Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০
সালাউদ্দিন চুন্নুদের মানের ফুটবলার কোথায়
ক্রীড়া প্রতিবেদক
সালাউদ্দিন চুন্নুদের মানের ফুটবলার কোথায়

ফুটবল গোলের খেলা। অথচ বিষয়টি যেন বাংলাদেশ ভুলেই গেছে।

সব সুযোগই কাজে লাগবে তা কেউ বলছে না। মেসি, নেইমার বা রোনালদোর মতো বিখ্যাত ফুটবলার গোল মিস করছেন। কিন্তু বাংলাদেশের ফুটবলারদের বেলায় তা যেন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কোনোভাবেই জাল স্পর্শ করতে পারছে না। গত দুই বছর ধরে একই অবস্থা। ঢাকায় এশিয়ান কাপ প্লে-অফ বাছাইপর্বে ভুটানের বিপক্ষে বাংলাদেশ ম্যাচ জিততে পারেনি। গোলশূন্য ড্র হয়েছে, অথচ যে সুযোগ নষ্ট হয়েছে তাতে লাল-সবুজরা সহজভাবে জিততে পারত। এক সাখাওয়াত হোসেন রনি যে কটি সুযোগ নষ্ট করেছেন তা যদি কাজে লাগান যেত আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে হ্যাটট্রিকের কৃতিত্ব পেয়ে যেতেন।

কথা হচ্ছে কেন এমন হচ্ছে। সহজ সহজ সুযোগ নষ্ট করে গোল মিস করতে হচ্ছে। অথচ প্রতিপক্ষের সামান্য আক্রমণে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে। রক্ষণভাগের দুর্বলতায় গোল হজম করছে। ফুটবলে আগে জনপ্রিয়তা তুঙ্গে থাকলেও বড় ধরনের সাফল্য ছিল না। তবে ফুটবলারদের মধ্যে চমৎকার সমন্বয় ছিল। কাজী সালাউদ্দিন, জাকারিয়া পিন্টু, শহিদুর রহমান শান্টু, চুন্নু, টুটুল, নান্নু, মঞ্জু, বাদল রায়, সালাম মুর্শেদী, আসলাম, কায়সার হামিদ, মোনেম মুন্না, সাব্বির, কানন বা সম্রাট হোসেন এমিলিরা এমনিতেই তারকা হননি। মাঠে যোগ্যতা প্রমাণ করে খ্যাতি পেয়েছেন। এখনো তাদের নাম ফুটবল প্রেমীদের মুখে মুখে। জাতীয় দলতো বটেই এক সময় বড় বড় দলে সাইড বেঞ্চে যারা বসে থাকতেন তারাও ছিলেন পরিচিত। আর কখনো সালাউদ্দিন, আসলামদের মতো খেলোয়াড়দের দেখা মিলবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

জাতীয় দলের কি দুর্দশা নেমে এসেছে। খেলোয়াড় চিনতে হয় জার্সি নম্বর দেখে। আলফাজ, নকিব, জুয়েল রানা, মাসুদ, রজনী, রানাদের পর সেই মানের খেলোয়াড় দেখা যাচ্ছে না। মামুনুল, জাহিদ এমিলি বা জাহিদরা নৈপুণ্য প্রদর্শন করলেও বাকিদের নিয়ে কোনো আলোচনাই নেই। কেউ কেউ অভিযোগ করে বলেন, সব সুযোগ সুবিধা ক্রিকেটাররা পাচ্ছে বলে ফুটবলে এমন ভয়াবহ ধস নেমেছে। হ্যাঁ, ক্রিকেটারদের সুযোগ সুবিধা বলতে বিসিবি থেকে তারা গ্রেড অনুযায়ী বেতন পেয়ে থাকেন। বাকি অর্থতো পাচ্ছেন ঘরোয়া আসর বা বিদেশি লিগ খেলে। অথচ বিস্ময়কর হলেও সত্যি যে লোকাল লিগে ফুটবলাররা এখনো বেশি পারিশ্রমিক পাচ্ছেন। সর্বোচ্চ ৬০ থেকে ২৫ লাখ টাকা আয় করছে এক মৌসুম খেলে। সালাউদ্দিন সাব্বিরদের সুযোগ সুবিধা বলতে লোকাল লিগের পারিশ্রমিকও ছিল। তাহলে তাদের পারফরম্যান্স দেখে দর্শকরা মুগ্ধ হয়ে যেতেন কেন? তারাতো আর ফুটবল ফেডারেশন থেকে বাড়তি কিছু পেত না।

আসলে দেশের ফুটবলে মান একেবারে নিচে নেমে গেছে। যা কোনোভাবেই পরিবর্তন করা যাচ্ছে না। তাহলে কি ফুটবল এমন দুর্দশায় বন্দী থাকবে? ভালোমানের ফুটবলারদের দেখা না মিললে সংকট কাটাবে না। বরং আরও বাড়বে। বাফুফে এ ব্যাপারে কি উদ্যোগ নিচ্ছে তা কারও জানা নেই। অথচ নির্বাচনের সময় প্রার্থীদের মুখে উন্নয়ন প্রতিশ্রুতির ঝড় বয়ে যায়। চেয়ারে বসলেই সব শেষ। তাহলে কি ফুটবল এভাবেই চলবে।

up-arrow