Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ২৫ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৪ জুলাই, ২০১৬ ২৩:২২
অঘটনে শুরু লিগ
মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম
অঘটনে শুরু লিগ
চট্টগ্রাম এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে পেশাদার ফুটবল লিগে শেখ রাসেল ও উত্তর বারিধারার বল দখলের লড়াই —বাংলাদেশ প্রতিদিন

মাঠের রণকৌশল ও শক্তিমত্তা সব সমীকরণে এগিয়ে ছিল শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র। ২০১২ সালের ট্রেবল জয়ী দলের সামনে উত্তর বারিধারা নিছক আন্ডার ডগ ছাড়া কিছুই নয়।

ম্যাচ জুড়েই বল দখল থেকে শুরু করে সব দিক দিয়ে আধিপত্য ছিল বিগ বাজেটের টিম শেখ রাসেলের। কিন্তু রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে হেরে যায় তারা। শেখ রাসেলের এ হারে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে শুরুতেই ঘটে যায় অঘটন।

দলের গুরুত্বপূর্ণ তিন স্ট্রাইকার জাহিদ  হোসেন এমিলি, শাখাওয়াত হোসেন রনি ও কমল ইনজুরিতে থাকায় অনেকটা শক্তি খর্ব হয়ে পড়ে শেখ রাসেলের।   কিন্তু ম্যাচের শুরুতে বেশিরভাগ সময় বলের নিয়ন্ত্রণ শেখ রাসেলের দখলে থাকলেও এমিলিদের অভাব ততটা পূরণ করতে পারেনি পল ও রুম্মন হোসেন। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে শেখ রাসেল। ম্যাচের ১৫ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ আসে তাদের। একটি সংঘবদ্ধ আক্রমণে বারিধারার দুর্গে ঢুকে পড়ে রুম্মন। কিন্তু তাকে অবৈধভাবে বাধা দেন রক্ষণভাগের খেলোয়াড় সোহেল রানা। এ সময় ফাউল করার কারণে ডি বক্সের সামান্য বাইরে থেকে ফ্রি কিক দেন রেফারি। কিন্তু পলের নেওয়া শটটি সহজেই রুখে দেয় বারিধারার গোলরক্ষক এরশাদ। এরপর আক্রমণের পর আক্রমণে বারিধারার দুর্গ কাঁপিয়ে তোলে শেখ রাসেল। কিন্তু ভাগ্য সহায়তা না হওয়ার কারণে কাঙ্ক্ষিত গোল পায়নি শেখ রাসেল। অতিরিক্ত সময়ে শেখ রাসেল এগিয়ে যাওয়ার সহজ সুযোগ পায়। ডান প্রান্ত থেকে শেখ রাসেলের রানা লব করেন। এ সময় ছোট বক্সে বল পেয়ে যান মধ্যমাঠের খেলোয়াড় জিয়ান ইকাঙ্গা। তিনি তড়িঘড়ি করে শট নিলে বলে চলে যায় গোল বারের বাইরে। এতে গোল বঞ্চিত হয় শেখ রাসেল। শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধে কোনো দলই গোল করতে পারেনি। তবে বলের দখল ক্রীড়া নৈপুণ্যে দর্শকদের মাতিয়ে রাখে শেখ রাসেলের খেলোয়াড়রা। ম্যাচের দ্বিতীয় অংশে এসেও ফুটবল নৈপুণ্য দেখিয়ে যেতে থাকে শেখ রাসেল। ৫৮ মিনিটে  রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তে অনেকটা স্রোতের বিপরীতে গোল খেয়ে বসে শেখ রাসেল। বারিধারার খেলোয়াড় মাজাহার পিছন থেকে ধাক্কা দেয় শেখ রাসেলের বাবলুকে। বল লেগে যায় বাবলুর হাতে। ডি বক্সের মধ্যে বল ধরার ‘অপরাধে’  পেনাল্টি দেয় রেফারি। সুযোগ পেয়ে পেনাল্টিতে গোল করতে ভুল করেনি সুবজ। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় বারিধারা ক্লাব। গোল খেয়ে আহত বাঘের মতো গর্জে ওঠে শেখ রাসেল। বয়ে দেয় আক্রমণের বন্যা। ৮৯ মিনিটে বারিধারার ডি বক্সের মধ্যেই এক খেলোয়াড়ের হাতে বল লাগলে শেখ রাসেলের খেলোয়াড়রা পেনাল্টির আবেদনও করে। কিন্তু রেফারি তাদের সেই আবেদন নাকচ করে দেন। অতিরিক্ত সময়ে দু দফায় গোল করে সমতায় ফেরার সুযোগ পায় শেখ রাসেল। কিন্তু জিয়ান ইকাঙ্গা গোলের সুযোগ মিস করে। শেষ মুহূর্তে পল গোল করে। কিন্তু রেফারি গোল বাতিল করে দেয়। ফলে ১-০ গোলে হার মানে বিগ বাজেটের টিম শেখ রাসেল।

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে শেখ রাসেলের প্রধান কোচ মারুফুল হক বলেন, ‘যেভাবে আমাদের বিরুদ্ধে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে ঠিক একই ঘটনা ঘটেছে বারিধারার ক্ষেত্রে। কিন্তু তার পরও বারিধারার পক্ষে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। বল বারিধারার খেলোয়াড়ের হাতে লাগলেও রেফারি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেননি। ’

এদিকে দিনের প্রথম ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ১-১ গোলে ড্র করেছে আরামবাগের সঙ্গে। প্রথমার্ধে ১৪ মিনিটে এমেকার গোলে এগিয়ে যায় ধানমন্ডি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আরামবাগের আবদুল্লাহ গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। ফেডারেশন কাপে শেখ জামালকে হারিয়ে ছিল আরামবাগ।

up-arrow