Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:৫৬
ফেলপসের অবসর জীবন
রাশেদুর রহমান
ফেলপসের অবসর জীবন

অ্যারিজোনার স্কটসডেল গলফ এলাকা হিসেবেই পরিচিত। বিশ্ববিখ্যাত ফোনিশিয়ান গলফ ক্লাব এখানেই।

এই শহরের ছেলেমেয়েরা বড় হয়ে বিখ্যাত গলফার হওয়ার স্বপ্ন দেখে। টাইগার উডস হওয়ার স্বপ্ন দেখে। তবে এই ধারায় বুঝি একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। অ্যারিজোনার স্কটসডেলে ডেরা গেড়েছেন সর্বকালের সেরা সাঁতারু মাইকেল ফেল্পস। ডেরা বলতে ২৫ লাখ ডলারের (প্রায় ২০ কোটি টাকা!) আলিশান ম্যানসন। বাংলা অঞ্চলে প্রাচীন ‘জমিদার বাড়িগুলো’র সঙ্গে আধুনিক ম্যানসনের তুলনা হতে পারে। বিরাট এলাকাজুড়ে বাড়ি। এখানে সেবকদের জন্য আলাদা কোয়ার্টার। সুইমিংপুল, খেলার মাঠ আর ফল-ফুলের বাগান। ভারতে এক সময় মোঘল শাসকরা এমন বাড়ি তৈরি করতো। মাইকেল ফেল্পস এরই মধ্যে স্কটসডেলের সেই আলিশান বাড়িতে বসবাস শুরু করেছেন। সঙ্গে আছেন বান্ধবী নিকোল জনসন আর সাড়ে তিন মাসের ছেলে বুমার ফেল্পস।

মাইকেল ফেল্পস অ্যারিজোনার স্কটসডেলে আসায় এখানকার ছেলে-মেয়েদের মধ্যে সাঁতারের প্রতি বাড়তি আকর্ষণ দেখা দিবে নিঃসন্দেহে। ২৩টি অলিম্পিক সোনার পদকজয়ী এখন আমেরিকা কেন সারা দুনিয়ার ভবিষ্যৎ সাঁতারুদের প্রেরণা। রিও অলিম্পিকে পাঁচটা সোনা জিতে ২০০৪ সালে এথেন্স অলিম্পিকে শুরু হওয়া সফরের সমাপ্তি ঘোষণা করেছেন মাইকেল ফেল্পস। আমেরিকার ‘দি ফ্লাইং ফিশ’ অলিম্পিক সোনা নিয়ে বাড়িতে ফিরেই সুইমিংপুলে নেমে পড়েছেন হবু স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে। অনুশীলন করছেন তিনি অবসর জীবনেও। তবে এরই মধ্যে গুঞ্জন শুরু হয়েছে, অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ‘দি ফ্লাইং ফিশ’। টিএমজেড এমনটাই জানিয়েছে। মাইকেল ফেল্পস বাল্টিমোর থেকে সম্ভবত এ কারণেই অ্যারিজোনাতে পাড়ি জমিয়েছেন। এখানে তার ছয় হাজার স্কয়ার ফুটের বাড়ি দাঁড়িয়ে আছে প্রায় এক একর জমির উপর। বাড়িতে রয়েছে পাঁচটা বেড রুম, ৬টা বাথরুম আর ৪টা ফায়ার প্লেস। এর মধ্যে একটা মাস্টার স্যুইটও রয়েছে। আছে বিশাল ব্যাকইয়ার্ড। সুসজ্জিত আলিশান বাড়িটা দেখলেই মনে পড়বে প্রাচীন আমলের কোনো রাজ বাড়ির কথা। যেখানে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের প্রায় সবগুলো উপকরণ বিদ্যমান। আর হবে না-ই বা কেন! সাঁতারু জীবনের প্রাইজমানি দিয়েই তো তিনি সারা জীবন আড়ম্বরপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারেন। ফেল্পস নিজের বাড়ি সম্পর্কে বলেন, ‘আমাদের ব্যাকইয়ার্ডটা বিশাল। ক্যামেলব্যাক মাউন্টেন এখান থেকে দারুণ দেখা যায়। আমাদের ব্যাকইয়ার্ডে গেলে দেখবেন সেখানে কমলা, আপেল, লেবু, জাম এবং আরও অনেক ফল গাছ রয়েছে। ’ সবুজের মধ্যে এক দারুণ আবাসস্থল গড়ে তুলেছেন মাইকেল ফেল্পস। তার ছেলে বুমার ফেল্পসও কী বাবার মতো এমনই মহাতারকা হতে পারবেন! ছেলের জন্যই তো আলিশান বাড়িতে এক আলিশান সুইমিংপুলও তৈরি করেছেন মাইকেল ফেল্পস।

মাইকেল ফেল্পস অলিম্পিক গেমস, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ এবং প্যান প্যাসিফিক চ্যাম্পিয়নশিপে মোট ৬৬টা সোনার পদকসহ ৮৩টা পদক জিতেছেন। আর কত বিশ্ব রেকর্ডের মালিক যে এর হিসাবটাও তো বেশ দীর্ঘ। মাইকেল ফেল্পস অবসরে চলে যাওয়ার পর সুইমিং পুলে এখন আর সেই ঝড় উঠবে না। তবে ভক্তরা আশায় থাকতেই পারে, ফেল্পসের প্রশিক্ষণে হয়তো নতুন কোনো ফেল্পস গড়ে উঠবে!

up-arrow