Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : রবিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:৫২
ইতিহাস গড়ল কৃষ্ণারা
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ইতিহাস গড়ল কৃষ্ণারা

রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার দশেক দর্শক একসঙ্গে চিৎকার করে বলে উঠেন ‘বাংলাদেশ’, ‘বাংলাদেশ’। মামুনুলদের টানা ব্যর্থতায় ক্রীড়াপ্রেমীরা যখন মুখ ঘুরিয়ে নিচ্ছিলেন ফুটবল থেকে, তখন মার্জিয়া, শামসুন্নাহার, কৃষ্ণা রানীদের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ সবাই।

আবারও আনন্দ, উৎসবে মাতিয়ে তোলেন দেশবাসীকে। ১৬ কোটির মানুষের দেশ বাংলাদেশকে উৎসবে পরিণত করেন কৃষ্ণারা। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। মহিলা ফুটবল ইতিহাসে এই প্রথম চূড়ান্ত পর্বে খেলছে বাংলাদেশ। চূড়ান্ত পর্বে খেলতে গতকাল ৪-২ গোলে হারিয়েছে চাইনিজ তাইপেকে।

আসরে এখনো সব কয়টি দলের একটি করে ম্যাচ বাকি। তারপরও এক ম্যাচ হাতে রেখে চূড়ান্ত পর্বে খেলবে গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে আগামী বছর চীনে। বাংলাদেশ চূড়ান্ত পর্বে জায়গা নিয়েছে বাইলজ অনুযায়ী। এএফসি বাইলজের ১১.২ ধারা অনুযায়ী পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দলগুলোর মধ্যে ‘হেড টু হেড’ জয়ী দল এগিয়ে যাবে। সে হিসেবে বাংলাদেশ যদি শেষ ম্যাচ হেরেও যায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে এবং ইরানকে হারায় চাইনিজ তাইপে, তখন বাংলাদেশ ও তাইপের পয়েন্ট হবে ১২। ‘হেড টু হেড’ বিচারে বাংলাদেশ জয়ী থাকায় চূড়ান্ত পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করল।               

জাতীয় সঙ্গীত যখন গাইছিলেন শামসুন্নাহার ও কৃষ্ণা রানীরা তখন তাদের চোখে মুখ ঠিকরে বেরুচ্ছিল আত্মবিশ্বাসের ছবিটা। আগের তিন ম্যাচে ইরান, সিঙ্গাপুর ও কিরগিজস্তানের বিপক্ষে সহজ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে গতকাল ফ্লাড লাইটের আলোয় খেলতে নামে। প্রতিপক্ষ আসরের অন্যতম ফেবারিট চাইনিজ তাইপে। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার টার্গেটে ময়দানি লড়াইয়ে নামে দুই দল। শুরুতে আক্রমণে যায় তাইপে।   তবে কাউন্টার অ্যাটাকে বল উ দাই লিংয়ের শট গোলরক্ষক মাহমুদা দুর্দান্তভাবে রক্ষা করেন। ১১ মিনিটে চোখ ধাঁধানো গোলে এগিয়ে যায় চাইনিজ তাইপে। বক্সের মাথা থেকে দারুণ গোল করে সু ইউ হুসান (১-০)। গোল খেয়েই খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে শামসুন্নাহাররা। ২৬ মিনিটে বাংলাদেশ সমতা আনে পেনাল্টিতে। বক্সের মধ্যে শেষ ডিফেন্ডার জেং চাও ই ফাউল করে ফেলে দেন কৃষ্ণাকে। রেফারি সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান এবং দুই হলুদ কার্ডে মাঠ ছাড়েন চেং। শামসুন্নাহার মাথা ঠাণ্ডা রেখে সমতা আনেন (১-১)। সমতায় ফেরার পর আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ। ৩৭ মিনিটে ফের পেনাল্টি পায় স্বাগতিকরা এবং এবারও দলকে ২-১ গোলে এগিয়ে নেন শামসুন্নাহার। দ্বিতীয় গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। ৪১ মিনিটে অনুচিং মগিনির ডান পায়ের শট ক্রস পিঠে লাগলে তৃতীয় গোল পায়নি বাংলাদেশ।   ২-১ গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় কৃষ্ণা রানীরা।  

বিরতির পর আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দেয় স্বাগতিকরা। ডান-বাম প্রান্ত দিয়ে মুহুর্মুহু আক্রমণে তাইপের রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখেন মার্জিয়া, শামসুন্নাহাররা। ৫৬ মিনিটে স্বাগতিকরা আদায় করে তৃতীয় গোল। এবারের গোলটি ছিল পাসিং ফুটবলের ফল। অনুচিং মগিনি ও কৃষ্ণা ছোট ছোট পাসে ঢুকে পড়েন প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে। বক্সের মাথায় ঢুকে বলটি আলতো করে কৃষ্ণাকে বাড়িয়ে দেন মগিনি। কৃষ্ণা সময়ক্ষেপণ না করে বাঁ পায়ের জোরাল শটে ম্যাচের স্কোর করেন ৩-১। এই গোলের পরই প্রায় নিশ্চিত হয়ে পড়ে জয়। তারপরও মরিয়া কৃষ্ণা রানীরা আরও একটি গোল করেন ৭৯ মিনিটে। গোলটি ছিল আত্মঘাতী (৪-১)। ৮৮ মিনিটে গোল ব্যবধান কমায় চাইনিজ তাইপে (৪-২)। এরপর বাংলাদেশ রক্ষণাত্মক ম্যাচ খেলতে থাকে এবং জিতেই মাঠ ছাড়ে।

টানা চার ম্যাচ জিতে বাংলাদেশের পয়েন্ট ১২। গোল ২২ গোলের বিপক্ষে ২টি। চাইনিজ তাইপের পয়েন্ট ৪ ম্যাচে ৯ এবং ২২ গোলের বিপক্ষে গোল সংখ্যা ৫টি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow