Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : সোমবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:৫১
আমরা একদিন বিশ্বকাপ জিতব
জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী
মেজবাহ্-উল-হক
আমরা একদিন বিশ্বকাপ জিতব
সাকিব আল হাসানের হাতে পুরস্কার তুলে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

শেখ কামালের নাম ঘোষণার পর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনের পরিবেশ কিছুটা ভারী হয়ে যায়! চারিদিকে মুহূর্তের নিস্তব্ধতা! কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে শেখ কামালের সংক্ষিপ্ত পরিচিত বর্ণনা করতে থাকেন ঘোষক। প্রধানমন্ত্রীর হাস্যোজ্জ্বল মুখটা হঠাৎ বিষাদে ছেয়ে যায়।

ভারাক্রান্ত হৃদয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রিয় ছোট ভাই শেখ কামালের পুরস্কারটা তার বন্ধু ও ঢাকা ক্লাবের সভাপতি শাহেদ রেজার হাতে তুলে দেন।

মিলনায়তনের বিষাদময় পরিবেশটা আবার হাস্যোজ্জ্বল হয়ে ওঠে সাকিব আল হাসানের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে তুমুল করতালি। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান যে জাতীয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের প্রাণ হিসেবে ছিলেন তা উপস্থিত সবার উচ্ছ্বাস দেখেই বোঝা যাচ্ছিল। ২০১২ সালে ক্রিকেটে বিশেষ অবদানের জন্য পুরস্কার পেয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।

ক্রিকেট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন যেন আকাশছোঁয়া। প্রধানমন্ত্রীর বিশ্বাস বাংলাদেশ একদিন বিশ্বকাপ জিতবে। সাকিব, মাশরাফিদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রয়েল বেঙ্গল টাইগার হিসেবেই বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা আত্মপ্রকাশ করেছে। পৃথিবীর সব দেশ এখন রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে হিসাব করে চলে। আমরা একদিন বিশ্বকাপ জিতব। ’

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের মেয়েরা এএফপি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেওয়ায় অভিভূত প্রধানমন্ত্রী। তবে মালদ্বীপের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচে জাতীয় ফুটবল দল লজ্জাজনকভাবে ৫-০ গোলে হেরে যাওয়া নিয়েও রসিকতা করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মেয়েরা ১০ গোল দেয় আর ছেলেরা ৫ গোল খায়!’ প্রধানমন্ত্রীর বিশ্বাস সাময়িক খারাপ করলেও ছেলেরা এক সময় ভালো করবে। খেলাধুলাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে ৬ এপ্রিলকে জাতীয় ক্রীড়া দিবস হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

২০১১ সালের পুরস্কার বিজয়ী হিসেবে সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলটের নাম ঘোষণার পরও যেন করতালিতে মিলনায়তন প্রকম্পিত হচ্ছিল। ক্রিকেটে পাইলটের অবদান সম্পর্কে কে না জানে? ১৯৯৭ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে কেনিয়ার বিরুদ্ধে তার ছক্কার দৃশ্যটি এখনো ক্রিকেটামোদীদের চোখে ভাসে! এক সময় এশিয়ার সেরা উইকেটরক্ষক ছিলেন। খেলোয়াড়ি জীবনে অনেক পুরস্কার পেয়েছেন পাইলট কিন্তু গতকালের পুরস্কারটি তার জন্য বিশেষ কিছু। বাংলাদেশ প্রতিদিনকে তিনি বলেন, ‘এই পুরস্কার আমার জীবনের সেরা স্বীকৃতি। খুবই ভালো লাগছে। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। ’ পুরস্কারটি পাইলট তার বাবাকে উৎসর্গ করেন। মরণোত্তর পুরস্কার পেয়েছেন বিশ্ব মানের হকি খেলোয়াড় জুম্মান লুসাই। ১৯৮৫ সালে তিনি পাকিস্তানের করাচিতে অনুষ্ঠিত ‘বিশ্ব একাদশ বনাম পাকিস্তান একাদশের’ খেলায় তিনি বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে বিশ্ব একাদশের হয়ে খেলেছেন। ১৯৮২ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ১৫ বছরের আন্তর্জাতিক হকি ক্যারিয়ারে বাংলাদেশের হয়ে দুর্দান্ত খেলেছেন। ২০১৫ সালে এই কৃতী হকি খেলোয়াড় না ফেরার দেশে চলে যান। গতকাল পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আসা তার বড় বোন আপসোসের সুরে বলেন, ‘লুসাই নিজে হাতে পুরস্কারটা নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পারল না। ও বেঁচে থাকলে খুব খুশি হতো। ’ লুসাইকে মনোনীত করা হয়েছে ২০১১ সালের জন্য। সঠিক সময়ে পুরস্কারটি প্রদান করা হলে নিজ হাতেই পুরস্কার নিতে পারতেন লুসাই।

গতকাল মোট ৩২ জন ক্রীড়াবিদকে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ২০১০ সালে জন্য ১০ জন, ২০১১ সালের জন্য ১০ এবং ২০১২ সালের জন্য ১২ জন ক্রীড়াবিদকে পুরস্কৃত করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা ও একটি করে স্বর্ণ পদক প্রদান করা হয়। ১৯৭৬ সাল থেকে জাতীয় পুরস্কার ক্রীড়া পুরস্কার প্রদান করা হয়। এখন পর্যন্ত ১৮৮ জন ক্রীড়াবিদ এই পুরস্কার পেয়েছেন। গতকাল ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন সিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জাহিদ আহসান রাসেল। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকতার উদ্দিন আহমেদ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান ও অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাসহ জাতীয় দলের অন্যান্য ক্রিকেটাররা উপস্থিত ছিলেন।

 

পুরস্কার পেলেন যারা

২০১০ : মো. হারুন-উর-রশীদ (সাঁতার), আতিকুর রহমান (শুটিং), মাহমুদা বেগম (অ্যাথলেটিকস), নেলি জেসমিন (অ্যাথলেটিকস), দেওয়ান মো. নজরুল হোসেন (জিমন্যাস্টিকস),  মো. মিজানুর রহমান মানু (সংগঠক), এ এস এম আলী কবির (সংগঠক), মো. তকবির হোসেন (সাঁতার, মরণোত্তর), ফরিদ খান চৌধুরী (অ্যাথলেটিকস) এবং শারীরিক প্রতিবন্ধীদের ক্রীড়ায় বিশেষ সাফল্যের জন্য বেগম নিপা বোস (অ্যাথলেটিকস)।

২০১১ : বেগম রওশন আরা ছবি (জিমন্যাস্টিকস), সার্জেন্ট মো. কাঞ্চন আলী অবসরপ্রাপ্ত (বক্সিং), মো. আশরাফ আলী (রেসলিং), বেগম  হেলেনা খান ইভা (ভলিবল), খালেদ মাসুদ পাইলট (ক্রিকেট), মো. রবিউল ইসলাম (ফটিক দত্ত) (শরীরগঠন), জুম্মান লুসাই (হকি, মরণোত্তর), কুতুবউদ্দিন মোহাম্মদ আকসির (সংগঠক), আশিকুর রহমান মিকু (সংগঠক) এবং শহীদ শেখ কামাল (ক্রীড়াবিদ এবং সংগঠক, মরণোত্তর)।

২০১২ : সাকিব আল হাসান (ক্রিকেট), মো. মহসিন (ফুটবল), খুরশীদ আলম বাবুল (ফুটবল), আশীষ ভদ্র (ফুটবল), মো. আব্দুল গাফ্ফার (ফুটবল), সত্যজিৎ দাস রুপু (ফুটবল), ফিরোজা খাতুন (অ্যাথলেটিকস), নাজিয়া আখতার জুথি (ব্যাডমিন্টন), কাজী রাজিবউদ্দিন আহমেদ চপল (সংগঠক), মামুনুর রশিদ (হকি), উন্মে সালমা রফিক (সংগঠক, মরণোত্তর) এবং নুরুল আলম চৌধুরী (সংগঠক)।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow