Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:৫৩
যেভাবে বোলিং কোচ হলেন
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর আমাকে ওয়ালশের নাম প্রস্তাব করে। ওয়ালশের নাম শোনার সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যাই
ক্রীড়া প্রতিবেদক

আগাম কিছু না জানিয়েই মাশরাফিদের বোলিং কোচের দায়িত্ব ছেড়ে দেন হিথ স্ট্রিক। জিম্বাবুয়ান বংশোদ্ভূত কোচ স্ট্রিক দায়িত্ব ছাড়ে টি-২০ বিশ্বকাপের পরপর। তার সরে দাঁড়ানোয় বিপাকে পড়ে যায় বিসিবি। ব্যস্ত হয়ে পড়ে বোলিং কোচের নিয়োগ দিতে। যোগাযোগ শুরু করে নানা দেশের হাইপ্রোফাইল কোচের সঙ্গে। আকিব জাভেদ, ভেঙ্কটেশ প্রসাদ, চামিন্দা ভাস, চম্পকা রামানায়েক থেকে শুরু করে কার্টলি অ্যামব্রোস, কোটর্নি ওয়ালশের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিসিবি। শেষ পর্যন্ত ওয়ালশকেই বেছে নেয় বিসিবি ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত। ওয়ালশকে বেছে নিতে বিসিবিকে দুহাত উজার করে সহায়তা করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড। ‘ওয়ালশকেই বেছে নিচ্ছে বিসিবি’-শিরোনামে ১২ আগস্ট বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় মাঠে ময়দানে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়ালশের নিয়োগের বিষয়টি জানিয়েছে বিসিবি। অবশ্য আগের দিনই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড প্রেস রিলিজ দিয়ে ওয়ালশের বিষয়টি বোলিং কোচ হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছিল।   

বিসিবির প্রথম পছন্দ ছিল পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য আকিবকে। দু পক্ষের আলাপ আলোচনা অনেকদূর এগিয়ে ছিল। কিন্তু স্ত্রীর চাকরি এবং পাকিস্তানে থাকার ইচ্ছার কারণেই আগ্রহ থাকার পরও মাশরাফিদের কোচ হননি। যদিও এক সপ্তাহের জন্য মাশরাফিদের বোলিং টিপস দিতে ঢাকায় এসেছিলেন আকিব। আকিবকে না পাওয়ায় বিসিবি যোগাযোগ করে শ্রীলঙ্কান লিজেন্ড ভাসের সঙ্গে। তার সঙ্গে আলাপ আলোচনা এগিয়ে যায় অনেকটা। অবশ্য বিসিবি সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ করে দুই ক্যারিবীয় লিজেন্ড অ্যামব্রোস ও ওয়ালশসের সঙ্গে। বিসিবির আগ্রহ ছিল অ্যামব্রোস। কারণ অ্যামব্রোসের কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। কিন্তু ক্যারিবীয় ক্রিকেট বোর্ডের সিইও ওয়ালশকে নিতে বলেন বিসিবির সিইও নিজামুদ্দিন চৌধুরী সুজনকে। টেস্টে ৫১৯ উইকেট ও ওয়ানডে ২২৭ উইকেট নেওয়া ওয়ালশের নাম প্রস্তাব হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই লুফে নেন বিসিবি সিইও, ‘আমাদের ইচ্ছা ছিল আকিব জাভেদ। যখন তাকে পেলাম না, তখন যোগাযোগ শুরু করি নানান জনের সঙ্গে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর আমাকে ওয়ালশের নাম প্রস্তাব করে। ওয়ালশের নাম শোনার সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যাই। কারণ, তার মতো লিজেন্ডারি ক্রিকেটারকে কোচ হিসেবে পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। ওয়ালশকে বোলিং কোচ হিসেবে পাওয়ার পর আমার বিশ্বাস বাংলাদেশের বোলিং মান অনেক উঁচুতে উঠবে।’

ওয়ালশ আপাদমস্তক একজন ভদ্রলোক হিসেবে পরিচিত ক্রিকেট বিশ্বে। ১৯ বছরের ক্যারিয়ারে কোনোদিন তাকে দেখা যায়নি আম্পায়ারদের সঙ্গে বাদানুবাদে লিপ্ত হতে। সবসময়ই হাসতে দেখা গেছে। দেখা গেছে কঠিন সময়েও প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতে। এমন একজন ক্রিকেটার শুধু কোচ হিসেবে নয়, একজন মেন্টর হিসেবেও কাজ করবেন বিশ্বাস বিসিবি সিইও, ‘ওয়ালশকে নিয়ে কিছু বলা হাস্যকর। অসাধারণ একজন ক্রিকেটার একজন ভালো মেন্টর হবেন, কোনো সন্দেহ নেই। মাশরাফি, তাসকিন, মুস্তাফিজদের মানসিকভাবে শক্তিশালী করবেন, কোনো সন্দেহ নেই। এমন একজন ক্রিকেটারের সঙ্গ পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। আমি বিশ্বাস করি, ওয়ালশ শুধু কোচ হিসেবেই নয়, মেন্টর হিসেবেও মাশরাফিদের অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবেন।’

up-arrow