Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বুধবার, ১৩ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১২ জুলাই, ২০১৬ ২৩:২৬
আমার জীবনে সবচেয়ে বড় অর্জন
আমার জীবনে সবচেয়ে বড় অর্জন
অলিম্পিকে সিদ্দিকুর

বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো রিও অলিম্পিকে যুক্ত হয়েছে অভিজাত খেলা গলফ। সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশের সেরা গলফার সিদ্দিকুর রহমান। সরাসরি পদকের জন্য লড়াই করবেন তিনি। এশিয়ান ট্যুরের দুই দুটি শিরোপা জয়ী এই গলফার অলিম্পিকে অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়াকেই ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন বলে মনে করছেন। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের মুখোমুখি হয়েছিলেন সিদ্দিকুর। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মেজবাহ্-উল-হক

 

প্রশ্ন: প্রথমবারের মতো অলিম্পিকে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে গলফ। আর প্রথম আসরেই আপনি অংশ নিচ্ছেন! যেখানে বিশ্বের অনেক তারকা গলফারও অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না! রিও অলিম্পিকে খেলার সুযোগ পেয়ে কেমন লাগছে আপনার?

 

সিদ্দিকুর রহমান : অনেক ভালো লাগছে। আমি ভীষণ খুশি। সত্যিই আমি গর্ব বোধ করছি। বলতে গেলে, আমাদের দেশে গলফ একটা নতুন ইভেন্ট। পরিচিতি খুব বেশি নয়। আমাকে দিয়েই শুরু। আমাদের জাতীয় দল দিয়ে শুরু। গফলের সাফল্য এসেছে হাতে গোনা কয়েক বছরে। অল্প সময়ে আমরা অনেক অর্জন করেছি। অলিম্পিকে খেলার সুযোগ পাওয়াটা আমার জীবনে সবচেয়ে বড় অর্জন। আমাদের দেশের একটা বড় অর্জন। বাংলাদেশের গলফে আমরা এক ধাপ এগিয়ে গেলাম।

 

প্রশ্ন: অলিম্পিকের চূড়ান্ত পর্বে খেলার খবরটা কখন পেয়েছেন। অবাক লেগেছে কিনা?

 

সিদ্দিকুর : গতকাল (সোমবার) রাতে হঠাৎ খবরটা পেয়েছি। শুনে আমি অভিভূত। ডিনারের পূর্ব মুহূর্তে খবরটা পাওয়ার পর আমি খুব এক্সসাইটেড হয়ে পড়েছিলাম। এখন ফ্যানপেজে অগণিত ভক্তের সাড়া আমাকে দারুণভাবে উৎসাহ দিচ্ছে। ভালো কিছু করার অনুপ্রেরণা পাচ্ছি।

 

প্রশ্ন: চূড়ান্ত পর্বে খেলার জন্য মনোনীত হয়েছেন, এখন আপনার স্বপ্ন কি?

 

সিদ্দিকুর : আসলে টার্গেট করে গলফে কোনো কিছু অর্জন করা কঠিন। একটা ভালো সুযোগ পেয়েছি, সেটা কাজে লাগাতে চাই। এখন অলিম্পিককে অনুসরণ করে আমি যদি ভালো অনুশীলন করতে পারি, সুস্থ থাকতে পারি, আশা করছি ওখানে গিয়ে আমি অনেক ভালো করতে পারবো। যদি নিজের সেরাটা দিতে পারি, তাহলে একটা সম্মানজনক স্থানে থেকে শেষ করতে পারবো।

 

প্রশ্ন: বাংলাদেশ অন্যান্য ইভেন্টে অনেক আগে থেকে অংশগ্রহণ করলেও কোনো পদক জিততে পারেনি। এমন আসল ইভেন্টে অংশগ্রহণের আগে বাছাইয়েই বাদ পড়ে যায়। আপনিই প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অলিম্পিকের চূড়ান্ত পর্বে খেলবেন। তাই আপনার ওপর সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাও অনেক বেশি। মানুষের এই প্রত্যাশাকে কীভাবে দেখছেন?

 

সিদ্দিকুর: সাধারণ মানুষের এই প্রত্যাশাকে আমি অনুপ্রেরণা হিসেবে নিচ্ছি। তাদের এই প্রত্যাশা আমাকে চাপে ফেলছে না কোনো ক্রমেই বরং অ্যানার্জি দিচ্ছে। আমি যদি প্রস্তুতিটা যথাযথভাবে নিতে পারি, আশা করছি অনেক ভালো করতে পারব। এজন্য আমি সবার কাছেই দোয়া চাচ্ছি, আমি যেন ভালোভাবে অনুশীলন করতে পারি এবং ভালো করতে পারি।

 

প্রশ্ন: আপনার জন্য গলফে সবচেয়ে বড় মঞ্চ কোনটি? এশিয়ান ট্যুর কিংবা ইউরোপীয়ান ট্যুর নাকি অলিম্পিক?

 

সিদ্দিকুর : আমার মনে হচ্ছে, অলিম্পিকটাই সবচেয়ে বড় ইভেন্ট। এখানে আমি অংশগ্রহণ করতে পারার সুযোগকেই অনেক কিছু মনে করছি। আমার কাছে এটা স্মরণীয় ঘটনা। তবে যদি কোনো একটা ট্রফি জিতে পারি সেটা অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে।  

 

প্রশ্ন: কেন এটি বড় মঞ্চ?

 

সিদ্দিকুর: অলিম্পিক হয় চার বছর পর পর। এই ইভেন্টে এখনো কোনো বাংলাদেশি সরাসরি খেলার সুযোগ পায়নি। সেই সুযোগটা আমি পাচ্ছি। তা ছাড়া অলিম্পিকে সুযোগ পাওয়ায় আমি যেমন সাড়া পেয়েছি এর আগে ট্রফি জিতেও এতো বেশি সাড়া পাইনি। সে কারণেই সব কিছু মিলে আমার কাছে মনে হচ্ছে এটা সবচেয়ে বড় মঞ্চ।

 

প্রশ্ন: দেশের মানুষের প্রত্যাশা আপনাকে চাপে ফেলে দিচ্ছে না তো?

 

সিদ্দিকুর : না, না কোনো ক্রমেই এই প্রত্যাশা আমাকে চাপে ফেলছে না। বরং এখান থেকে আমি আরও অনুপ্রাণিত হচ্ছি। আমাকে উৎসাহ দিচ্ছে।

 

প্রশ্ন: বিদেশের মাটিতে আপনি যতটা ভালো খেলেন, ততটা পারেন না দেশের মাটিতে, সমস্যা কোথায়?

 

সিদ্দিকুর : এটাই খেলা। কখনো হবে আবার কখনো হবে না। এটা খেলারই অংশ। তবে যাতে কোনো ভুল না হয় এজন্য অনেক বেশি কাজ করছি। আমি আমার সেরাটাই দেওয়ার চেষ্টা করছি। ভালো খারাপ তো হতেই পারে। সেটা মেনে নিতেই হবে।

 

প্রশ্ন: খুব কাছে গিয়েও ইউরোপিয়ান ট্যুরের শিরোপা জিততে পারেননি। অলিম্পিকে যদি একই রকম পরিস্থিতিতে পড়েন! সে বিষয়ে কোনো প্রস্তুতি নিয়েছেন কি?

 

সিদ্দিকুর : এবার সব রকম কাজই করছি। কোনো গ্যাপ রাখছি না। আপনারা হয়তো জানেন না আমি কতো বেশি কাজ করছি। আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। এরপরও খারাপ হলে আমার আফসোস থাকবে না। তবে খারাপটা নিয়ে ভেবে বসে থাকলে তো চলবে না। তাহলে আমি আরও পিছিয়ে পড়ব।

 

প্রশ্ন: দেশের গলফ এগিয়ে নিতে আপনার পরামর্শ কি?

 

সিদ্দিকুর: এসব নিয়ে আমার কোনো হেডেক নেই। এটা নিয়ে কুর্মিটোলা গলফ ক্লাব অনেক কাজ করছে। আমরা যারা পাইপলাইনে রয়েছি তাদের দায়িত্ববোধ সম্পর্কে আরও সচেতন হতে হবে। এখানে কেউ কাউকে হাতে ধরে শিখিয়ে দিতে পারে না। এটা একান্তই নিজের বিষয়। পৃথিবীটা আমার, আমি আমার নিজেকে কিভাবে তুলে ধরবো সেটা আমার ওপরই নির্ভর করবে। বাংলাদেশে কুর্মিটোলা গলফ ক্লাব আমাদেরকে যতটা সাপোর্ট দিচ্ছে আমি মনে করি যথেষ্ঠ।

 

প্রশ্ন: আপনি ২০১০ সালে ব্রুনাই ওপেন এবং ২০১৩ সালে ইন্ডিয়ান ওপেন জিতেছেন। সম্প্রতি মরিশাসে ইউরোপীয়ান ওপেনেও শিরোপার দ্বারপ্রান্তে গিয়েছিলেন। কিন্তু আপনি ছাড়া অন্য কোনো গলফার বিদেশের মাটিতে ভালো করতে পারছেন না কেন?

 

সিদ্দিকুর: কার কতোটুকু দায়িত্ববোধ রয়েছে, কে কতোটুকু অনুশীলন করে তার ওপরই নির্ভর করে ফলাফল।

 

প্রশ্ন: বাংলাদেশের গলফের ভবিষ্যৎ নিয়ে আপনার মূল্যায়ন?

 

সিদ্দিকুর: গলফে বাংলাদেশের সম্ভাবনা উজ্জ্বল। এখানে অনেক ভালো ভালো গলফার রয়েছে। এটা নিয়ে আলাদা করে বলার কিছু নেই। কার ভেতর ততোটা প্রতীভা লুকিয়ে রয়েছে সেটা বলা যায় না। দেখা যাবে কোনো একটা টুর্নামেন্ট জিতে গেল ওই খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ারটাই বদলে যাবে। তার মুভমেন্ট বদলে যাবে। আমার পাইপলাইনে যেসব গলফার আছে সবাই সম্ভাবনাময়। আমাদের দেশের গলফের ভবিষ্যত অনেক ভালো। তবে গলফের উন্নতিটা হয় ধীরে ধীরে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow