Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৪৬
ঘরের মাঠেও ভুটানকে হারাতে পারল না
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ঘরের মাঠেও ভুটানকে হারাতে পারল না
ভুটানের গোলমুখে গতকাল বারবার আক্রমণ করে বাংলাদেশ দল। কিন্তু স্টাইকারদের ব্যর্থতায় কোনো গোল আদায় করতে পারেননি তারা —বাংলাদেশ প্রতিদিন

বাজি ধরেছিলেন কোচ টম সেইন্টফিট। মামুনুলসহ পাঁচ অভিজ্ঞ ফুটবলারকে ম্যাচের বাইরে রেখে নবীন ফুটবলারদের নিয়েই এশিয়ান কাপ ফুটবলের প্লে-অফ ম্যাচে দুর্বল ভুটানকে হারাতে চেয়েছিলেন।

কিন্তু স্ট্রাইকার মোহাম্মদ জীবন, শাখাওয়াত হোসেন রনির লাগাতার ব্যর্থতায় গোলশূন্য থেকেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে।

দিনকয়েক আগে প্রীতি ম্যাচে মালদ্বীপের কাছে ৫-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। গতকাল ভুটানের মতো দুর্বল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেও জিততে পারেনি আশরাফুলরা। ব্যর্থতার বৃত্তেই রয়ে গেলেন তারা। এমন লজ্জা এর আগে কোনো দিন পায়নি এ দেশের ফুটবল। এক সময় যে দলের বিপক্ষে গোল উত্সবে মাততো দল, সেই ভুটানের বিপক্ষে এখন মাঠে নামতে হয় ম্যাচ বাঁচানোর টার্গেটে! এর চেয়ে লজ্জা আর কী হতে পারে! ঘরের মাঠে ভুটানের বিপক্ষে লজ্জাজনক ড্রয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে আগামী ১০ অক্টোবর গ্যাংটকে অ্যাওয়ে মাচ খেলবে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে যদি ন্যূনতম ১-১ গোলে ড্র করতে পারে তাহলে অ্যাওয়ে গোলের সুবিধায় পরবর্তী রাউন্ডে খেলার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ।

ম্যাচ শুরুর ঘণ্টাখানেক আগে ধুম বৃষ্টিতে ধুয়ে যায় মাঠ। হয়ে পড়ে পিচ্ছিল। জায়গায় জায়গায় পানি জমে ভারি হয়ে পড়ে মাঠ। পরিচিত আবহাওয়া ও পরিবেশের এমন সুবিধাকে কাজে লাগাতে পারেনি স্বাগতিকরা। স্ট্রাইকার শাখাওয়াত হোসেন রনির লাগাতার ব্যর্থতায় গোলের দেখা পায়নি সেইন্টফিটের শিষ্যরা। প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক ম্যাচে প্রথম খেলতে নামা স্ট্রাইকার মো. আবদুল্লাহ, মিডফিল্ডার জাফর ইকবাল ও স্ট্রাইকার সোহেল রানাকে নিয়ে আক্রমণাত্মক মেজাজেই শুরু করে স্বাগতিক দল। অবশ্য প্রথম আক্রমণে যায় নিজভূমে আর্টিফিশিয়াল মাঠে খেলা ভুটান। দ্বিতীয় মিনিটে মামুনের ভুলে সুযোগ পেয়ে যায় সফরকারীরা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে রায়হানের ট্যাকলে বেঁচে যায় বাংলাদেশ। ঘরের মাঠের সুবিধায় ১৬ মিনিটে প্রথম গোলের সুযোগ সৃষ্টি করে স্বাগতিকরা। ডান প্রান্ত দিয়ে দুরন্ত গতিতে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে ঢুকে মামুন বক্সে মাথা থেকে ক্রস করেন। ফাঁকায় দাঁড়ানো রনি তাড়াহুড়া করতে গিয়ে ঠিকমতো টোকা দিতে পারেননি। ফলে বল তার নির্দিষ্ট ঠিকানা খুঁজে পায়নি। নিশ্চিত গোল বঞ্চিত হয় সেইন্টফিটের সদস্যরা। পরের মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে বিরিন বাসনাতের শট পরাস্ত করতে পারেনি আশরাফুলকে। ওই আক্রমণ সামলে আক্রমণের গতি বাড়িয়ে দেয় সেইন্টফিটের শিষ্যরা। জয়ের জন্য মরিয়া রনি, মামুনরা ২২ মিনিটে ফের গোলের সুযোগ সৃষ্টি করেন। এবারও রনির ব্যর্থতায় মাথা নিচু করেই থাকতে হয়। বাম প্রান্ত থেকে রুবেল মিয়ার মাপা ক্রসে দ্রুত হেড করেন রনি। কিন্তু আগুয়ান গোলরক্ষক হরি গুরং দৃঢ়তার সঙ্গে ঝাঁপিয়ে তা রক্ষা করেন। ফলে হতাশ ভর করে বাংলাদেশ শিবিরে। গোল না পেলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখে দেয় স্বাগতিকরা। ৪১ মিনিটে দলকে আবারও হতাশায় ডোবান রনি। প্রথমার্ধে রনি একাই তিন তিনটি নিশ্চিত গোল মিস করেন।

প্রথমার্ধে রনির ব্যর্থতায় কোচ আরও তিনটি পরিবর্তন আনেন একাদশে। কোনো লাভ হয়নি তাতে। রনি-জীবন-তপুরা মুহুর্মুহু আক্রমণ করে গোলের সুযোগ সৃষ্টি করেন। কিন্তু প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক হরি গুরংকে পরাস্ত করতে পারেননি। অতিরিক্ত সময়ে তিন তিনটি গোলের সুযোগ সৃষ্টি করে স্বাগতিক দল। এর মধ্যে মোহাম্মদ জীবন দুই মিনিটের ব্যবধানে দু-দুটি সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করে কান্নায় ভাসান মাঠে উপস্থিত হাজার পাঁচেক দর্শককে। গত এক বছরে বাংলাদেশ এতটা ভালো ফুটবল যেমন খেলেনি, তেমনি একই সঙ্গে যুব কিংবা জাতীয় পর্যায়ে স্ট্রাইকারদের এতটা মিস করতে দেখা যায়নি। ৯০ মিনিটের ম্যাচে এক-দুটি নয়, ছয় ছয়টি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন রনি, জীবন, সোহেল রানারা। প্রথমার্ধে রনির এবং দ্বিতীয়ার্ধের অতিরিক্ত সময়ে যে গোলটি মিস করেন জীবন, সেটা পুরোপুরি ক্ষমার অযোগ্য। স্ট্রাইকারদের ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য থেকেই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। ফিফা স্বীকৃত এখন পর্যন্ত ম্যাচে হারেনি বাংলাদেশ। চার জয়ের বিপক্ষে ড্র করেছে দুটি।

up-arrow