Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:২৭
টাইগারদের নিয়ে ওয়ালশের ভাবনা
মেজবাহ্-উল-হক
টাইগারদের নিয়ে ওয়ালশের ভাবনা

কোনো রাখ ঢাক না করে প্রথম দিনের সংবাদ সম্মেলনেই কিংবদন্তি কোর্টনি ওয়ালশ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি বাংলাদেশের ক্রিকেটের ‘ফাদার ফিগার’ হতে চান। সেটাই তো স্বাভাবিক।

১৭ বছর যিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রাজত্ব করেছেন, তিনি কেন কোচিং ক্যারিয়ারে সেরা হতে চাইবেন না?

ইংল্যান্ডের ওয়ানডে অধিনায়ক ইয়ন মরগান ও তারকা ব্যাটসম্যান অ্যালেক্স হেলস বাংলাদেশে আসছেন না। খবরটি শোনার পর ওয়ালশ বিবিসি-কে বলেছেন তিনি অবাক হয়েছেন! ‘আমি বাংলাদেশ নিরাপদ বোধ করছি এবং আত্মবিশ্বাসী। ’ —ওয়ালশের এই বক্তব্যের পর নিজ দেশেই সমালোচনার মুখে পড়েছেন দুই ইংলিশ ক্রিকেটার। উইন্ডিজ কিংবদন্তির এমন কথায় ‘নিরাপত্তা’ নিয়ে যে সামান্য শঙ্কাটুকু ছিল সেটুকুও যেন উধাও! ওয়ালশ যেন টাইগারদের অভিভাবক— এমন সুরেই কথাই বলেছেন!

‘এক ঘরমে দো পীর’ —কোর্টনি ওয়ালশ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একটা ‘কল্পিত’ দ্বন্দ্ব শুরু হয়ে গেছে প্রধান কোচ হাতুরাসিংহের সঙ্গে! কিন্তু ঘটনা কি সত্যি তাই? হাতুরাসিংহের সঙ্গে কেন ওয়ালশের দ্বন্দ্ব লাগবে? ওয়ালশ বোলিং কোচ, হাতুরাসিংহে প্রধান কোচ। ওয়ালশ তার কাজে সফল হলে সাফল্যের অংশ তো হাতুরাসিংহের ঝুলিতেই যাবে। সে কথা জেনেই তো ওয়ালশ এসেছেন। প্রথম দিন ওয়ালশের মুখেও হাতুরার প্রশংসা শোনা গেছে। তারপরেও কি বিষয়টি নিয়ে ভাবার কারণ আছে?

খেলোয়াড়ি জীবনে সেরা ব্যক্তি, কোচিং ক্যারিয়ারেও সেরাই হতে চাইবেন। তা ছাড়া বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তো ওয়ালশকে তার কাজে সেরাটাই দেখতে চায়। সেজন্যই তাকে এনেছে। নচেত শুধু শুধু তার তারকা প্রোফাইল দিয়ে এখন বাংলাদেশের কি লাভ? ওয়ালশের নাম বিক্রি করে বাংলাদেশ বিশ্ব মিডিয়ায় শিরোনাম হবে এমন অবস্থায় নেই। এখন ক্রিকেটবিশ্বে টাইগারদের আলাদা অবস্থান রয়েছে। এই অবস্থান আরও পাকাপোক্ত করতেই আনা হয়েছে ক্যারিবীয় কিংবদন্তিকে।

ওয়ালশের ভাবনাতেও এখন কেবলই বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নয়ন। কোচিং ক্যারিয়ারের শুরুতেই একটা ক্যারিশমা দেখাতে চান তিনি। এর আগে টেস্ট খেলুড়ে কোনো দলের কোচ হিসেবে ছিলেন না ওয়ালশ। তাই বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তিটা তার কাছে পরীক্ষামূলকও বটে। তিনি কোচ হিসেবে কেমন করবেন, তার একটা পরিচয় পাওয়া যাবে।

উইন্ডিজ কিংবদন্তি বাংলাদেশে এসে কাজ করেছেন মাত্র তিন দিন। তারপর ঈদের ছুটিতে গেছেন। এই=। ওয়ালশও টাইগার পেসারদের নিয়ে ভীষণ আগ্রহী। তিনি বলেছেন, ‘এখানে যেসব তরুণ খেলে তাদের ব্যাপারে আমি খুবই আগ্রহী। এখানে আসার সিদ্ধান্তটা তাই এমনি এমনিই হয়ে গেল। ক্যারিয়ারে আমি কখনোই বাংলাদেশে খেলিনি। তবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সম্ভবত একটা ম্যাচ খেলেছি। আমি চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করি। আমার লক্ষ্যই থাকে দিন শেষে ভালো ফলাফল করা। এখানে আসতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। এখানকার তরুণরা দ্রুত অনেক উন্নতি করেছে। এর সঙ্গে আমি যদি একটুখানি সাহায্য করতে পারি, সেটাই হবে আসল। আশা করছি বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার সময় অনেক উন্নতি দেখতে পাব। ’

কিছুদিন আগেও বাংলাদেশ ছিল স্পিননির্ভর একটি দল। অনেক ম্যাচেই মাত্র একজন পেসার নিয়ে খেলেছে বাংলাদেশ। কিন্তু ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের পর থেকে সব কিছু কেমন যেন হঠাৎ পাল্টে গেল। হঠাৎ করে কেমন যেন বাংলাদেশ পেসনির্ভর দলে পরিণত হয়ে গেল। বাংলাদেশের বোলাররা এখন ১৪০ কিলোমিটারের উপরে গতিতে বোলিং করতে পারেন।

দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের মতো দলগুলোর বোলিং আক্রমণ পেসনির্ভর হওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে তার কন্ডিশন। কিন্তু উপমহাদেশের পরিবেশ সম্পূর্ণ আলাদা। কিন্তু এমন কথা মানতে রাজি নন ওয়ালশ। তিনি বলেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ভারতের শেষ সিরিজটির দিকে তাকান, ভারতের কিছু ফাস্ট বোলার আমাদের চমকে দিয়েছে। তাই আমি বলব উপমহাদেশের ফাস্ট বোলার হয়, এমনকি ভালোমানের ফাস্ট বোলারই হয়। এখন আসল ব্যাপার হচ্ছে তাদের পরিচর্যা কিভাবে হচ্ছে, তাদের ধরে রাখার ব্যাপারে কি উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে  সেটি আসল। আর এজন্যই আমার এখানে আসা। ছেলেদের বলব নিজেদের ওপর যে চাপ থাকবে সে ব্যাপারে সচেতন থাকতে, পাশাপাশি ফর্মেও থাকতে হবে। ’

ওয়েস্ট ইন্ডিজের আরেক তারকা ক্রিকেটার গর্ডন গ্রিনিজ বাংলাদেশের কোচ ছিলেন। গ্রিনিজের সময়ই বাংলাদেশ আইসিসি ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। গ্রিনিজের মুখে বাংলাদেশের কথা শুনে কিনা কোচ হওয়ার জন্য আগ্রহী ছিলেন ওয়ালশ। তিনি বলেন, ‘কোচ হওয়ার প্রস্তাব পাওয়ার পর গ্রিনিজের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়নি। তবে আগে আমি তার কাছে বাংলাদেশ সম্পর্কে জানতে চাইতাম। আমি দেখেছি বাংলাদেশের ক্রিকেটে অবদান রাখতে পারার বিষয়টি তাকে আনন্দিত করেছে। এ বিষয়টি আমাকে বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহী করে তুলেছিল। ’

বাংলাদেশে এখন বেশ কয়েকজন তারকা পেসার রয়েছেন। সবাই ফিট থাকলে দল গড়তে সমস্যাই হওয়ার কথা। জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া নিয়ে পেসারদের মধ্যে হতে পারে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ওয়ালশ বোলিং কোচের দায়িত্ব নেওয়ায় এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা যে আরও তীব্র হবে তা তো বলার অপেক্ষা রাখে না। আর এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাই তো সবার কাম্য!

up-arrow