Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১২ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১১ জুলাই, ২০১৬ ২৩:৫১
মেসিকে ছাপিয়ে রোনালদো
আসিফ ইকবাল
মেসিকে ছাপিয়ে রোনালদো

৪৮ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার ফরাসি বিপ্লব পা রাখবে ২২৭ বছরে। ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই পতন হয়েছিল বাস্তিল দুর্গের। এরপর থেকে দিনটি পালিত হয় ফরাসি জাতীয় দিবস, বাস্তিল দুর্গ পতনের দিবস নামে। দিনটি উপলক্ষে গোটা প্যারিস সেজেছে বর্ণিল সাজে। এবারের সাজটা একটুু বেশিই। ফরাসি জাতীয় দিবস, বাস্তিল দুর্গের পতনের দিনের পাশপাশি ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপও আরেকটি উপলক্ষ। পর্তুগালকে হারিয়ে প্রিয় ফ্রান্স তৃতীয়বারের মতো ইউরো সেরা হওয়ার স্বপ্নে যখন স্বর্ণালি অপেক্ষায় ফরাসিরা, তখন ফরাসিদের স্বপ্নের কফিনে পেরেক ঠুকে দেয় পর্তুগাল। ১২০ মিনিটের ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে ইউরো সেরার মুকুটা নিজেদের করে নেয় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। একই সঙ্গে অধরা স্বপ্নেরও দেখা পায় দেশটি। বহু আকাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের দেখা পান ‘সিআর সেভেন’ রোনালদো। তিনবারের বিশ্বসেরা ফুটবলার রোনালদো গত এক যুগ ধরে যে স্বপ্নটি দেখে আসছিলেন, রবিবার রাতে তার দেখা পান। প্রথমবারের মতো ইউরো সেরার ট্রফিটি তুলে ধরে গগন পানে। সেন্ট ভেনিসের ‘স্ট্যাড দ্য ফ্রান্সে’ ট্রফিটি উঁচিয়ে বিশ্ববাসীকে জানান দেন বর্তমান ফুটবল বিশ্বের তিনিই এখন সেরা। তিনিই এখন অবিসংবাদিত ফুটবলার।

বিশ্ব ফুটবলের দুই তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং লিওনেল মেসি। ফুটবলপ্রেমিকরা বিভাজিত দুই তারকাকে নিয়ে। কারও মতে বিশ্বসেরা ফুটবলার মেসি, কেউ বলেন রোনালদো। দুজনই পরোক্ষভাবে প্ররোচিত করেন বিশ্বসেরার লড়াইটাকে। সমীকরণ ও পরিসংখ্যানে ইউরো ফাইনালের আগ পর্যন্ত এগিয়ে ছিলেন আর্জেন্টাইন সুপার স্টার মেসি। পাঁচবারের বিশ্বসেরা ফুটবলার ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলেছেন। কোপা আমেরিকার ফাইনাল খেলেছেন ২০০৭, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে। চার বার বড় মঞ্চের ফাইনাল খেললেও অধরা শিরোপার স্বাদ পাননি। এবার ফেবারিট হয়েও টাইব্রেকারে চিলির কাছে হেরে রানার্স আপেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় বার্সেলোনার তারকা মেসিকে। শিরোপা জিততে না পারার হতাশায় জাতীয় দলকে বিদায় বলে দেন মেসি।

রোনালদো তিনবারের বিশ্বসেরা ফুটবলার। রিয়ালের তারকা ফুটবলার বিশ্বকাপ ফুটবল খেললেও ফাইনালের বেঞ্চমার্ক স্পর্শ করতে পারেননি। ২০০৪ সালের পর ২০১৬ সালে ফের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলেন রোনালদো। এক যুগ আগে ১৯ বছরের তরুণকে সেবার ফাইনাল খেলেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল। রানার্স আপ হলেও সেবার চোয়ালবাঁধা প্রতিজ্ঞা করেছিলেন ইউরো সেরার ট্রফি ধরার। অবশেষে এক যুগের অপেক্ষায় সেই অপূর্ণ স্বাদের পূর্ণতা পেল। যদিও ফাইনালের পুরোটা সময় খেলতে পারেননি। ইনজুরির জন্য ২৪ মিনিটে মাঠ ছাড়েন। কিন্তু তিনি না খেললেও পুরোটা সময় পর্তুগিজ খেলোয়াড়দের মনের সঙ্গে ছিলেন। নানি, এডার, সাঞ্চেজ, পেপেরা প্রাণ উজার করে খেলেছেন প্রিয় রোনালদোর জন্য। দাঁতে দাঁত কামড়ে লড়াই করেছেন গ্রিজম্যান, পগবা, জিরোওদদের বিপক্ষে। অবশেষে ১০৯ মিনিটের গোলে জিতে নেন ইউরো সেরার খেতাব। ম্যাচ শেষে ফরাসিদের কাঁদিয়ে রোনালদোরা মেতে উঠেন বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে। ১২ বছর আগের কান্নাকে আনন্দে রূপ দিতে পেরে উচ্ছ্বসিত রোনালদো, ‘ইউরো সেরা হতে পেরে আমি সত্যিই খুব খুশি। এই উপলক্ষটির জন্য ২০০৪ সাল থেকে অপেক্ষা করেছি। আমি ঈশ্বরকে বলেছিলাম, তিনি যেন আমাদের আরও একটা সুযোগ দেন। তিনি দিয়েছেন। ইউরোর সাফল্য পর্তুগালের লোকদের প্রাপ্য। পর্তুগালের খেলোয়াড়দের প্রাপ্য। ’

ইউরো চ্যাম্পিয়ন হয়ে রোনালদো দেখা পেলেন তার বহু আকাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের। পেছনে ফেললেন সব সমালোচনাকে। মাটিচাপা দিলেন বিশ্বসেরা লড়াইটাকে। ইউরো সেরার খেতাবই এখন রোনালদোকে এগিয়ে রাখল মেসি থেকে।  

up-arrow