ইংলিশ ফুটবলারের দ্বিতীয় গোল এটি। প্রথমার্ধে এই এক গোলই হয়। দ্বিতীয়ার্ধে আরামবাগ মরিয়া হয়ে উঠে গোল পরিশোধে। কিন্তু কোটানের স্ট্যাটেজিকে কোনোভাবেই পরাস্ত করতে পারেনি। ৫১ মিনিটে জাফরের শট দৃঢ়তার সঙ্গে রক্ষা করেন আবাহনীর গোলরক্ষক শাহেদুল আলম শাহেদ। ফলে আর গোলের দেখা পায়নি আরামবাগ। এতে একঝাঁক হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় আরামবাগকে। মৌসুমের প্রথম টুর্নামেন্ট স্বাধীনতা কাপের ফাইনালে উঠেছিল আবাহনী। কিন্তু চট্টগ্রাম আবাহনীর কাছে হেরে রানার্স আপেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় আকাশি-হলুদ শিবিরকে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow