Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ জুলাই, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ জুলাই, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ৪ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৪ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০
টাইব্রেকারে ইতালিকে হারিয়ে সেমিতে জার্মানি
ইউরোতে এক মিনিট নীরবতা
ক্রীড়া ডেস্ক
টাইব্রেকারে ইতালিকে হারিয়ে সেমিতে জার্মানি
গুলশানে বীভৎস হামলায় ইতালির ৯ জন নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শোকাহত পুরো বিশ্বই। ব্যথিত জিয়ানলুইগি বুফনরা, ইউরো কাপে জার্মানির বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের আগে কালো ব্যাজ পরে এক মিনিট নীরবতা পালন করছেন। তাদের সঙ্গী হয়েছিল জার্মানরাও —এএফপি

জিয়ানলুইগি বুফনের রিফ্লেক্স অ্যাকশন সেকেন্ডের ভগ্নাংশ কম হওয়ায় হেকটরের বুলেট গতির পেনাল্টি শটে বল গিয়ে ঠেকল জালে। অথচ বুফন ঠিক লক্ষ্যেই ঝাঁপ দিয়েছিলেন। ব্যর্থ ইতালিয়ান গোলরক্ষককে পেছনে ফেলে ম্যানুয়েল নিউয়ার ছুটলেন সতীর্থদের কাছে বিজয়ের উৎসবে মেতে উঠতে। সঙ্গী হলেন হেকটর। মাঝ-মাঠে শুরু হলো জার্মানির বিজয়োৎসব। বুফন ততোক্ষণে আপন কাজে মনোনিবেশ করেছেন। বুকের ব্যথা বুকে লুকিয়ে সতীর্থদের শান্ত্বনা দিতে লাগলেন তিনি। সঙ্গে জার্মানিদের অভিনন্দন জানানোর কাজটাও সেরে নিলেন। তরুণ ইতালিকে নিয়ে ইউরো কাপ জয়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন বুড়ো বুফন। কিন্তু তা আর হলো কই। ১৮ শটের এক ম্যারাথন টাইব্রেকারে ৬-৫ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেই বিদায় নিতে হলো ইতালিকে। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচটা ১-১ গোলে ড্র ছিলো। মেসুট অজিলের ৬৫ মিনিটের গোল এগিয়ে দিয়েছিলো জার্মানিকে। তবে বনুচ্চির ৭৮ মিনিটের পেনাল্টি গোল সমতায় ফেরায় ইতালিকে।

পেনাল্টি থেকে গোল করে বনুচ্চির উল্লাসটা একটু বাড়াবাড়ি রকমেরই হয়ে গিয়েছিলো। জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নিউয়ার বিষয়টা মোটেও পছন্দ করেননি। ম্যাচটা টাইব্রেকারে গড়াতেই সিদ্ধান্ত নিলেন, বনুচ্চিকে গোল করতে দিবেন না। বনুচ্চি টাইব্রেকারে শট নিতে এলেন পাঁচ নম্বরে। নিউয়ার তার দূরন্ত শটটা ফিরিয়ে রুখে দেন। যেমনটা বলছিলেন ম্যাচ শেষে, ‘আমি দ্বিতীয়বার বনুচ্চিকে গোল করতে দিতে চাইনি। ’ মূলত বনুচ্চির গোলটা রুখে দেওয়ার পরই জার্মানির সামনে জয়ের পথ খুলে যায়। এ কারণে ম্যাচ সেরার পুরস্কারটাও জিতেছেন ম্যানুয়েল নিউয়ারই। ১২০ মিনিটের ম্যাচটা দুই দলই খেলেছে সমানতালে। বল দখলের লড়াইয়ে জার্মানি ৬২-৩৮ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও আক্রমণের দিক থেকে দুই দলই ছিলো শেয়ানে-শেয়ানে। দুই পক্ষের আক্রমণই অবশ্য প্রতিপক্ষের ডিফেন্স লাইনে গিয়ে মুখ থুবড়ে পরেছে। ইতালি এবং জার্মানি দুই দলই দেখিয়েছে তাদের ‘চ্যাম্পিয়ন রূপ’। সেমিফাইনাল নিশ্চিত করা জার্মানিকে শিরোপাবঞ্চিত রাখা যে কোনো দলের পক্ষেই এবার কঠিন হবে। সেমিফাইনালে জার্মানরা মুখোমুখি হতে পারে স্বাগতিক ফ্রান্সের (ফ্রান্স-আইসল্যান্ডের ম্যাচে এতক্ষণে অবশ্য নিশ্চিত হয়ে গেছে সেমিফাইনালের প্রতিপক্ষ)।

ঢাকায় নয় জন ইতালিয়ান নাগরিকের মৃত্যূ-শোকে কাতর ছিলেন বুফনরা। ম্যাচ শুরুর আগে কালো ব্যাজ হাতে বেঁধে শোক প্রকাশ করেছিলেন এক মিনিট নিরব থেকে। এর মধ্য থেকে তারা খুঁজছিলেন জার্মানিকে হারানোর প্রত্যয়। কিন্তু তা আর হলো না। বড় টুর্নামেন্টে ইতালির বিপক্ষে জয় না পাওয়ার দুঃখ কিছুটা হলেও ভুলল জার্মানি। অবশ্য ফিফার খতিয়ানে এবারের জয়টাকেও ড্র হিসেবেই লেখা হবে। তবে জয় তো জয়ই। জার্মানির এ জয় কাঁদাল ইতালির ‘লৌহ প্রাচীর’ বুফনকেও। তবে কেঁদেও নিজেকে গর্বিত মনে করছেন ২০০৬ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন। বলছেন, ‘আমার এ কান্না হতাশা থেকে এসেছে। আমরা যেভাবে পনুর্জাগরণ এনেছিলাম তা ছিলো সত্যিই এক অসাধারণ ব্যাপার। ’ অন্যদিকে শিষ্যদের সত্যিকারের লড়াকু বলে প্রসংশা করেছেন জার্মান কোচ জোয়াকিম লো। ‘এক জন যোদ্ধার দৃষ্টিতে বলতে পারি, যেভাবে ওরা ফিরে এসেছে এটা ছিলো সত্যিই অসাধারণ এক লড়াই। ’ ম্যাচের পর এমনটাই বলেছেন জার্মানির কোচ।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow