Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:৪৮
বাফুফের দায়িত্বহীনতা
ক্রীড়া প্রতিবেদক
বাফুফের দায়িত্বহীনতা
বাংলাদেশকে বিরল সাফল্য এনে দেওয়া মহিলা ফুটবলারদের উল্লাস। কিন্তু ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথে বাফুফের দায়িত্বহীনতায় তারাই কিনা ভোগান্তির শিকার —ফাইল ফটো

পুরুষ ফুটবলে বড্ড দুর্দিন যাচ্ছে। জাতীয় দল কোনোভাবেই ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। জয় যেন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে স্বপ্নে পরিণত হয়েছে। মালদ্বীপের কাছে প্রীতি ম্যাচে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে। ঘরের মাঠে এশিয়ান কাপ প্লে-অফ ম্যাচে দুর্বল ভুটানের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছে। আগামী মাসে থিম্পুতে অ্যাওয়ে ম্যাচে বাংলাদেশের অগ্নিপরীক্ষা। জিততে না পারলে দীর্ঘ সময় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের বাইরে থাকবে বাংলাদেশ। ফুটবলে এমন করুণ দশায় দেশবাসী হতাশ। পুরুষরা ব্যর্থ হলেও মেয়েরা দেশকে সাফল্য এনে দিচ্ছে। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ ফুটবলে বাংলাদেশের কিশোরীরা দুবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। অনূর্ধ্ব-১৬ বাছাইপর্বে কিশোরীরা রীতিমতো ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। ঢাকায় অনুষ্ঠিত এ আসরে ইরান, সিঙ্গাপুর, কিরগিস্তান, চাইনিজ তাইপে ও সংযুক্ত আরব আমীরাতকে গোলের বন্যায় ভাসিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

শিরোপা জয়ে প্রথমবারের মতো জায়গা করে নিয়েছে চূড়ান্ত পর্বে। আগামী বছর চীনে সেরা আট দলের মধ্যে চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। এমন বিরল সাফল্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহিলা দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। মহিলা ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ বলেছেন, তার চোখ এখন বিশ্বকাপে। সত্যি কথা বলতে কি বিশ্বকাপ খেলা চাট্টিখানি কথা নয়। বাছাইপর্বে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়তে হবে। তবে বাংলার মেয়েরা যে পারফরম্যান্স প্রদর্শন করছে তা ধরে রাখতে পারলে একদিন বিশ্বকাপে খেলা অবাকের কিছু হবে না। কথা উঠেছে বাফুফে মেয়েদের প্রতি সেভাবে নজর রাখতে পারবে কিনা। কেননা কর্মকর্তাদের কথা ও কাজের মিল থাকে না। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ বাছাইপর্বে চমক দেখানোর পরও মেয়েদের প্রতি যে আচরণ করা হয়েছে তাতে গোটা দেশই ক্ষুব্ধ। বাফুফে কতটা যে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে তা প্রমাণ মিলে মেয়েদের যাতায়াতের ব্যবস্থা নিয়ে। বাছাইপর্বে খেলা ৯ ফুটবলারের বাড়ি ময়মনসিংহ কলসিন্ধুতে। ঈদের ছুটি পেয়েছে, তাই বাসায় ফিরে ঈদ করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাদেরকে কিনা পাঠানো হলো লোকাল বাসে। দেশকে তারা এত বড় সাফল্য এনে দিয়েছে এখন কোন যুক্তিতে ৯ জনকে লোকাল বাসে পাঠানো হলো?

বাফুফের নির্বাচনে কোটি কোটি টাকা উড়েছে। ফুটবল ফেডারেশন স্পন্সরশিপও পাচ্ছে প্রচুর। সেক্ষেত্রে বাড়ি ফেরার জন্য বাফুফে তাদের জন্য আলাদা ট্রান্সপোর্টের ব্যবস্থা করতে পারত না? বাফুফে সহ-সভাপতি বাদল রায় বলেছেন, ৯ জনকে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিতে মাইক্রোবাসের ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু মেয়েরাই বলেছে তারা নিজ উদ্যোগে বাসায় যাবে। অথচ মার্জিয়া বেশ ক্ষোভের সঙ্গে বলেছেন, বাফুফের ব্যবস্থাপনায় বাড়ি পৌঁছতে পারলে আমরা দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতাম। বাবা-মাকে টেনশনে থাকতে হতো না। তহুরা আক্ষেপের সুরে বললেন ভাইয়ারাতো কত রকমের সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকেন। আমাদের জন্য কি সামান্য ট্রান্সপোর্টের ব্যবস্থা করতে পারে না। পথে পথে আমরা ভোগান্তির শিকার হয়েছি। অশ্লীল কটূক্তি শুনতে হয়েছে। একবার চিন্তা করে দেখুন আমরা কতটা ঝুঁকি নিয়ে বাড়িতে ফিরেছি।

জাতীয় মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কামরুন নাহার ডানা বলেন, মেয়েদের ফুটবল আমিই শুরু করি। নানা রকমের প্রতিকূলতার শিকার হয়েছি। মেয়েদের ফুটবল বাতিল না করলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। ভালো লাগছে সেই মেয়েরা এখন দেশের সুনাম বৃদ্ধি করছে। অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে কৃষ্ণা, মার্জিয়ারা চূড়ান্তপর্বে উঠেছে। এটা বাংলাদেশের জন্য বিশাল প্রাপ্তি। আমি মনে করি রাষ্ট্রীয়ভাবে এ কিশোরীদের সংবর্ধনা জানান উচিত। অথচ পত্র-পত্রিকায় দেখলাম তাদের লোকাল বাসে পাঠানো হয়েছে। মেয়েরা কটূক্তির শিকার হয়েছে। এমন জঘন্য অপরাধ মেনে নেওয়ার মতো নয়। শুধু লোকাল নয়, মেয়েদের সঙ্গে বাফুফের কোনো কর্মকর্তাই ছিলেন না। জানি না বাফুফে এমন ঝুঁকি নিল কেন? এখনতো না রকম অঘটন ঘটছে। যদি বড় ধরনের কিছু হয়ে যেত তাহলে কি অবস্থা হতো কেউ কি ভেবে দেখেছেন। আমি বলব এ ধরনের ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে। দেশের হয়ে খেলা মানে রাষ্ট্রীয় সম্পদ। আমি বিশ্বাস করি আগামীতে বাফুফে এ ব্যাপারে দায়িত্ববান হবে। তা-না হলে অভিভাবকরা মেয়েদের খেলতে পাঠাবেন না।

চ্যাম্পিয়নদের সংবর্ধনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী

এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ মহিলা বাছাইপর্বে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে বাংলাদেশ চূড়ান্তপর্বে উঠেছে। শিরোপ নিশ্চিত হওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেয়েদের অভিনন্দন জানান। শুধু তাই নয়, তাদের সংবর্ধনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ। তিনি বলেন, ১৬ সেপ্টেম্বরের পর সংবর্ধনার তারিখ নির্ধারণ হবে। উল্লেখ্য, এ মেয়েরাই অনূর্ধ্ব-১৪ ফুটবলে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল। ফুটবলে মেয়েদের ধারাবাহিক সাফল্যেই সংবর্ধনা দিতে যাচ্ছে সরকার।

up-arrow